জাতীয় নির্বাচনের দিন জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাবে দেশের সব ব্যাংক। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এই ভোট হবে। ‘হ্যাঁ’ ভোটের এই প্রচারণায় ব্যাংকগুলোর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে টাকা খরচ করা হবে।
গতকাল রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকেরা বৈঠক করেছে। সেখানে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণার কথা বলা হয়। প্রচারণার অংশ হিসেবে ব্যাংকের প্রতিটি শাখায় গণভোট নিয়ে দুটি করে ব্যানার টাঙানো হবে। গত সপ্তাহে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের নির্দেশে গণভোট নিয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টার অফিস থেকে এরই মধ্যে নির্দেশনা এসেছে ব্যাংকগুলোর প্রতিটা শাখায় ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে উৎসাহিত করে দুটি করে ব্যানার ঝোলানোর। এর পাশাপাশি যেসব এনজিও বা প্রতিষ্ঠান এই জনসচেতনতার জন্য কাজ করবে, তাদের ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে সহায়তা দিতে বলা হয়েছে। আমরা এবিবির পক্ষ থেকেও টাকা দেব। আমি এই পদক্ষেপগুলোর পুরোপুরি পক্ষে। সাধারণ মানুষ বড় ধরনের সংস্কার চায়, দেশটা যেন ভালো থাকে।’
গতকাল রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ‘ব্যাংকার্স সভা’য় গভর্নর আহসান এইচ মনসুর নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে আর্থিক খাতের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বলে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক এমডি জানিয়েছেন।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে কোনো বেসরকারি সংস্থা উদ্যোগ নিলে ব্যাংকগুলোর সিএসআর তহবিল থেকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে। বৈঠকে নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারি সিদ্ধান্তের আলোকে জনসচেতনতা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে জনগণকে জানানো জরুরি বলেও আলোচনায় উঠে আসে। এসব ক্ষেত্রে ব্যাংক খাতের অংশগ্রহণ প্রয়োজন হতে পারে—এমন ইঙ্গিত দেন গভর্নর।
এদিকে নির্বাচন সামনে রেখে নগদ লেনদেনের ওপর নজরদারি জোরদার করেছে আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ)। সম্প্রতি দেওয়া নির্দেশনায় ১০ লাখ টাকার বেশি লেনদেনের তথ্য মাসিকের পরিবর্তে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ‘নির্বাচনের সময়ে অবৈধ অর্থের ব্যবহার ঠেকাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
এদিকে ৫ জানুয়ারি গণভোটের পক্ষে প্রচারণার জন্য প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের পাশাপাশি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসকে (বিএবি) চিঠি দেওয়া হয়। বিএবি হলো ব্যাংক মালিকদের সংগঠন।
ওই চিঠিতে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এ লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোর ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। গুরুত্বপূর্ণ এই গণভোটের বিষয়ে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করতে সব সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক এবং ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সব শাখায় ২টি খাড়া ব্যানার প্রতিষ্ঠান প্রধানের নিজ উদ্যোগে প্রিন্ট করে অফিসের সম্মুখে দৃষ্টিনন্দন স্থানে প্রদর্শন করলে সেবাগ্রহীতা ও জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রচারণা পাবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ৪ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও গণভোট–সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়কের মধ্যে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এ বিষয়ে সম্মতি প্রদান করেছেন।