image

ছয় মাসে এডিপি বাস্তবায়ন সাড়ে ১৭ শতাংশ

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে খুব একটা গতি ফেরেনি; চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে খরচ হয়েছে বরাদ্দের সাড়ে ১৭ শতাংশ অর্থ। এই হার রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্য দিয়ে যাওয়া আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে কম।

একক মাস হিসেবে ডিসেম্বরে খরচের হার কিছুটা বেড়েছে। গেল মাসে ব্যয় হয় বরাদ্দের ৫ দশমিক ৮০ শতাংশ, যা তার আগের ডিসেম্বরে ছিল ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ

কেবল গত অর্থবছর নয়, তার আগের তিন অর্থবছরের প্রথম দুই প্রান্তিকেও এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল এবারের চেয়ে বেশি। গত জুলাই থেকে ডিসেম্বরে এডিপির অর্থ ব্যয় হয় বরাদ্দের ১৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ, যা আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এর আগের তিন অর্থবছরে প্রথম ছয় মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ২২ দশমিক ৪৮ (২০২৩-২৪), ২৩ দশমিক ৫৩ (২০২২-২৩) ও ২৪ দশমিক ০৬ শতাংশ (২০২১-২২)।

বৃহস্পতিবার এডিপি বাস্তবায়নের সবশেষ তথ্য প্রকাশ করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ-আইএমইডি। একক মাস হিসেবে অবশ্য বাস্তবায়নের হার কিছুটা বেড়েছে। গেল ডিসেম্বরে অর্থ ব্যয় হয় বরাদ্দের ৫ দশমিক ৮০ শতাংশ, যা তার আগের ডিসেম্বরে ছিল ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ। জুলাই-ডিসেম্বরে ৪১ হাজার ৮৭৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৫০ হাজার ২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

বাস্তবায়নের মন্থর গতির মধ্যে বড় ধরনের কাটছাঁট করে সংশোধিত এডিপিতে ৩০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ কমিয়েছে সরকার, যা মোট বরাদ্দের ১৩ দশমিক ০৪ শতাংশ। জুলাই অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ক্ষমতায় এসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত জুনে তার প্রথম বাজেট দেয়। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া উন্নয়ন নীতিতে কাটছাঁট করে চলতি অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার এডিপি নির্ধারণ করা হয়।

জানুয়ারিতে এসে কাটছাঁটের পর সংশোধিত এডিপির আকার দাঁড়ায় ২ লাখ কোটি টাকা। সবচেয়ে বড় কোপ পড়ে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের বরাদ্দে। স্বাস্থ্যসেবা খাতে বরাদ্দ কমে ৭৩ শতাংশ; আর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষায় কমে ৫৫ শতাংশ। সোমবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় সংশোধিত এডিপি (আরএডিপি) অনুমোদন করা হয়। সাধারণত অর্থবছরের প্রথম দিকে উন্নয়ন কর্মকা-ে অর্থছাড় কম হয়, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনের জন্য বাস্তবায়নের গতি অন্যান্য বারের তুলনায় কম ছিল। তখন আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির অবনতি, কারফিউ জারি, কমপ্লিট শাটডাউনের মতো ঘটনায় উন্নয়ন কর্মকা- ব্যাহত হয়। জুলাই আন্দোলনে সরকার পতন হলে আওয়ামী লীগ ঘরানার ঠিকাদাররা অনেকে আত্মগোপনে চলে যান। এর মধ্যে নতুন সরকার এসে বিভিন্ন প্রকল্প খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিলে অর্থবছরের পুরো সময়টা উন্নয়ন কর্মকা-ে স্থবিরতা দেখা যায়।

অর্থ কাটছাঁট ও রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে দাবি করে অনেক প্রকল্প বন্ধও রাখে সরকার। তার প্রভাব পড়ে এডিপিতে; দুই দশকের মধ্যে তলানিতে নামে বাস্তবায়ন হার। ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে সংশোধিত এডিপির মোট বরাদ্দের ৬৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ১৩ শতাংশ পয়েন্ট কম। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এডিপির অর্থ ব্যয়ের হার ছিল ৮০ দশমিক ৬৩ শতাংশ। আইএমইডির ওয়েবসাইটে ২০০৪-০৫ অর্থবছর থেকে এডিপি বাস্তবায়নের তথ্য দেওয়া আছে। তাতে বিদায়ী অর্থবছরের মতো কম বাস্তবায়ন হার কোনো বছর দেখা যায়নি।

‘অর্থ-বাণিজ্য’ : আরও খবর

সম্প্রতি