image

একীভূত পাঁচ ব্যাংক, নতুন বছরের শুরুতে বদলে গেল সাইনবোর্ড, স্বাভাবিক লেনদেন চালু

বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬
অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

নতুন বছরের প্রথম দিনেই একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচ বাংকের সাইনবোর্ড বদলে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি আগের সাইনবোর্ডও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচ ব্যাংকের স্বাভাবিক লেনদেনও শুরু হয়েছে। ব্যাংক পাঁচটির গ্রাহকেরা এখন তাঁদের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাব থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করতে পারছেন। আগের ব্যাংকের চেক দিয়েই এসব লেনদেন করার সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বছরের প্রথম দিনে বৃহস্পতিবার,( ০১ জানুয়ারী ২০২৬) সকালে পাঁচ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ একাধিক শাখায় গিয়ে দেখা যায়, কোথাও একীভূত হওয়া ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর সাইনবোর্ড ঝোলানো হয়েছে, আবার কোথাও ঝোলানোর প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি ঢাকার বাইরের শাখাগুলোতেও নতুন সাইনবোর্ড ঝোলানো হচ্ছে বলে ব্যাংকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান। তাঁরা বলছেন, এখন আগের ব্যাংকের পাশাপাশি নতুন ব্যাংকের সাইনবোর্ড থাকবে। ধীরে ধীরে পুরোনো সাইনবোর্ড সরিয়ে নেওয়া হবে। তখন শুধু সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নামেই পরিচিতি পাবে এই পাঁচ ব্যাংক।

সরকারি সিদ্ধান্তে বেসরকারি যে পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে নতুন ব্যাংক গঠিত হচ্ছে, সেগুলো হলো ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক। এই পাঁচ ব্যাংকের দায়, সম্পদ ও জনবল অধিগ্রহণ করছে নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। একীভূত প্রক্রিয়া শেষে ধীরে ধীরে পাঁচ ব্যাংক বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক গত মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন জারি করে নতুন ব্যাংক গঠনের বিস্তারিত স্কিম বা কর্মসূচি প্রকাশ করেছে। তাতে নতুন ব্যাংকের মূলধন ও পাঁচ ব্যাংকে থাকা প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের ভবিষ্যৎ স্পষ্ট করা হয়।

একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি ব্যাংকের মধ্যে এক্সিম ব্যাংক ছিল ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণাধীন। বাকি চারটি ব্যাংক ছিল চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপের কর্ণধার ও বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলমের নিয়ন্ত্রণে। তাঁরা দুজনই ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এসব ব্যাংকে নামে–বেনামে তাঁদের শেয়ার ছিল এবং তাঁরা বেশির ভাগ ঋণের সুবিধাভোগী ছিলেন। এ কারণে একীভূত করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ব্যাংকগুলোর সব শেয়ার শূন্য ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত স্কিম অনুযায়ী, পাঁচ ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে গঠিত নতুন ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। আর পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন হিসেবে সরকার ইতিমধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা জোগান দিয়েছে, যা রেজল্যুশন স্কিমে ‘ক’ শ্রেণির শেয়ার হিসেবে বিবেচিত হবে।

পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থায়ী আমানতের অংশ থেকে সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা শেয়ারে রূপান্তরিত হবে, যা ‘খ’ শ্রেণির শেয়ার হিসেবে গণ্য হবে। এ ছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্য প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের স্থায়ী আমানতের অংশ থেকে আরও সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা শেয়ারে রূপান্তরিত হবে, যা ‘গ’ শ্রেণির শেয়ার হিসেবে বিবেচিত হবে।

স্কিমে বলা হয়েছে, নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় হবে ঢাকার রাজধানীর মতিঝিলের সেনাকল্যাণ ভবনে। আর পাঁচ ব্যাংকের দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত একীভূতকরণ কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে যেকোনো সময় উত্তোলনযোগ্য। দুই লাখ টাকার বেশি আমানতের ক্ষেত্রে প্রথম এক লাখ টাকা স্কিম কার্যকরের তিন মাস পর তোলা যাবে। এরপর পর্যায়ক্রমে ৬, ৯, ১২, ১৫, ১৮ ও ২১ মাস পর এক লাখ টাকা করে উত্তোলন করা যাবে। বাকি অর্থ ২৪ মাস পর উত্তোলন করা যাবে। প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের ক্ষেত্রেও একই সময়সূচি প্রযোজ্য হবে।

মেয়াদি ও স্থায়ী আমানতের বিষয়ে স্কিমে বলা হয়েছে, এসব আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ বা ঋণসুবিধা নেওয়া যাবে। বিভিন্ন মেয়াদের স্থায়ী আমানত নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন বা দীর্ঘ মেয়াদে রূপান্তর করা হবে।

চার বছরের বেশি মেয়াদি আমানত মেয়াদ পূর্তির পর পরিশোধযোগ্য হবে।

‘অর্থ-বাণিজ্য’ : আরও খবর

সম্প্রতি