২০২৬ সালের শুরুতেই বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি প্রবাস আয়ে বা রেমিট্যান্স প্রবাহে ব্যাপক গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি জানুয়ারি মাসের প্রথম ২১ দিনেই দেশে ২ দশমিক ৩৩ বিলিয়নের বেশি, অর্থাৎ ২৩৩ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
রবিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রবাহ অব্যাহত থাকলে চলতি মাস শেষে মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে দেশের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়তে পারে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহে এবার প্রায় ৫৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে আরও শক্তিশালী করবে।
রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে বরাবরের মতোই শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE)। জানুয়ারির এই রেকর্ডে দুবাই এবং আবুধাবিতে কর্মরত প্রবাসীদের অবদান সবচেয়ে বেশি। এরপরের অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে যুক্তরাজ্য (UK) এবং সৌদি আরব। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র এবং ইতালি থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহে গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জানুয়ারির প্রথম ২১ দিনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১১ কোটি ১০ লাখ ডলার করে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এর আগে গত ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল, যা ছিল দেশের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সেই ধারা বজায় রেখে জানুয়ারিতেও প্রবাসীদের টাকা পাঠানোর আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। মূলত বৈধ পথে বা ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে সরকারের পক্ষ থেকে ইনসেনটিভ বা বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং হুন্ডি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করায় প্রবাসীরা বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত হচ্ছেন। এছাড়াও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বা ডলারের রেট স্থিতিশীল হওয়াকে এই ইতিবাচক পরিবর্তনের একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রেমিট্যান্সের এই প্রবাহকে দীর্ঘমেয়াদী করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়াকে আরও সহজতর করেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসছে বলে জানা গেছে।
ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রবাস আয়ের এই জোয়ার ২০২৬ সালের জাতীয় অর্থনীতির জন্য এক বড় স্বস্তি বয়ে আনছে। রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারলে আসন্ন রমজান ও ঈদ মৌসুমে দেশের বাজারে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিত্যপণ্যের আমদানি ব্যয় মেটানো সহজ হবে।
বর্তমানে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকার ২.৫ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা প্রদান করছে। তবে অনেক বাণিজ্যিক ব্যাংক প্রবাসীদের উৎসাহিত করতে নিজস্ব পক্ষ থেকে আরও ২.৫ শতাংশ থেকে ৩.৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত বোনাস প্রদান করছে। ফলে বর্তমানে প্রবাসীরা ব্যাংকভেদে ৫ শতাংশ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো প্রবাসী ১ লাখ টাকা পাঠান, তবে তিনি প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতে পাচ্ছেন, যা হুন্ডির তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ ও লাভজনক।