সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন দ্বিগুণ বা তার বেশি বাড়ানোর যে সুপারিশ করেছে নবম জাতীয় বেতন কমিশন তা বাস্তবায়নের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার অর্থ বরাদ্দ করে যাওয়ার কথা বলেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। পে কমিশন যে সুপারিশ দিয়েছে, তা পরীক্ষা করার জন্য কমিটি করে দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
গত মঙ্গলবার সচিবালয়ের সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘পে-কমিশন নিয়ে আপনাদের অনেক প্রশ্ন। একটা ভালো ইসে, বলছি যে পে-কমিশনটা আমরা এক্সামিন করার জন্য একটা কমিটি করে দিয়ে যাব। বাজেট যে ফেজওয়াইজ করবে সেটাও আমরা করে যাব।
দিয়ে যাব টাকা পয়সা, তারপর বলে যাব রেকমেন্ডেশন। রেকমেন্ডেশন রিপোর্ট অত্যন্ত ভালো রিপোর্ট হয়েছে। আশা করি এটা সফল হবে।’
সরকার কেন তাহলে প্রজ্ঞাপন জারি করছে না? জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘গেজেট করা সোজা নাকি? গেজেট করতে হলে তো ইমপ্লিমেন্টেশনে বলতে হবে, কোনটা কত দেব। মোট কথা আমরা এটাকে ইমপ্লিমেন্ট করার জন্য একটা কমিটি করে দিয়ে যাচ্ছি।’
সর্বনি¤œ মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন স্কেল ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে নবম জাতীয় বেতন কমিশন। কমিশন বর্তমানের মতোই সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০টি স্কেলে বেতন সুপারিশ করেছে। ২১ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে কমিশন তাদের প্রতিবেদন হস্তান্তর করে।
এসময় কমিশনপ্রধান বলেন, ‘প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে এক লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।’ বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের ব্যয় হচ্ছে এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
প্রতিবেদন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী, অর্থ সচিব খায়রুজ্জামান মজুমদারসহ কমিশনের সব সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদন হস্তান্তরের সময় অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘এই প্রস্তাব বাস্তবায়নই এখন পরবর্তী কাজ। এ লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হবে, যে কমিটি বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করবে।’ ২০১৩ সালে অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের পর দীর্ঘ ১২ বছর পর এই কমিশন গঠিত হয়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর বিলুপ্তি করে রাজস্ব নীতি বিভাগ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ অধ্যাদেশের চূড়ান্ত অনুমোদনের পরেও এর বাস্তবায়নে প্রশাসন ক্যাডারের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে। তাদের সংগঠন এ বিভাগ করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান ‘রুল অফ বিজনেস’ ও ‘রুল অফ এলোকেশন’ অমান্য করার অভিযোগ তুলেছে।
এ নিয়ে অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করে তাদের অসন্তোষের কথা বলে এসেছে বলে সংবাদমাধ্যম প্রচার করেছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘রাজস্ব নীতি ভাগ নিয়ে আমি বলি, সমস্ত প্রসিডিউর হয়ে গেছে। কিন্তু রুলস অফ বিজনেস, ম্যানপাওয়ার প্ল্যানিং এগুলো একটু বাকি আছে। সেটা হয়তো কয়েকদিনের মধ্যে আমরা করে ফেলতে পারব। কিন্তু আইনের কোনো ইসে নাই বাকি নেই।’
এ সরকারই তা করে যেতে পারবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সালেহউদ্দিন বলেন, ‘এই সরকারের মধ্যেই হবে। আমার তো এখন খালি অর্গানোগ্রাম, সেটাতো আর চিফ অ্যাডভাইজারের কাছে যেতে হবে না। মোপা (জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়) আর ফাইন্যান্স মিনিস্ট্রি বসে ঠিক করবে।’
সচিবদের সংগঠন থেকে এটাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সে ব্যাপারে আমি কিছু বলব না। বাধা দিলে তো এই বাধা আমরা থামাব।
আমরা মনে করি এটা খুব র্যাশনাল জিনিস। সবাই বোঝে এটা ভালো জিনিস। এটা না করলে বাংলাদেশের রাজস্ব সেক্টরে কালেকশন আর পলিসিতে কোনো উন্নতি হবে না।’
২০ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১১৯তম সভায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতায় রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুটি বিভাগ গঠনের প্রস্তাবে সায় দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।
এটিই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিকারের প্রথম সভা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলছে, রাজস্ব আদায় ব্যবস্থায় ‘স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা’ বাড়াতে ‘রাজস্ব নীতি বিভাগ’ ও ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ’ নামে দুটি প্রশাসনিক বিভাগ গঠনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।
বর্তমানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের আওতায় রয়েছে। আলদা বিভাগ হওয়ার পর সংস্থাটি রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগে রূপান্তর হবে। আর সামস্টিক অর্থনীতি, বাণিজ্য নীতি, পরিকল্পনা, রাজস্ব নীতি বা রাজস্ব ব্যবস্থাপনা কাজে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোনো সরকারি কর্মকতার নেতৃত্বে পরিচালিত হবে রাজস্ব নীতি বিভাগ।