image

সবজির দাম স্থিতিশীল, বেড়েছে ডাল ও পোলাও চালের দাম

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

শীতের শেষদিকে সহজলভ্য হয়েছে অধিকাংশ সবজি। এতে দামও কিছুটা স্বাভাবিক রয়েছে। বাজারে অধিকাংশ সবজি ৩০-৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে ফুলকপি ও বাধাকপি প্রতি পিস ৩০-৪০ টাকা, শিম প্রকারভেদে প্রতি কেজি ৩০-৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কুমড়া, মুলা, পেঁপে, শালগম, ব্রকলিসহ বেশকিছু সবজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকার নিচে।

একই সঙ্গে বাজারে পেঁয়াজের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। অন্যদিকে দাম বেড়েছে ছোট দানার মসুর ডাল, লেবু ও পোলাওয়ের চালের। তবে মিনিকেট চাল আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকায়। এছাড়া, শালগম প্রতি কেজি ৬০ টাকা, গোল বেগুন প্রতি কেজি ৮০ টাকা, পেঁয়াজের ফুল প্রতি মুঠো ২০ টাকা, মুলা প্রতি কেজি ৫০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৮০ টাকা এবং গাজর প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যান্য সবজির মধ্যে কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ১৬০-১৮০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ৮০-১০০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। জাতভেদে শিম প্রতি কেজি ৪০-৮০ টাকা, আলু প্রতি কেজি ৩০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ৩০-৫০ টাকা, বাঁধাকপি প্রতি পিস ৩০ টাকা এবং ব্রকলি প্রতি পিস ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শুক্রবার, (৩০ জানুয়ারী ২০২৬) কেজিতে ৫-১০ টাকা কমে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকায়।

গত দুই সপ্তাহ দুয়েক ধরে কিছুটা চড়া দামে স্থিতিশীল হয়ে আছে ব্রয়লার মুরগির দাম। শুক্রবার প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৮০-১৮৫ টাকার মধ্যে। যদিও জানুয়ারির শুরুতে তা বিক্রি হয়েছে ১৬৫-১৭৫ টাকায়। প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বাজারভেদে ১১০-১২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে।

বাজারে শুক্রবার মানভেদে প্রতি কেজি আদা ও রসুন ১৪০-২২০ টাকায়, চিনি ৯৮-১০৫ টাকায়, ছোলা ৮০-১০০ টাকায়, গরু মাংস ৭৫০-৮৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শুক্রবার প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫০-৫৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে দাম ছিল ৬০-৬৫ টাকা। অর্থাৎ, সপ্তাহের ব্যবধানে দাম কমেছে ১০ টাকা। বিক্রেতারা জানান, বাজারে এখন মূলত নতুন পেঁয়াজই বেশি বিক্রি হচ্ছে। সম্প্রতি পাবনার সাঁথিয়া, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন উৎপাদনস্থলে নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে। এতে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দাম কমেছে।

বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কিছুটা কমেছে। মুদি পণ্যের বিক্রেতারা জানিয়েছেন, কয়েকদিন ধরে সরবরাহকারীদের (ডিলার) কাছ থেকে চাহিদামতো সয়াবিন তেল পাচ্ছেন না খুচরা বিক্রেতারা। তবে দাম বাড়েনি। শুক্রবার বাজারে ছোট দানার মসুর ডাল ১৬০-১৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তিন সপ্তাহ আগে এ দাম কেজিতে ২০ টাকা কম ছিল। অবশ্য মোটা দানার মসুরের দাম কেজিতে ৫ টাকা কমে ৮৫-৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রোজা সামনে রেখে সুগন্ধি বা পোলাওয়ের চালের দাম বাড়িয়েছেন সরবরাহকারীরা। সুগন্ধি চালের প্যাকেটজাত প্রতি কেজি সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১৭৫ টাকা ধরে দিয়েছে সরবরাহকারীরা যা গত সপ্তাহে ছিল ১৬০ টাকার মধ্যে। বিক্রেতারা বলছেন, রোজা ও ঈদে বাড়তি চাহিদাকে কেন্দ্র করে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সুগন্ধি চালের দাম বাড়িয়েছেন।

বাজারে দেশি ও আমদানি করা দুই ধরনের নাজিরশাইল চাল বিক্রি হয়। এর মধ্যে আমদানি করা নাজির চালের দাম কেজিতে প্রায় ৫ টাকা কমেছে। শুক্রবার এ চাল বিক্রি হয়েছে ৭৫-৮০ টাকা দরে। এক সপ্তাহ আগে যার দাম ছিল ৮০-৮৫ টাকা। তবে দেশি নাজিরশাইলের দাম ৮৫ টাকার আশপাশে। বিক্রেতারা জানান, বাজারে দেশি নতুন নাজিরশাইল চাল এলে দাম আরও কমবে।

অবশ্য মিনিকেট চালের দাম কমেনি। অর্থাৎ আগের দামেই তা স্থিতিশীল রয়েছে। মিনিকেট চালের মধ্যে প্রতি কেজি রশিদ ৭২-৭৩ টাকা, সাগর ও মঞ্জুর ৮০-৮২ টাকা, ডায়মন্ড ৮৫ টাকা এবং মোজাম্মেল চাল ৮৫-৮৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে এক মাসের ব্যবধানে পোলাওয়ের চালের দাম কেজিতে প্রায় ২৫ টাকা বেড়েছে।

‘অর্থ-বাণিজ্য’ : আরও খবর

সম্প্রতি