গত সপ্তাহজুড়ে দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। এতে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি বেড়েছে। সেই সঙ্গে মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া মোট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৩০৯টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৪১টির দাম কমেছে এবং ৩৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ, দাম কমার তুলনায় দাম বাড়ার তালিকায় ৭ দশমিক ৫৪ গুণ বেশি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৬ লাখ ৮৪ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। অর্থাৎ, সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে ৬ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা বা দশমিক ৯২ শতাংশ।
বাজার মূলধন বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে প্রধান মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ১৪০ দশমিক ৬২ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৮৪ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ৩৯ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট বা দশমিক ৭৯ শতাংশ।
অন্য দুই সূচকের মধ্যে ইসলামি শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ২৯ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৯৬ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ১৪ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
আর বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ৫০ দশমিক ১৬ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৬২ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ২ দশমিক ২২ পয়েন্ট বা দশমিক ১২ শতাংশ।
এদিকে, গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনের গতিও বেড়েছে। সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৫৭৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৩৮০ কোটি ১২ লাখ টাকা। অর্থাৎ, প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে ১৯৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা বা ৫১ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার। কোম্পানিটির শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ২২ কোটি ৬২ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। প্রতিদিন গড়ে ১১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা লেনাদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সিটি ব্যাংক।
এছাড়া, লেনদেনের শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ফাইন ফুডস, ব্র্যাক ব্যাংক, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, লাভেলো আইসক্রিম এবং খান ব্রদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ।
এ পরিস্থিতিতে শেয়ারবাজারে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখাচ্ছা পচা বা ‘জেড’ গ্রুপের কোম্পানির শেয়ার। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে দাম বাড়ার শীর্ষ ১০টি স্থানের মধ্যে ৮টিই দখল করেছে ‘জেড’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠান। দাম বাড়ার শীর্ষ দশে ভালো বা ‘এ’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠান আছে দুটি। তবে দম বাড়ার শীর্ষ সাতটি প্রতিষ্ঠানই জেড গ্রুপের।
গত সপ্তাহজুড়ে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চাহিদার শীর্ষে ছিল ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট। লোকসানে নিমজ্জিত হওয়ায় ২০১৬ সালের পর কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। এই কোম্পানির শেয়ার দাম গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসেই দিনের সর্বোচ্চ পরিমাণ বেড়েছে। এতে এক সপ্তাহেই শেয়ার দাম বেড়েছে ৬২ শতাংশ। টাকার অঙ্কে প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়েছে ৩০ পয়সা।
দাম বাড়ার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড। এক সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ার দাম বেড়েছে ৫৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ। টাকার অঙ্কে প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়েছে ২৩ পয়সা। লোকসানে পতিত হওয়ায় ২০১৭ সালের পর এই কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ দেয়নি। স্বাভাবিকভাবেই কোম্পানিটির স্থান হয়েছে পচা জেড গ্রুপে।
পরের স্থানা রয়েছে জেড গ্রুপের আর এক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস। লোকসানে পতিত হওয়ায় ২০১৮ সালের পর কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ দিতে পারেনি। গত সপ্তাহে এই কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে ৫৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। টাকার অঙ্কে প্রতিটি শেয়ার দাম বেড়েছে ২৪ পয়সা।
এর পরের চারটি স্থানও রয়েছে ‘জেড’ গ্রুপের দখলে। এর মধ্যে ২০১৮ সালের পর বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ দিতে না পারা এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের শেয়ার দাম বেড়েছে ৫৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ। ২০১৪ সালের পর থেকে লভ্যাংশ দিতে না পারা পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের শেয়ার দাম বেড়েছে ৫৫ দশমিক ৩৬ শতঅংশ।
দাম বাড়ার তালিকায় পরের দুটি স্থানে থাকা কোম্পানি দুটির শেয়ার দামও ৫০ শতাংশের ওপরে বেড়েছে। এর মধ্যে প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের শেয়ার দাম বেড়েছে ৫৩ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। কোম্পানিটি ২০১৯ সালের পর বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ দিতে পারেনি। পরের স্থানে থাকা বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ার দাম বেড়েছে ৫১ দশমিক ৫২ শতাংশ। এই কোম্পানি ২০১৩ সালের পর কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি।
দাম বাড়ার শীর্ষ দশে স্থান পাওয়া পরের দুটি কোম্পানি ‘এ’ গ্রুপের। এর মধ্যে এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দাম বেড়েছে ২৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দাম বেড়েছে ২৪ দশমিক ২১ শতাংশ। পরের স্থানটি রয়েছে জেড গ্রুপের আর এক প্রতিষ্ঠান জিএসপি ফাইন্যান্স। ২০১৮ সালের পর বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ দিতে না পারা এই কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে ২১ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
অর্থ-বাণিজ্য: ভারতের অধিকাংশ পণ্যে জিএসপি সুবিধা স্থগিত করেছে ইইউ
অর্থ-বাণিজ্য: বাজার মূলধন বাড়লো ৬ হাজার কোটি টাকা
অর্থ-বাণিজ্য: পোশাক খাত নিয়ে সংকট, উদ্বিঘœ ব্যবসায়িরা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: গ্লোবাল স্কলার্স অলিম্পিয়াডের গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামে এজেন্টিক এআই