সম্প্রতি কমতে থাকা সবজির দাম ফের বাড়তে শুরু করেছে। কিছুদিন আগে যে ফুলকপি ৩০-৪০ টাকায় পাওয়া গেছে সেটা শুক্রবার, (১৬ জানুয়ারী ২০২৬) বিক্রি হয়েছে ৫০-৬০ টাকায়। একইহারে বেড়েছে অন্যান্য সবজির দাম।
অধিকাংশ সবজির দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ১০-২০ টাকা
ফার্মের লাল ডিম ডজনে ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়
আগের বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে মুরগি ও মাছ
মুরগি বিক্রি হচ্ছে আগের বাড়তি দামে। তবে ডিমের দাম ১০ টাকা কমে শুক্রবার ১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বাজারে নতুন চাল আসতে শুরু করায় দাম কিছুটা কমেছে। তবে পুরনো চাল উচ্চ দামে স্থিতিশীল রয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।
সরেজমিন দেখা যায়, কিছুদিন আগে অধিকাংশ সবজির দাম কমে ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। সেই সবজি এখন প্রায় ৫০-৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি কেজি সবজিতে দাম বেড়েছে প্রায় ১০-২০ টাকা। শুক্রবার বাজারে প্রতিটি ফুলকপি বিক্রি হয়েছে ৫০-৬০ টাকায়। মাঝারি মানের লাউ বিক্রি হয়েছে ৮০-১০০ টাকায়। মুলার দাম কিছুটা বেড়ে ৫০-৬০ টাকা কেজি হয়েছে।
এছাড়া শুক্রবার প্রতি কেজি নতুন আলু ২৫-৩০ টাকা, শিম ৪০-৬০ টাকা, শালগম ৩০-৪০ টাকা এবং বেগুন ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি টমেটো ৮০-৯০ টাকা, কাঁচামরিচ ১০০-১২০ টাকা ও একেকটি বাঁধাকপি ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া সয়াবিন তেল আগের মতোই ১৯৫ টাকায় লিটার বিক্রি হয়েছে।
বাজারে নতুন মৌসুমের মুড়িকাটা পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় এর দাম স্থিতিশীল রয়েছে। পাশাপাশি ভারত থেকে আমদানি করা এবং দেশি পুরনো পেঁয়াজও বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি কেজি মুড়িকাটা পেঁয়াজ ৬০-৬৫ টাকা, আমদানি করা পেঁয়াজ ৬৫-৭০ টাকা এবং দেশি পুরনো পেঁয়াজ ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে ডিমের দাম কমেছে। শুক্রবার ফার্মের ডিম ডজনপ্রতি ১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাসখানেক আগেও একই ডিমের দাম ছিল ১২০ টাকা। সাদা ডিমের দাম ১২০-১২৫ টাকা এবং দেশি হাঁসের ডিম ১৯০-২০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
ডিম ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘সাধারণত শীত মৌসুমে বাজারে শাকসবজি ও দেশি মাছের সরবরাহ ভালো থাকায় ডিমের দাম কমে। এবারও তা-ই হয়েছে। বর্তমানে পাইকারিতে প্রতিটি ডিমের দাম ৮ টাকার নিচে নেমে এসেছে।’
বাজারে নতুন আমন চাল আসতে শুরু করেছে। ফলে নতুন চালের দাম কিছুটা কমেছে। তবে পুরনো চাল এখনও বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। নতুন মোটা চাল ৫৫-৬০ টাকা কেজি বিক্রি হয়। একই ধরনের পুরনো চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকা কেজি। খুচরা বিক্রেতারা জানান, নতুন চালের ভাত আঠালো হয়, আর পুরনো চালের ভাত ঝরঝরে এবং রান্নায় ভাতের পরিমাণ বেশি হয়। এ কারণে পুরনো চালের চাহিদা বেশি থাকায় দাম কিছুটা বেশি থাকে।
মাংসের বাজারে গরু ও খাসির দামে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। গরুর মাংস আগের মতোই ৭৫০-৯৫০ টাকা, খাসির মাংস ১,২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহ বা মাসের ব্যবধানে এ দাম অপরিবর্তিত থাকলেও ক্রেতারা বলছেন, অপরিবর্তিত মানে স্থিতিশীল নয়, এখনকার এই দামই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
অন্যদিকে মুরগির বাজারে দামে কোনো বড় পরিবর্তন নেই। আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। শুক্রবার বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৭০-১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সোনালি মুরগির দাম ২৭০-২৮০ টাকা কেজি।
বিক্রেতারা বলছেন, মুরগির সরবরাহ ও চাহিদা-দুটোই প্রায় সমান থাকায় দাম আগের জায়গাতেই স্থির রয়েছে।
মাছের বাজারে দেখা গেছে, আগের কয়েক সপ্তাহের মতোই দাম চড়া অবস্থায় রয়েছে। সরবরাহ থাকলেও দামে তেমন কোনো স্বস্তি নেই। বাজারে কোরাল মাছ ৭০০-৯০০ টাকা, আইড় ৬০০-৭৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, সরপুঁটি ৩০০-৪৫০ টাকা এবং শিং ৪০০-৫০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। রুই ও কাতলা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৪৫০ টাকা কেজি দরে।
চাষের মাছের মধ্যে পাঙাশ ও সিলভার কার্প ২০০-২৮০ টাকা, বড় সাইজের তেলাপিয়া ২৫০-৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সামুদ্রিক মাছের মধ্যে বড় আকারের চিংড়ি ৭৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ছোট চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
শুক্রবার বাজারে ইলিশের দামও চড়া রয়েছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং দুই কেজির বেশি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।