বাজারের বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আবাসন ঋণের সর্বোচ্চ সীমা নতুন করে নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে আবাসন খাতে ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। এখন থেকে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ চার কোটি টাকা ঋণ দিতে পারবে। নতুন পরিপত্রে বলা হয়েছে, একক গ্রাহককে ব্যাংক সর্বোচ্চ কত পরিমাণ আবাসন ঋণ দিতে পারবে, তা নির্ভর করবে সেই ব্যাংকের খেলাপি ঋণের ওপর।
এই নির্দেশনা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। গতকাল মঙ্গলবার পরিপত্র জারি করে ভোক্তা ঋণসংক্রান্ত প্রুডেনশিয়াল রেগুলেশনের ২৩ নম্বর বিধিতে সংশোধন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
মূলত ব্যাংকের খেলাপি ঋণের ভিত্তিতে আবাসন খাতে ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ঠিক করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এত দিন সব ব্যাংকের জন্য অভিন্ন সীমা ছিল। এখন থেকে খেলাপি ঋণ যত কম, তত বেশি আবাসন ঋণ দিতে পারবে ব্যাংক। খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশের নিচে থ
াকলে ওই ব্যাংক গৃহনির্মাণ খাতে চার কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারবে। খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশের বেশি কিন্তু ১০ শতাংশের নিচে থাকলে তিন কোটি এবং ১০ শতাংশের বেশি খেলাপি থাকা ব্যাংক আগের মতোই সর্বোচ্চ দুই কোটি টাকা দিতে পারবে।
এদিকে যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কম, তাদের ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা বাড়ানো হলেও ঋণ ও নিজস্ব পুঁজির অনুপাত আগের মতোই ৭০: ৩০ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। আবাসনের ক্রয়মূল্য ১০০ টাকার মধ্যে সর্বোচ্চ ৭০ টাকা ব্যাংক অর্থায়ন করবে। বাকি ৩০ টাকা নিজের থাকতে হবে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, কোনো ফ্ল্যাটের দর যদি হয় পাঁচ কোটি ৭১ লাখ টাকা, তখন ৫ শতাংশের কম খেলাপি ঋণ আছে এমন ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ চার কোটি টাকার ঋণ নিতে পারবেন ভোক্তারা। এই অনুপাতে অন্য ক্ষেত্রেও ৭০ শতাংশ নেওয়া যাবে।
১৯৯১ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা এ নীতিমালা ২০০৪ ও ২০১৯ সালে জারিকৃত পূর্ববর্তী নির্দেশনাগুলোর পরিবর্তে কার্যকর হবে। আবাসন ঋণের সীমা সংশোধিত হলেও ভোক্তা ঋণসংক্রান্ত অন্যান্য বিদ্যমান নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।