image
ছবিঃ সংগৃহীত

চরম গ্যাস সংকটে বৈদ্যুতিক চুলার চাহিদা বেড়েছে

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

সরবরাহ কমের কারণে রান্নার কাজে ব্যবহার হওয়া এলপিজি সিলিন্ডার নিয়ে সংকট চলছে এক মাসের বেশি সময় ধরে। পরিমাণভেদে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩৫০ থেকে হাজার টাকারও বেশি বেড়েছে। সংকটের বিষয়টি সামনে আসার পর শুল্কে ছাড়, আমদানি সহজ করতে বাকিতে আমদানির সুযোগ, আমদানির কোটা বাড়ানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

খুব শিগগির সংকট কাটার আভাস মিলছে না। সরকার এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দিলেও সেই দরে বাজারে সিলিন্ডার পাওয়া যায় না। এখন বাড়তি দামেও চাহিদার সময় পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এলপিজিনির্ভর রেস্তোরাঁ ও ছোট খাবারের দোকানগুলোও ব্যাপক সঙ্কটের মুখে পড়েছে

তবে খুব শিগগির সংকট কাটার আভাস মিলছে না। সরকার এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দিলেও সেই দরে বাজারে সিলিন্ডার পাওয়া যায় না। এখন বাড়তি দামেও চাহিদার সময় পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এলপিজিনির্ভর রেস্তোরাঁ ও ছোট খাবারের দোকানগুলোও ব্যাপক সঙ্কটের মুখে পড়েছে।

সারাদেশে এলপিজি না পেয়ে সেই চাপ গিয়ে তখন পড়ে বৈদ্যুতিক চুলার ওপরে। দৈনন্দিন রান্নাবান্নাসহ গৃহস্থলীর কাজ সারতে রাজধানীবাসীর বৈদ্যুতিক চুলা ছাড়া আর তেমন উপায় থাকে না। নতুন করে বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা কিনতে থাকা গৃহিণীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় চাহিদা বেড়েছে। এ সুযোগে দামও চড়েছে এমন সব চুলার।

রাজধানীর ক্রোকারিজের দোকানগুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, তাদের বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুণ। আর হঠাৎ করেই চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বিক্রেতারা চুলাপ্রতি দামও বাড়িয়েছেন প্রায় ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত।

বাজারে ইনডাকশন ও ইনফ্রারেড, এই দুই ধরনের বৈদ্যুতিক চুলা রয়েছে। এর মধ্যে সব ধরনের হাঁড়ি-পাতিল ব্যবহারের সুবিধা থাকায় ইনফ্রারেড চুলার চাহিদা বেশি, দামও একটু বেশি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। এর বিপরীতে ইনডাকশন চুলায় সব ধরনের হাঁড়ি-পাতিল ব্যবহার করা যায় না, শুধুমাত্র চুম্বকীয় তলযুক্ত পাত্র (যেমন-কাস্ট আয়রন, নির্দিষ্ট স্টেইনলেস স্টিল) প্রয়োজন পড়ে। তবে এ ধরনের চুলায় তাপের অপচয় কম হয় বলে সেটি বেশি বিদ্যুৎসাশ্রয়ী।

ইনডাকশন চুলা সরাসরি তাপ তৈরি করে না; এটি তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশ নীতিতে কাজ করে। চুলার ভেতরের তামার কয়েল বিদ্যুৎ প্রবাহে পরিবর্তনশীল চৌম্বকক্ষেত্র সৃষ্টি করে। এতে পাত্রের তলদেশে ঘূর্ণিয়মান তড়িৎ প্রবাহ তৈরি হয়। ফলে তাপ সরাসরি পাত্রেই তৈরি হয় এবং চুলার কাচের উপরিভাগ তুলনামূলকভাবে গরম হয় না।

অন্যদিকে ইনফ্রারেড চুলায় হ্যালোজেন বা ইনফ্রারেড হিটারের মত শক্তিশালী হিটিং উপকরণ সরাসরি তাপ উৎপন্ন করে। এই উপকরণ গরম হয়ে ইনফ্রারেড বিকিরণ ছড়ায়, যা পাত্রকে গরম করে।

এটি মূলত পুরোনো ইলেকট্রিক কয়েল চুলার আধুনিক রূপ, যেখানে তাপ সরাসরি স্থানান্তরিত হয়। ফলে চুলা চালু হলে উপরিভাগের কাঁচের প্লেট লাল হয়ে যায় এবং সেখান থেকেই তাপ বিকিরণ ঘটে।

মোহাম্মদপুরের এক চুলা বিক্রেতা বলেন, “ইনডাকশন ও ইনফ্রারেড দুই ধরনের চুলাই চলছে, যে যেটা পছন্দ করছে। তবে যেকোন ধরনের পাত্র ব্যবহার করা যায় বলে ইনফ্রারেড চুলার চাহিদা একটু বেশি। ইনডাকশন চুলায় পাতিল দিলে চালু হয় আবার সরিয়ে ফেললে অটো বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে এটাতে বিদ্যুৎ খরচ সাধারণত কম হয়।”

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ওয়ালটন, ভিশন, ভিগো, কিয়াম, গাজী, মিয়াকো, ফিলিপস বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক চুলা বেশি বিক্রি হচ্ছে। এর বাইরে নোভা, প্রেস্টিজসহ বেশ কিছু অপরিচিত ও নন-ব্র্যান্ডের চাইনিজ বৈদ্যুতিক চুলাও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। নন-ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক চুলা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মার্কেটগুলোতে পাওয়া যায়। ব্র্যান্ডের চুলাও সেসব দোকানে মিললেও এক্ষেত্রে বিশেষ করে চেইনশপগুলোই গ্রাহকদের কাছে তুলনামূলক নির্ভরযোগ্য।

বিক্রেতারা বলছেন, ইনফ্রারেড চুলার দাম কিছুটা বেশি। তবে দুটোই মোটামুটি সাড়ে তিন হাজার থেকে ছয় হাজার টাকা দামে কেনা যাচ্ছে। এখন চাহিদা বেশি থাকায় পরিচিত ব্র্যান্ডের চুলার কাছাকাছি দামেই নন-ব্র্যান্ডের চুলাগুলো বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।

পাড়া-মহল্লার বিভিন্ন দোকানে চুলার দাম কিছুটা বাড়লেও চেইনশপগুলোতে তাদের পণ্য আগের দামেই পাওয়া যাচ্ছে।

বিভিন্ন বাজার ও চেইনশপগুলোর পাশাপাশি বিক্রি বাড়ার কথা বলেছে কোম্পানিগুলোও। দেশে ভিশন ও ভিগো ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক চুলা প্রস্তুত ও বাজারজাত করে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ।

‘অর্থ-বাণিজ্য’ : আরও খবর

সম্প্রতি