alt

অর্থ-বাণিজ্য

আট মাসে রাজস্ব আদায় পিছিয়ে ৫৮ হাজার কোটি টাকা

সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার নিরিখে এতটা পিছিয়ে থাকলেও আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে বেড়েছে পৌনে ২ শতাংশ

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক : শুক্রবার, ২১ মার্চ ২০২৫

জুলাই-অগাস্টের তুমুল আন্দোলন, সহিংসতা ও ক্ষমতার পালাবদলের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ব্যবসা-বাণিজ্য যে ধাক্কা খেয়েছিল সেই জের টানতে গিয়ে রাজস্ব আদায়ের সংশোধিত লক্ষ্যে রাশ টেনেও আহরণের ক্ষেত্রে সুবিধা করতে পারছে না জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

অর্থনীতিতে গতি ফেরানোর নানা পদক্ষেপের পরও চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারিতে রাজস্ব ঘাটতি ছাড়িয়ে গেছে ৫৮ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার নিরিখে পিছিয়ে আছে ২০ দশমিক ৮ শতাংশ। বছরের প্রথম আট মাসে দেশের প্রধান রাজস্ব আহরণকারী সংস্থাটি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে মোট রাজস্ব আয়ে এতটা পিছিয়ে থাকলেও আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে বেড়েছে পৌনে ২ শতাংশ।বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এনবিআরের হালনাগাদ পরিসংখ্যানের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৮০ হাজার ৫৯ কোটি ২১ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৮১৭ কোটি ৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ এ সময়ে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫৮ হাজার ২৪২ কোটি টাকা।

পুরো অর্থবছরের জন্য এনবিআরকে লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছিল ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। অর্থবছরের মাঝপথে এসে লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ কোটি করা হয়। গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের একই সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছিল দুই লাখ ১৭ হাজার ৯৭১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ গত অর্থবছরের তুলনায় তিন হাজার ৮৪৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা বেশি আদায় হয়েছে যা ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেশি।

রাজস্বের এ ঘাটতি কাটাতে সরকার সম্প্রতি শতাধিক পণ্য ও সেবায় মূল্য সংযোজন কর, সম্পূরক শুল্ক ও আবগারি শুল্ক বাড়িয়েছে। পরে ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টদের বাধা ও দাবির মুখে বহু পণ্যেই সেখান থেকে ফিরে আসার তথ্যও দিয়েছে এনবিআর।

২০২৪ সালের জুনে বাজেট ঘোষণার পর মূল্যস্ফীতি, ডলার সংকট, রিজার্ভের পতনসহ অর্থনীতিতে নানা সংকট শুরু হয়। বাজের পাসের দুই সপ্তাহের মধ্যে শুরু হয় শিক্ষার্থীদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন এবং এর ধারাবাহিকতায় অগাস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। আন্দোলনের ধাক্কা ও সরকার পতনের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়ার প্রেক্ষাপটে আমদানি, রপ্তানি ও উৎপাদনসহ অর্থনীতির সব সূচক ধীর হয়ে আসে। এমন পরিস্থিতিতে রাজস্ব আহরণ কমার ধারাও অব্যাহত থাকে।

তবে ডিসেম্বরে এসে একক মাসের হিসাবে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরতে দেখা গেছে রাজস্ব আহরণ। পরের মাস জানুয়ারিতেও তা বজায় ছিল। তবে ফেব্রুয়ারিতে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখলেও এ হার ধীর হয়ে পড়েছে। আগের অর্থবছরের একই মাসের চেয়ে বেড়েছে দশমিক ৯০ শতাংশ। এনবিআরের সবশেষ তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে আমদানি পর্যায়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৬৪ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে আদায় হয়েছে ৬৫ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ আহরণ কমেছে ১ দশমিক ৩০ শতাংশ কম।

স্থানীয় পর্যায়ে মূসক ও আবগারি শুল্ক খাতে চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৮৪ হাজার ২২৩ কোটি টাকা যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৮২ হাজার ৪০২ কোটি টাকা। রাজস্ব আদায় বেড়েছে ২ দশমিক ২১ শতাংশ। অপরদিকে আয়কর ও ভ্রমণ খাতে চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারিতে আদায় হয়েছে ৭৩ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা যা আগের অর্থবছরে একই সময়ে ছিল ৭০ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। এ হিসাবে আদায় বেড়েছে ৪ দশমিক ০৯ শতাংশ।

সবশেষ হালনাগাদ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের জানুয়ারিতে গত বছরের এ সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে; ডিসেম্বরে যা ছিল ৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে রাজস্ব আহরণ আগের দুই মাসের চেয়ে ধাক্কা খেয়ে বেড়েছে প্রায় পৌনে ২ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ সময় দেখেছে ক্ষমতার পালাবদলের মাস অগাস্ট। ওই মাসে তিন দিন সরকারবিহীন ছিল দেশ, যা এর আগে কখনও দেখা যায়নি।

সরকার পতনের পর পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীটির সদস্যরা নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ায় ব্যবসার পরিবেশ ছিল নাজুক। ব্যবসায়ীরা শুল্কায়ন করেও মাল খালাস ও গুদামে বা উৎপাদনস্থলে আনার সাহস করছিলেন না। এর প্রতিফলন দেখা গেছে অগাস্ট মাসের রাজস্ব আদায়ে। এ মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ দশমিক ৩০ শতাংশ রাজস্ব আদায় কম হয়েছে। রাজস্ব আদায়ে এর পরে সবচেয়ে খারাপ সময় গেছে নভেম্বরে। এ সময়ে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের শঙ্কা না দেখা গেলেও রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

ছবি

মার্চে প্রবাসী আয় নতুন রেকর্ড সৃষ্টি, ৩০০ কোটি ডলারের পথে

ছবি

পার্বত্য অঞ্চলে অর্ধশতাধিক টাওয়ার বন্ধ, চাঁদাবাজির অভিযোগ রবির

এলডিসি উত্তরণের কর্মকৌশল বাস্তবায়নে ছয় সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন

ছবি

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের নতুন এমডি শাফিউজ্জামান

স্টার্টআপ কোম্পানিকে বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ

ছবি

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন সীমা বাড়লো

মজুত বাড়াতে ভারত থেকে আরও ৫০ হাজার টন চাল কিনবে সরকার

ঋণখেলাপির নতুন নীতিমালা বাস্তবায়ন পেছানোর দাবি ব্যবসায়ীদের

ছবি

আইপিও আবেদনে বিনিয়োগের শর্ত তুলে নেয়ার সুপারিশ

ছবি

রেমিট্যান্সে রেকর্ড, একক মাস হিসেবে ইতিহাসের সর্বোচ্চ মার্চে

ছবি

রমজানের প্রথমার্ধে বিকাশে ৯০০ কোটি টাকারও বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে প্রবাসীরা

ছবি

বিনিয়োগ সম্মেলনে ঢাকায় আসবে জারা, স্যামসাং, মেটা, উবার, টেলিনর, টয়োটাসহ বড় বড় ব্র্যান্ড

ছবি

২৪ দিনে এল ২৭০ কোটি ডলার প্রবাসী আয়

৪০৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে মোংলা বন্দরের উন্নয়নে চীনের সঙ্গে চুক্তি

ডিভিডেন্ড বিতরণের শর্ত শিথিলতার দাবি

ছবি

ক্রেডিট কার্ডের তথ্য ১০ তারিখের মধ্যে দিতে নির্দেশ

মেগা নয়, কর্মসংস্থানের প্রকল্প নেয়া হবে: অর্থ উপদেষ্টা

মাতারবাড়ীসহ দুই প্রকল্পে ৫৮ কোটি ডলার দেবে জাপান

ছবি

আসছে আমানত সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ফেরত পাবে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা

ছবি

ব্যাংক দেউলিয়া হলে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা ফেরত পাবেন আমানতকারীরা

ছবি

ইএসকিউআর অ্যাওয়ার্ড পেলো বিসিপিসিএল

ছবি

বিনিয়োগে ভয় না পেতে ব্যবসায়ীদের পরামর্শ অর্থ উপদেষ্টার

ছবি

সমন্বয় করে অতিরিক্ত ছুটি নিতে পারবেন পোশাককর্মীরা

ছবি

এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন নিয়ে না ভেবে বাংলাদেশের প্রকৃত উন্নয়ন করতে হবে: লুৎফে সিদ্দিকী

ছবি

নতুন নোট রাখার জায়গা না থাকলে ব্যাংক থেকে তুলে নেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ছবি

বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে চাপ বেড়েছে

ছবি

শেয়ারবাজারে উত্থান, লেনদেন ৩০০ কোটি টাকার ঘরে

ছবি

এক হাজার কোটি টাকা ব্যাংকঋণ নিলে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি বাধ্যতামূলক

ছবি

ঈদে ৯ দিন ব্যাংক বন্ধ, এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা রাখার নির্দেশ

ছবি

৯০ দিনের মধ্যে দেশে স্টারলিংকের সেবা চালুর নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

টাকা ছাপিয়েও ব্যাংক রক্ষা করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে: পরিকল্পনা উপদেষ্টা

ছবি

ফেব্রুয়ারিতে এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি বেড়েছে

ছবি

সূচকের উত্থানে লেনদেন ছাড়ালো ৫০৪ কোটি

ভারত থেকে এলো সাড়ে ১১ হাজার টন চাল

বাংলাদেশে দারিদ্র্য কমেছে, কিন্তু অসমতা বেড়েছে: সেলিম জাহান

টানা ৯ দিন বন্ধ থাকবে শেয়ারবাজারের লেনদেন

tab

অর্থ-বাণিজ্য

আট মাসে রাজস্ব আদায় পিছিয়ে ৫৮ হাজার কোটি টাকা

সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার নিরিখে এতটা পিছিয়ে থাকলেও আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে বেড়েছে পৌনে ২ শতাংশ

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

শুক্রবার, ২১ মার্চ ২০২৫

জুলাই-অগাস্টের তুমুল আন্দোলন, সহিংসতা ও ক্ষমতার পালাবদলের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ব্যবসা-বাণিজ্য যে ধাক্কা খেয়েছিল সেই জের টানতে গিয়ে রাজস্ব আদায়ের সংশোধিত লক্ষ্যে রাশ টেনেও আহরণের ক্ষেত্রে সুবিধা করতে পারছে না জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

অর্থনীতিতে গতি ফেরানোর নানা পদক্ষেপের পরও চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারিতে রাজস্ব ঘাটতি ছাড়িয়ে গেছে ৫৮ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার নিরিখে পিছিয়ে আছে ২০ দশমিক ৮ শতাংশ। বছরের প্রথম আট মাসে দেশের প্রধান রাজস্ব আহরণকারী সংস্থাটি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে মোট রাজস্ব আয়ে এতটা পিছিয়ে থাকলেও আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে বেড়েছে পৌনে ২ শতাংশ।বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এনবিআরের হালনাগাদ পরিসংখ্যানের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৮০ হাজার ৫৯ কোটি ২১ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৮১৭ কোটি ৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ এ সময়ে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫৮ হাজার ২৪২ কোটি টাকা।

পুরো অর্থবছরের জন্য এনবিআরকে লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছিল ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। অর্থবছরের মাঝপথে এসে লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ কোটি করা হয়। গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের একই সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছিল দুই লাখ ১৭ হাজার ৯৭১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ গত অর্থবছরের তুলনায় তিন হাজার ৮৪৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা বেশি আদায় হয়েছে যা ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেশি।

রাজস্বের এ ঘাটতি কাটাতে সরকার সম্প্রতি শতাধিক পণ্য ও সেবায় মূল্য সংযোজন কর, সম্পূরক শুল্ক ও আবগারি শুল্ক বাড়িয়েছে। পরে ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টদের বাধা ও দাবির মুখে বহু পণ্যেই সেখান থেকে ফিরে আসার তথ্যও দিয়েছে এনবিআর।

২০২৪ সালের জুনে বাজেট ঘোষণার পর মূল্যস্ফীতি, ডলার সংকট, রিজার্ভের পতনসহ অর্থনীতিতে নানা সংকট শুরু হয়। বাজের পাসের দুই সপ্তাহের মধ্যে শুরু হয় শিক্ষার্থীদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন এবং এর ধারাবাহিকতায় অগাস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। আন্দোলনের ধাক্কা ও সরকার পতনের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়ার প্রেক্ষাপটে আমদানি, রপ্তানি ও উৎপাদনসহ অর্থনীতির সব সূচক ধীর হয়ে আসে। এমন পরিস্থিতিতে রাজস্ব আহরণ কমার ধারাও অব্যাহত থাকে।

তবে ডিসেম্বরে এসে একক মাসের হিসাবে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরতে দেখা গেছে রাজস্ব আহরণ। পরের মাস জানুয়ারিতেও তা বজায় ছিল। তবে ফেব্রুয়ারিতে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখলেও এ হার ধীর হয়ে পড়েছে। আগের অর্থবছরের একই মাসের চেয়ে বেড়েছে দশমিক ৯০ শতাংশ। এনবিআরের সবশেষ তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে আমদানি পর্যায়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৬৪ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে আদায় হয়েছে ৬৫ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ আহরণ কমেছে ১ দশমিক ৩০ শতাংশ কম।

স্থানীয় পর্যায়ে মূসক ও আবগারি শুল্ক খাতে চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৮৪ হাজার ২২৩ কোটি টাকা যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৮২ হাজার ৪০২ কোটি টাকা। রাজস্ব আদায় বেড়েছে ২ দশমিক ২১ শতাংশ। অপরদিকে আয়কর ও ভ্রমণ খাতে চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারিতে আদায় হয়েছে ৭৩ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা যা আগের অর্থবছরে একই সময়ে ছিল ৭০ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। এ হিসাবে আদায় বেড়েছে ৪ দশমিক ০৯ শতাংশ।

সবশেষ হালনাগাদ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের জানুয়ারিতে গত বছরের এ সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে; ডিসেম্বরে যা ছিল ৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে রাজস্ব আহরণ আগের দুই মাসের চেয়ে ধাক্কা খেয়ে বেড়েছে প্রায় পৌনে ২ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ সময় দেখেছে ক্ষমতার পালাবদলের মাস অগাস্ট। ওই মাসে তিন দিন সরকারবিহীন ছিল দেশ, যা এর আগে কখনও দেখা যায়নি।

সরকার পতনের পর পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীটির সদস্যরা নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ায় ব্যবসার পরিবেশ ছিল নাজুক। ব্যবসায়ীরা শুল্কায়ন করেও মাল খালাস ও গুদামে বা উৎপাদনস্থলে আনার সাহস করছিলেন না। এর প্রতিফলন দেখা গেছে অগাস্ট মাসের রাজস্ব আদায়ে। এ মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ দশমিক ৩০ শতাংশ রাজস্ব আদায় কম হয়েছে। রাজস্ব আদায়ে এর পরে সবচেয়ে খারাপ সময় গেছে নভেম্বরে। এ সময়ে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের শঙ্কা না দেখা গেলেও রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

back to top