শীত মৌসুমের আমেজ শেষ না হতেই রাজধানীর বাজারে সবজির দাম বাড়তে শুরু করেছে। গত দুই-তিন সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজির দাম কেজিতে ১০-২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে বাজারে মুরগির দাম আরেক দফা বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ১০-৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে গরু ও খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।
শুক্রবার রাজধানীর বাজারগুলোতে দেখা যায়, প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকায়। এছাড়া শালগম প্রতি কেজি ৬০ টাকা, গোল বেগুন প্রতি কেজি ৮০ টাকা, পেঁয়াজের ফুল প্রতি মুঠো ১৫-২০ টাকা, মুলা প্রতি কেজি ৪০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৮০ টাকা এবং গাজর প্রতি কেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
অন্যান্য সবজির মধ্যে কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ৮০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। জাতভেদে শিম প্রতি কেজি ৪০-৮০ টাকা, আলু প্রতি কেজি ৩০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ৪০-৫০ টাকা, বাঁধাকপি প্রতি পিস ৪০ টাকা এবং ছোট আকারের ব্রকলি প্রতি পিস ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
কারওয়ান বাজারের একজন ক্রেতা বলেন, ‘শীত শেষ না হতেই আবার দাম বাড়তে শুরু করেছে। কয়েকদিন আগেই ফুলকপি কিনলাম ২০-৩০ টাকা পিস, আজ সেই ফুলকপির দাম চাচ্ছে ৫০ টাকা। দরদাম করে শেষ পর্যন্ত ৪০ টাকায় কিনলাম। এভাবে প্রতিটি সবজির দামই আজ দেখছি ১০-২০ টাকা করে বেশি।’
এছাড়া রাজধানীর বাজারে মুরগির দাম আরেক দফা বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ১০-১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে মুরগির বাজারে উত্তাপ থাকলেও গরু ও খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘শীতের মৌসুমে বিয়েশাদি, পিকনিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানের কারণে চাহিদা বাড়ায় মুরগির দামে এই প্রভাব পড়েছে।’
সরেজমিন তথ্য বলছে, শুক্রবার মালিবাগ বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে যা এক সপ্তাহ আগেও ১৭৫-১৮০ টাকার মধ্যে ছিল। একইভাবে সোনালি ও অন্যান্য জাতের মুরগির দামও কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেড়েছে। এক সপ্তাহ আগেও সোনালি মুরগির দাম ছিল কেজিপ্রতি ২৭০-২৮০ টাকা। শুক্রবার তা বেড়ে ২৯০-৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।
বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহে বড় ধরনের সংকট না থাকলেও শীতের কারণে খামার পর্যায়ে উৎপাদন ব্যয় কিছুটা বেড়েছে, তার প্রভাব খুচরা বাজারে এসে পড়েছে।
অন্যদিকে গরু ও খাসির মাংসের বাজারে দামের কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। বাজারে গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাছের বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, কিছু মাছের দামে আগের তুলনায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। শুক্রবার মাঝারি আকারের রুই মাছ বর্তমানে ৩৫০-৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে যা এক সপ্তাহ আগেও ৩০০-৩৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত। তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ২২০-২৫০ টাকায়। পাবদা মাছের দাম ৪০০ টাকা, টেংরা ৪৫০-৫০০ টাকা এবং চিংড়ি মাছ ৭০০-১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। বোয়াল মাছের দাম রয়েছে ৭০০-৮০০ টাকা কেজিতে। তবে এসব মাছ ছাড়া বাজারে অন্য বেশির ভাগ মাছ আগের দামে স্থিতিশীল রয়েছে। পাঙাশ, সিলভার কার্পসহ কয়েকটি চাষের মাছের দামে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
ডিমের বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। গত সপ্তাহের মতোই এক ডজন ডিম শুক্রবার বিক্রি হয়েছে ১১০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা জানান, শীত মৌসুমে শাকসবজি ও দেশি মাছের সরবরাহ ভালো থাকায় ডিমের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকে। বর্তমানে পাইকারিতে প্রতিটি ডিমের দাম ৮ টাকার নিচে নেমে এসেছে, তবে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি কম হওয়ায় দাম আর কমছে না।
মাছ বিক্রেতা আব্দুল কাদের জানান- রুই, টেংরা বা পাবদার মতো কিছু মাছের সরবরাহ কম হওয়ায় দাম একটু বেড়েছে। তবে শুক্রবার তেলাপিয়া বা অন্যান্য চাষের মাছ আগের দামেই মোটামুটি পাওয়া গেছে।