চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ডাকা কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিন রোববার, (০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) ও বন্দরের পরিচালন কার্যক্রমে প্রায় অচলাবস্থা চলছে। সকাল আটটা থেকে বন্দর জেটিতে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানো-নামানোর কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এনসিটি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গতকাল শনিবার থেকে দুই দিনব্যাপী আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন রোববার আটটা থেকে আট ঘণ্টা পরিচালন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।
এ পরিস্থিতিতে রোববার রাত সাড়ে ১১টায় গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ বন্দর এলাকায় মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে আগামী ২ মার্চ পর্যন্ত এক মাসের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তবে সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। এ আদেশ না মানলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে হুঁশিয়ার করা হয়। গণবিজ্ঞপ্তি জারির পর রোববার সকালে বন্দর ভবন এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে আজ সকাল আটটায় কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর বন্দরের জিসিবি টার্মিনালে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে। সিসিটি ও এনসিটিতে সীমিত আকারে পরিচালন কার্যক্রম চলছে। অন্যদিকে প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকেও কর্মচারীরা বিরত রয়েছেন।
বন্দর জেটি ও টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বার্থ অপারেটরস, শিপহ্যান্ডলিং অপারেটরস অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বোটসোয়া) সভাপতি ফজলে একরাম চৌধুরী বলেন, ‘সকাল আটটা থেকে শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দেওয়ায় জিসিবি টার্মিনালে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ ব্যাহত হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।’