image

পোশাকসহ ৫ খাতের কাঁচামাল আনা যাবে বিনা শুল্কে

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

নতুন আমদানি নীতি আদেশ জারি হলে আমদানি পণ্য দ্রুত খালাস হবে। আর যেসব ক্ষেত্রে পণ্য পরীক্ষা করতে হয়, সেগুলোর পরীক্ষার ফলাফল প্রথমবার বিরূপ হলে দ্বিতীয়বারও পরীক্ষা করা যাবে। এ রকম লক্ষ্য নিয়ে তিন বছর মেয়াদি নতুন ‘আমদানি নীতি আদেশ, ২০২৫-২৭’-এর খসড়া গতকাল বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুমোদিত হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

রপ্তানি সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য শতভাগ রপ্তানিমুখী কয়েকটি খাতের জন্য বিনা শুল্কে কাঁচামাল আমদানির বিধান নতুনভাবে যুক্ত করা হয়েছে বলে সারসংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা, জাহাজ নির্মাণ, ফার্নিচার ও ফার্নিসিং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্য উৎপাদনে প্রয়োজনীয় উপকরণ বা কাঁচামাল বিনা শুল্কে আমদানি করতে পারবে।

উপদেষ্টা পরিষদে উপস্থাপনের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তৈরি সারসংক্ষেপে নতুন আমদানি নীতি আদেশের কিছু বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে।

এগুলো হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উদারীকরণের লক্ষ্যে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী আমদানি পণ্য দ্রুত খালাস, এ–সংক্রান্ত শুল্কায়ন ও শুল্ককর ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে আদায়, আমদানি পণ্য খালাসে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও খালাসোত্তর নিরীক্ষার বিধান অনুসরণ, আমদানি পণ্য পরীক্ষার ফলাফল প্রথমবার বিরূপ হলে দ্বিতীয়বারও পরীক্ষা করা ইত্যাদি।

সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, রপ্তানি সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য শতভাগ রপ্তানিমুখী কয়েকটি খাতের জন্য বিনা শুল্কে কাঁচামাল আমদানির বিধান নতুনভাবে যুক্ত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা, জাহাজ নির্মাণ, ফার্নিচার ও ফার্নিসিং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্য উৎপাদনে প্রয়োজনীয় উপকরণ বা কাঁচামাল বিনা শুল্কে আমদানি করতে পারবে।

নতুন আমদানি নীতিমালা আদেশের খসড়ায় অবশ্য ২৭ ধরনের পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ তালিকায় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চিংড়ি, জীবিত শূকর ও শূকরজাত সব ধরনের পণ্য, পপি সিড ও পোস্তদানা, ঘাস, ওয়াইন লিজ ও আরগোল, ঘন চিনি, কৃত্রিম শর্ষের তেল, নিম্নমানের পণ্য অথবা পুরোনো, ব্যবহৃত, রিকন্ডিশন্ড পণ্য বা কারখানায় বাতিল করা বা স্টক লটের পণ্য। আরও আছে রিকন্ডিশন্ড অফিস ইকুইপমেন্ট, অর্থাৎ ফটোকপিয়ার, টাইপরাইটার, টেলেক্স, ফোন, ফ্যাক্স, পুরোনো কম্পিউটার, কম্পিউটার সামগ্রী ও পুরোনো ইলেকট্রনিক সামগ্রী; সব ধরনের শিল্প স্লাজ ও স্লাজ দিয়ে তৈরি সার ও যেকোনো পণ্য, সব ধরনের বর্জ্য পদার্থ।

‘স্টকহোম কনভেনশন অন পারসিসট্যান্ট অর্গানিক পলিউটনেসের (পিওপি)’ আওতাধীন বিভিন্ন রাসায়নিক কীটনাশক ও শিল্পজাত দ্রব্যের আমদানিও নিষিদ্ধ। এসব দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে এলড্রিন, ক্লোরডেন, ডিডিটি, ডাই-এলড্রিন, এনড্রিন, হেপ্টাক্লোর, মিরেক্স, টক্সফেন, হেক্সক্লোরোবেনজিন, পলিক্লোরিনেটেড বাই-ফিনাইল; হাইড্রোলিক হর্নসহ ৭৫ ডেসিবেলের বেশি মাত্রার সব হর্ন; পলিপ্রপিলিন ও পলিথিন ব্যাগ; দুই স্ট্রোক ইঞ্জিন ও চেসিসবিশিষ্ট থ্রি-হুইলার যানবাহন, অর্থাৎ টেম্পো, অটোরিকশা ইত্যাদি।

বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তরের প্রকাশিত মানচিত্র অনুযায়ী, দেশের সীমারেখা দেখানো হয়নি এমন মানচিত্র, চার্ট ও ভৌগোলিক গ্লোব; হরর কমিকস, অশ্লীল ও নাশকতামূলক সাহিত্য পুস্তিকা, সংবাদ সাময়িকী; পোস্টার, ফটো, ফিল্ম, কাগজপত্র, অডিও-ভিডিও টেপ ইত্যাদি পণ্যও আমদানি নিষিদ্ধ তালিকায় রয়েছে।

আবার কিছু পণ্য নিষিদ্ধ না হলেও শর্তপূরণ সাপেক্ষে বা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে আমদানি করা যাবে।

এর মধ্যে রয়েছে ফার্নেস তেল, সাড়ে চার সেন্টিমিটারের কম ব্যাস বা দৈর্ঘ্যের মাছ ধরার কারেন্ট জাল, পাঁচ বছরের অধিক পুরোনো গাড়ি, তিন বছরের বেশি পুরোনো ও ১৬৫ সিসির ঊর্ধ্বে সব ধরনের মোটরসাইকেলসহ এলএনজি ও লিকুইফাইড প্রপেন ও বিউটেনস ছাড়া পেট্রোলিয়াম গ্যাস ও অন্যান্য গ্যাসীয় হাইড্রো-কার্বন এবং পেট্রোলিয়াম কোক ও পেট্রোলিয়াম বিটুমিন ছাড়া পেট্রোলিয়াম তেলের রেসিডিউ। এয়ারগান, এয়াররাইফেল, এয়ার পিস্তল আমদানি করা যাবে না। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্রের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তা আমদানি করতে পারবে।

‘অর্থ-বাণিজ্য’ : আরও খবর

» বর্তমান সরকারের আমলে কলেজে একটি বদলি করতে ৮ লাখ টাকা দিতে হয়: পরিকল্পনা উপদেষ্টা

সম্প্রতি