চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার ও খোলা পণ্য ওঠানো-নামানো এবং জাহাজ আসাসহ সব সূচকে এক বছরে অগ্রগতি হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের হিসাবে, বিদায়ী বছরে বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে ৪ শতাংশ এবং কার্গো ও জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে ১১ শতাংশ করে প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
২০২৫ সালে আমদানি-রপ্তানি মিলিয়ে ৩৪ লাখ ৯ হাজার ৬৯ টিইইউস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। তার আগের বছরের চেয়ে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪৪২ টিইইউস (প্রতিটি ২০ ফুট দৈর্ঘ্য) বেশি, অর্থাৎ ৪ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ বেশি কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে
তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আমদানি-রপ্তানি মিলিয়ে ৩৪ লাখ ৯ হাজার ৬৯ টিইইউস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। তার আগের বছরের চেয়ে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪৪২ টিইইউস (প্রতিটি ২০ ফুট দৈর্ঘ্য) বেশি, অর্থাৎ ৪ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ বেশি কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে।
বিদায়ী বছরে বন্দর কার্গো হ্যান্ডলিং করেছে ১৩ কোটি ৮১ লাখ ৫১ হাজার ৮১২ মেট্রিক টন। তার আগের বছরের চেয়ে ১ কোটি ৪১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৯৮ টন খোলা পণ্য বেশি, অর্থাৎ ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আর ২০২৫ সালে বন্দরে জাহাজ এসেছে ৪ হাজার ২৭৩টি। ২০২৪ সালের চেয়ে জাহাজ বেশি এসেছে ৪০৬টি। অর্থাৎ ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি জাহাজ হ্যান্ডলিং হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘এক পঞ্জিকাবর্ষের হিসাবে ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর ৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করেছে, যা এ যাবতকালে সর্বোচ্চ। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে দেশের আমদানি-রপ্তানি পণ্যের মোট ৯২ শতাংশ এবং কন্টেইনার পরিবাহী পণ্যের ৯৮ শতাংশ হ্যান্ডলিং হয়ে থাকে।’
বন্দরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল ৩২ লাখ ৭৫হাজার ৬২৭ টিইইউস। ২০২৩ সালে ৩০ লাখ ৫০ হাজার ৭৯৩ টিইইউস, ২০২২ সালে ৩১ লাখ ৪২ হাজার ৫০৪ টিইইউস, ২০২১ সালে ৩২ লাখ ১৪ হাজার ৫৪৮ টিইইউস এবং ২০২০ সালে ২৮ লাখ ৩৯হাজার ৯৭৭ টিইইউস হ্যান্ডলিং হয়েছিল।
বন্দরে ২০২৪ সালে খোলা পণ্য হ্যান্ডলিং হয়েছে ১২ কোটি ৩৯ লাখ ৮৩ হাজার ১৪ টন। ২০২৩ সালে ১২ কোটি ২ লাখ ৩০ হাজার ২৯৩ টন, ২০২২ সালে ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৬৫ হাজার ৬৮২ টন, ২০২১ সালে ১১ কোটি ৬৬ লাখ ১৯ হাজার ১৫৮ টন এবং ২০২০ সালে ১০ কোটি ৩২ লাখ ৯ হাজার ৭২৪ টন খোলা পণ্য হ্যান্ডলিং হয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালে বন্দরে মোট জাহাজ হ্যান্ডলিং হয়েছিল ৩ হাজার ৮৫৭টি। ২০২৩ সালে ৪ হাজার ১০৩টি, ২০২২ সালে ৪ হাজার ৩৬১টি, ২০২১ সালে ৪ হাজার ২০৯টি এবং ২০২০ সালে ৩ হাজার ৭২৮টি জাহাজ বন্দরে এসেছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক বলেন, ‘গেল বছর বন্দরের শুধু অগ্রগতিই নয় বরং রূপান্তরের বছরও। কাস্টমসের কলমবিরতিসহ নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এ সময়ে বন্দর সকল সূচকে অগ্রগতি হয়েছে। জাতীয় অর্থনীতিতে অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বন্দরের ইয়ার্ড সম্প্রসারণ হয়েছে, অপারেশনাল কার্যক্রমে আরও গতি এসেছে, সক্ষমতা বেড়েছে, বন্দরের ডিজিটালাইজেশন হয়েছে, সক্ষমতা বেড়েছে। বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যথাযথ তদারকির কারণে এ অর্জন সম্ভব হয়েছে।’
কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং ছাড়াও রাজস্ব আদায়ও এক বছরে বেড়েছে। শেষ হওয়া বছরে অর্থাৎ ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ৫৪৬০ দশমিক ১৮ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেছে। গত বছরের চেয়ে রাজস্ব আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ। একইসময়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ সরকারকে দিয়েছে ১৮০৪ দশমিক ৪৭ কোটি টাকা।
বন্দর কর্মকর্তা ওমর ফারুক বলেন, ‘আগামী দিনে শুধু প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করাই নয় বরং টেকসই, অর্ন্তভুক্তিমূলক এবং উদ্ভাবননির্ভর সামৃদ্রিক অর্থনীতি নির্মাণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বমানের বাণিজ্যিক শক্তিতে পরিণত করায় ভূমিকা রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর।’
শোক ও স্মরন: একুশে পদকপ্রাপ্ত ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া আর নেই
অপরাধ ও দুর্নীতি: চাঁদা না দেয়ায় শিল্পপতির বাড়ি লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীদের গুলি