গত অর্থবছরে ৭৮৫ কোটি টাকা নিট মুনাফা করার তথ্য দিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী উড়োজাহাজ সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বৃহস্পতিবার,( ০১ জানুয়ারী ২০২৬) বিমানের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গেল মঙ্গলবার সংস্থার বার্ষিক সাধারণ সভায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মুনাফা ঘোষণা করা হয়। তার আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিমান ২৮২ কোটি টাকা মুনাফার খবর দিয়েছিল।
এ নিয়ে টানা পঞ্চমবারের মতো লাভের ধারা অব্যাহত রেখেছে বিমান। সর্বশেষ ১০ অর্থবছরে নয়বারই নিট মুনাফা অর্জন করেছে। গত অগাস্টে বিমান বিদায়ী অর্থবছরে ৯৩৭ কোটি টাকা অনিরীক্ষিত মুনাফা অর্জনের তথ্য দিয়েছিল। সে সময় কোম্পানির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, “এই মুনাফার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠার ৫৫ বছরের ইতিহাসে বিমান এক অনন্য রেকর্ড গড়েছে।” এর আগে বিমান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করেছিল ২০২১-২২ অর্থবছরে; যার পরিমাণ ছিল ৪৪০ কোটি টাকা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিমান গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ আয় করেছে, যার পরিমাণ ১১ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা। তার আগের অর্থবছরের তুলনায় এ আয় ৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেশি।
একই সঙ্গে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিমান ১ হাজার ৬০২ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা অর্জন করেছে। এই অর্থবছরে বিমানের নিট মুনাফা ৭৮৫ দশমিক ২১ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের (২০২৩-২৪) তুলনায় ১৭৮ শতাংশ বেশি।
বিমান বলেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২১টি উড়োজাহাজের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি ৩০টি গন্তব্যে সর্বমোট ৩৩ লাখ ৮৩ হাজার যাত্রী পরিবহন করেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১ শতাংশ বেশি। এছাড়াও ৪৩ হাজার ৯১৮ টন কার্গো পরিবহন করে ৯২৫ কোটি টাকা আয় করেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪৫ দশমিক ২১ শতাংশ বেশি।
ফ্লাইট পরিচালনার পাশাপাশি দেশের বিমানবন্দরগুলোতে গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং সেবাও দিয়ে থেকে বিমান। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিমান বিদেশি এয়ারলাইন্সের ৩১ হাজার ১১২টি ফ্লাইটের যাত্রীকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দিয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
বিমান সম্পূর্ণ নিজস্ব আয়ে পরিচালিত একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, এ কথা তুলে ধরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “বিগত ৫৪ বছরে বিমান সরকার থেকে কোনো প্রকার ভর্তুকি গ্রহণ করেনি। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে বিমানের ইতিহাসে সর্বোচ্চ টিকিট বিক্রির রেকর্ড অর্জিত হয়েছে, যা বাজারে বিমানের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা ও যাত্রীদের আস্থার প্রতিফলন।”
দ্রুত লাগেজ সরবরাহ, উন্নত ‘ইন-ফ্লাইট’ সেবা এবং বিমানবন্দর প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন যাত্রী সন্তুষ্টি বাড়িয়েছে দাবি করে সংস্থা বলছে, “বিমান আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান কঠোরভাবে অনুসরণ করে ধারাবাহিকভাবে প্রশংসনীয় ‘সেফটি রেকর্ড’ বজায় রেখেছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নতুন ব্যবস্থাপনা দক্ষ অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, কার্যকর সম্পদ বণ্টন এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দৃঢ়করণ এই বছরের রেকর্ড মুনাফায় বড় ভূমিকা রেখেছে।”
ভবিষ্যতে নতুন জনপ্রিয় গন্তব্যে রুট সম্প্রসারণ, যাত্রীসেবা ও পরিচালনায় ডিজিটাল রূপান্তর এবং কার্গো সেবা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা থাকার কথা বলেছে বিমান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান শেখ বশিরউদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিমানের সাধারণ সভায় বিগত অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিমান পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা।
এছাড়াও শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।