মুনাফা না হলেও কর দেয়ার বাধ্যবাধকতা থাকায় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নানা অনুযোগ আসার কথা শোনালেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। এতে করে ব্যবসায়ীরা ‘অখুশি’ বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সোমবার, (২৬ জানুয়ারী ২০২৬) ঢাকার আগারগাঁওয়ে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবসের এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের ক্লায়েন্টরা অত্যন্ত বিরক্ত। তারা বলে যে, ‘আমরা যারা কমপ্লায়েন্ট ট্যাক্সপেয়ার, তাদের আপনারা প্রতিনিয়ত আরও বেশি ট্যাক্স দেয়ার জন্য চাপাচাপি করেন এবং আপনারা আমরা যারা ব্যবসা করছি, নানাভাবে ব্যবসায়ে লাভ না হলেও আমাদের ট্যাক্স দিতে হয়।’ নানা কারণে তারা অখুশি।’
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে রেভিনিউ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কাজটা খুবই কঠিন এবং অপ্রিয়। এখানে বন্ধু কেউ নাই। সরকার সারাজীবন বলছে যে, আমরা পর্যাপ্ত রেভিনিউ দিতে পারি না, কারণ আমাদের প্রতিবছরই ঘাটতি দেখা দেয় এবং ঘাটতির পরিমাণ বিশাল। এটার জন্য আমাদের বিদেশ থেকে ঋণ করতে হয়। সুতরাং এটার দোষও রেভিনিউ ডিপার্টমেন্টের।’
শুল্ক অনুবিভাগের সেবা প্রদানে নানা সমস্যার অভিযোগও শুনতে হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই ধরনের মন্তব্য আসে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানের কাছ থেকেও। তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক বেশি ট্যারিফ ব্যারিয়ার তো আছেই, কিন্তু সেটার কথা এখন মানুষ বলে না। ফেসিলিটেশন বলতে আসলে নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ারকে অপসারণের কথাই বেশি বলা হয়। সোমবার ও আমাদের মন্ত্রণালয়ে আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন কমিশনের অ্যাম্বাসেডর, বাংলাদেশে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রতিনিধি যিনি, আসছিলেন। তো তাদের কনসার্ন কিন্তু ‘মোস্টলি নট অন ট্যারিফ ব্যারিয়ার্স। বাংলাদেশ কিন্তু সর্বোচ্চ ‘ট্যারিফ ব্যারিয়ার্স’ এর একটা দেশ। কিন্তু মানুষ ‘ট্যারিফ ব্যারিয়ারকে’ অপসারণ করতে বলছে না। কারণ এটা বৈধ ব্যারিয়ার।’
অনুষ্ঠানে দেশের ৯টি প্রতিষ্ঠানকে অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর (এইও) সনদ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক বিভাগ। ফলে এসব কোম্পানি কাস্টমসের প্রক্রিয়া সম্পাদনের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাবে।
এই সনদের আওতায় প্রতিষ্ঠানগুলো কাস্টম হাউস বা শুল্ক স্টেশনের পরিবর্তে নিজস্ব আঙিনায় পণ্যের চালানের কায়িক পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ পাবে। জাহাজ বা উড়োজাহাজ থেকে কিংবা সীমান্তের অন্যপ্রান্ত থেকে পণ্য খালাস হয়ে সরাসরি চলে যাবে আমদানিকারকের গুদামে। এছাড়া বন্দরে পণ্য আসার আগেই বিল অব এন্ট্রি দাখিলসহ শুল্কায়নের কাজ শেষ করার সুযোগ থাকছে। এর আগে ১২টি প্রতিষ্ঠান এ সনদ পেয়েছিল। নতুন করে পাওয়া নয়টি প্রতিষ্ঠান হলো- হাতিল ফার্নিচার, এশিয়ান পেইন্ট, বিআরবি কেবল, ফুট স্টেপ বাংলাদেশ লিমিটেড, ওমেরা সিলিন্ডার, জিহান ফুটওয়ার, সুনিভার ফুটওয়ার, কাটিং এজ, এমবিএম গার্মেন্টস লিমিটেড। এছাড়া ১৭ কর্মকর্তাকে ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশনের সার্টিফিকেট অব মেরিট সম্মাননা দেয়া হয় অনুষ্ঠানে।