৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা-২০২৬ উদ্বোধন হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচল ৪ নম্বর সেক্টরে মেলার স্থায়ী ভেন্যু বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার (বিবিসিএফইসি) ভবনে পঞ্চমবারের আয়োজিত এ মেলার উদ্বোধন করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন।
দেশের পণ্য প্রদর্শনীর সব থেকে বড় আয়োজন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। এবারের (৩০তম) আসরে বাংলাদেশ ছাড়াও আরো ৬টি দেশের ১১টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, হংকং, ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার প্রতিষ্ঠান রয়েছে
শনিবার, (০৩ জানুয়ারী ২০২৬) বেলা ১১টায় উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি শেশ বশির উদ্দিন মেলার সর্বাত্মক সাফল্য কামনা করেন। এ মেলা চলবে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলার কার্যক্রম চলবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) যৌথ উদ্যোগে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। উদ্বোধনী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান (প্রধান নির্বাহী) অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ হাসান আরিফ, বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান।
গত ১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা উদ্বোধনের তারিখ ঠিক করা হয়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করে সরকার। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনের তারিখ পরিবর্তন করে ১ জানুয়ারি থেকে ৩ জানুয়ারি করা হয়।
দেশের পণ্য প্রদর্শনীর সব থেকে বড় আয়োজন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। এবারের (৩০তম) আসরে বাংলাদেশ ছাড়াও আরো ৬টি দেশের ১১টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, হংকং, ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
এবারের মেলার বিদেশি ১১টি সহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৩২৪টি প্যাভিলিয়ন, স্টল, রেস্টুরেন্ট, দেশীয় উৎপাদক-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মেলায় পলিথিন ব্যাগ এবং সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে হ্রাসকৃত মূল্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ সরবরাহ করা হবে।
মেলায় সাধারণ দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কুড়িল বিশ্বরোড, ফার্মগেট (খেজুরবাগান, খামারবাড়ি), নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী থেকে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বাণিজ্য মেলার উদ্দেশে বিআরটিসির ২০০টির বেশি ডেডিকেটেড শাটল বাস চলবে।
১৯৯৫ সাল থেকে যথারীতি বছরের প্রথম দিন থেকেই বসে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। ২০২২ সাল থেকে পূর্বাচলের ৪ নম্বর সেক্টরের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার (বিবিসিএফইসি) স্থায়ী ভেন্যুতে মেলার আয়োজন শুরু হয়। পূর্বাচলে এবার পঞ্চমবারের মতো মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণের পদক্ষেপ হিসেবে সরকার নানামুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছে। এর মধ্যে রপ্তানিতে অবদান ও সম্ভাবনা বিষয় বিবেচনা ক্রমে বিভিন্ন পণ্য খাতকে যথাক্রমে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার খাত ও বিশেষ অগ্রাধিকার খাত হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এছাড়া রপ্তানি প্রসার ও প্রণোদনামূলক কর্মকা-কে বেগবান করতে প্রতিবছর একটি পণ্যকে ‘বর্ষপণ্য’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘোষিত পণ্যের উৎপাদন বিপণনে উৎসাহিত করণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এবার পেপার এবং প্যাকেজিং প্রোডাক্টকে ২০২৬ সালের ‘বর্ষপণ্য’ হিসেবে ঘোষণা করছি।’
মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আয়োজনের উদ্দেশ্য হল রপ্তানি পণ্যের উন্নয়ন, বহুমুখীকরণ, নতুন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ ও বাজার সংযোগ, অর্থনৈতিক কূটনৈতিক জোরদার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সম্প্রসারণ এবং দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি উন্নয়নে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন। এসব মেলার মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্র্যান্ড ইমেজ শক্তিশালী হয় এবং দেশের সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়।’
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে যা পণ্যের উৎপাদককে ভোক্তার সঙ্গে, উদ্যোক্তাকে বিনিয়োগকারীর সঙ্গে এবং বাংলাদেশকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করে চলছে। এই মেলা বাণিজ্য, শিল্প এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে আমাদের অগ্রগতিকে প্রতিফলিত করে এবং ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প থেকে আধুনিক প্রযুক্তিচালিত পণ্য উৎপাদন বহুমুখীকরণ আমাদের সক্ষমতাকে প্রদর্শন করে।’
তার ভাষ্য, ‘বাণিজ্য মেলায় উদ্যোক্তাগণের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদ্যোক্তারা তাদের পণ্য ও সেবার গুণগতমান, উদ্ভাবন, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরেন। ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, বাজার চাহিদার বিশ্লেষণ, দর কষাকষি ও অর্ডার গ্রহণের মাধ্যমে তারা বাস্তব বাণিজ্যিক সুফল অর্জন করেন। উদ্যোক্তাগণ এই মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নতুন বাজার সম্পর্কে ধারণা লাভ, আন্তর্জাতিক মান ও প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিতি এবং পণ্য উন্নয়নের সুযোগ পাবেন। আমি আশা করি উদ্যোক্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাণিজ্য মেলাকে সফল করে তুলবে এবং দেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’
পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে এ সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে; বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে এ মেলা আয়োজন করছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। পানির বোতল বাদে একবার ব্যবহার্য সব ধরনের প্লাস্টিক, পলিথিন ব্যাগ ও প্লাস্টিকের শপিং ব্যাগ নিষিদ্ধ থাকবে মেলায়। এছাড়াও মেলায় অংশ নেওয়া যেসব প্রতিষ্ঠান তাদের নিজেদের ব্যবহারেও পলিথিন বা প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহার করবে, তারা সেরা প্যাভিলিয়ন বা স্টল সম্পর্কিত কোনো ধরনের পুরস্কার পাবে না বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এবারের বাণিজ্য মেলায় বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদের স্মরণে স্থিরচিত্র প্রদর্শনের জন্য বাংলাদেশ স্কয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। মেলায় সম্ভাবনাময় খাত বা পণ্যভিত্তিক সেমিনার আয়োজন করা হবে।
অর্থ-বাণিজ্য: কাঁচামাল সংকটে দেশি পাটকল, রপ্তানি বন্ধ চান ব্যবসায়ীরা