image

সৌদিতে বিপুল সোনা উত্তোলন, তবুও দাম তুঙ্গে

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

সৌদি আরবের খনিতে গেল বছরে আবিষ্কৃত হয়েছে প্রায় ২২৬ টন সোনার নতুন মজুত। আবিষ্কৃত সেসব সোনার মধ্যে প্রায় ৪৪ টনই সৌদি গোল্ড রিফাইনারি কোম্পানির অংশে পড়েছে। তবে সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন খনন কোম্পানি মা’আদেন নতুন করে চারটি খনি এলাকা থেকে মোট ৭৮ লাখ আউন্স বা প্রায় ২২১ টন সোনা উত্তোলন করেছে। কোম্পানিটির পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্যভিত্তিক খননকাজের মাধ্যমে মা’আদেনের ভান্ডারে এ নতুন সোনা যুক্ত হয়েছে। শুরুতে ৯০ লাখ আউন্সের বেশি সোনা উত্তোলনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বার্ষিক হিসাব-নিকাশের মানদণ্ড অনুযায়ী চূড়ান্ত লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়েছে।

তবে এই বিপুল পরিমাণ সোনা উত্তোলনের পরও বিশ্বে দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। নতুন রেকর্ডও গড়েছে। ইরানে চলমান বিক্ষোভের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের হুমকি ও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে তুলে আনার জেরে সোনার দাম বাড়ার ধারা অব্যাহত আছে। অন্যদিকে, বিশ্ববাজারের প্রভাবে বাংলাদেশের বাজারেও রেকর্ড দামে পৌঁছেছে সোনা। গত সোমবার রাতের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণার পর দেশের বাজারে সোনার দাম এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ।

গোল্ড প্রাইস ডট অর্গের খবরে জানা গেছে, স্পট মার্কেটে বুলিয়ন সোনার দাম ১২ জানুয়ারি আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৬২৯ ডলারে ওঠে। পরদিন ১৩ জানুয়ারি সোনার দাম কমেছে। ফেব্রুয়ারি মাসের আগাম দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৫৮৫ ডলারে নেমে আসে।

গালফ নিউজে বলা হয়েছে, মানসুরাহ মাসসারাহ, উরুক ২০/২১, উম্ম আস সালাম এবং ওয়াদি আল জাও খনি থেকে নতুন সোনা উত্তোলন করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উত্তোলন হয়েছে মানসুরাহ মাসসারাহ থেকে। সেখান থেকে ৩০ লাখ আউন্স সোনা উত্তোলন হয়। এরপর উরুক ২০/২১ ও উম্ম আস সালাম মিলিয়ে ১৬ লাখ ৭০ হাজার আউন্স ও নতুন খনি ওয়াদি আল জাও থেকে ৩০ লাখ ৮০ হাজার আউন্স সোনা উত্তোলন হয়েছে। ওয়াদি আল জাও থেকে এবারই প্রথম সোনা উত্তোলন করা হয়েছে।

মা’আদেনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বব উইল্ট বলেন, ‘এ ফলাফলে এটা স্পষ্ট যে কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি কৌশল মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। ঠিক এ কারণেই আমরা সৌদি আরবের সোনার ভান্ডারে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ অব্যাহত রাখছি।’ উইল্ট আরও বলেন, ‘চারটি এলাকায় খননকাজের মাধ্যমে ৭০ লাখ আউন্সের বেশি সোনা উত্তোলনের ঘটনাটি সোনা আহরণে মা’আদেনের সম্ভাবনাকেই প্রতিফলিত করছে। আমরা যখন অনুসন্ধান ও খনি উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিচ্ছি, তখন আমাদের সম্পদ বাড়ছে। এ বৃদ্ধি ভবিষ্যতে নগদ অর্থ প্রবাহের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।’

এদিকে সৌদি গোল্ড রিফাইনারি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সুলিমান আল-ওথাইম বলেন, বিপুল পরিমাণে এ সোনা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে খনিজ সম্পদের মজুত বৃদ্ধি ও নিজেদের বিশ্বমানের সোনা উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কোম্পানিটির উদ্যোগ আরও গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারি সহায়তা ও বিভিন্ন সুবিধার মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট সোনা উৎপাদনের ৫০ শতাংশ অর্জনের লক্ষ্য নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

আল-ওথাইম আরও বলেন, সোনার দামে নজিরবিহীন উত্থানের বছর ছিল ২০২৫ সাল। এ সময়ে সোনার বার্ষিক দর বৃদ্ধি পেয়েছে ৬৪ শতাংশের বেশি। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিনিয়োগ তহবিলগুলোর ব্যাপক চাহিদাই এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ।

তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে সোনার গড় মূল্য ছিল প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ ডলারের মধ্যে। বছরের শুরুতে যেখানে দাম ছিল প্রায় ২ হাজার ৭১০ ডলার, সেখান থেকে ধাপে ধাপে বেড়ে ডিসেম্বর মাসে তা ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ ডলার দাঁড়ায়।

‘অর্থ-বাণিজ্য’ : আরও খবর

সম্প্রতি