image

কাঁচামাল সংকটে দেশি পাটকল, রপ্তানি বন্ধ চান ব্যবসায়ীরা

রোববার, ০৪ জানুয়ারী ২০২৬
অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

গত মৌসুমে পাটের উৎপাদন কমেছে। এই কারণে দাম বেড়েছে এবং পাটকলগুলো কাঁচামাল সংকটে ভুগছে। এ অবস্থায় কাঁচা পাটের রপ্তানি আদেশ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

গত ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন এই দাবি জানিয়ে বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে একটি আবেদন করে। এরপর রোববার,(০৪ জানুয়ারী ২০২৬) অ্যাসোসিয়েশনের একটি প্রতিনিধিদল বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

আবেদনে অ্যাসোসিয়েশন দাবি করেছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানাবিধ কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় কাঁচা পাটের উৎপাদন তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে। এর আগে গত সেপ্টেম্বর শর্তসাপেক্ষে কাঁচা পাট রপ্তানি চালু রেখে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর ফলে কাঁচা পাটের সরবরাহ সাময়িকভাবে কিছুটা স্বাভাবিক পর্যায়ে এলেও এখন আবার কাঁচা পাটের মূল্য মনপ্রতি ৪,৭০০-৫০০০ টাকায় ওঠানামা করছে।

বর্তমানে পাটের এই উচ্চমূল্য ও সরবরাহ ঘাটতির কারণে পাটকলগুলো চাহিদা অনুযায়ী কাঁচা পাট সংগ্রহ করতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে অল্প সময়ের মধ্যে অধিকাংশ মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে যা দেশের পাট শিল্পের জন্য এটি একটি মহাবিপদ সংকেত।

এ অবস্থায় অতি দ্রুত কাঁচা পাটের রপ্তানি আদেশ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি জানানো হয়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক বলেন, ‘দাম বাড়ার কারণে ও রপ্তানি সুযোগ থাকায় এখন অনেক ব্যবসায়ী পাটের অবৈধ মজুত করেছেন। ফলে প্রতিনিয়ত পাটের দাম বেড়েই চলেছে। এতে কৃষক উপকৃত হচ্ছেন না বরং এটিতে মজুতদাররা লাভবান হচ্ছেন, তারা পাটের বাজারে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছেন। পাট রপ্তানির ও এ অবৈধ মজুতদারি রোধ না করলে প্রকৃত পাটচাষি ও পাটের ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ দেশের প্রচুর কালো টাকা পাট মজুতে ব্যয় হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তাপস প্রামাণিক আরও বলেন, ‘এসব কারণে উৎপাদিত পাটপণ্যের লাগামছাড়া মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা আন্তর্জাতিক রপ্তানি বাজার হারাচ্ছি। এমন পরিস্থিতিতে বিদেশি ক্রেতারা আগের মতো আবারও বিকল্প পণ্যের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে। ভবিষ্যতে এসব বাজার পুনঃরুদ্ধার করা অনেক কষ্টসাধ্য হবে।’

রোববার বাণিজ্য উপদেষ্টা ব্যবসায়ীদের বলেন, ‘পাটের অবৈধ মজুতদারি প্রতিরোধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে। খুব শিগগির পাট উৎপাদন বেশি হয় এমন চার জেলায় মজুতদারি প্রতিরোধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এছাড়া রপ্তানি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করার আবেদনের বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হবে।’

বৈঠকে ব্যবসায়ীরা পাট বীজের সংকটের কথাও বলেন উপদেষ্টাকে। তখন উপদেষ্টা চলতি মৌসুমে মানসম্মত পাট বীজের সংকট দূর করতে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানান। ফলে বীজের সংকট হবে না বলে আশ্বস্ত করেন বস্ত্র ও পাট উপদেষ্টা।

‘অর্থ-বাণিজ্য’ : আরও খবর

সম্প্রতি