আন্দোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৬ জনকে বদলি
চট্টগ্রামবন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে ডাকা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে বন্দরের সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম। বহির্নোঙ্গর থেকে বন্দরের জেটিতে জাহাজ আসা-যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। জেটিতে আটকে আছে পণ্য খালাসের জন্য আসা জাহাজ। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) আরব-আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ, আন্দোলন উহ্য করতে শ্রমিক-কর্মচারীদের হয়রানি, দমনপীড়ন বন্ধের দাবিতে বুধবার, (০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। আন্দোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৬ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে বদলির আদেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
গত মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে চট্টগ্রামবন্দর রক্ষা পরিষদের ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি দেয়া হলেও ইতোমধ্যেই অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচি ঘোষণা করায় লাগাতার অচলাবস্থা তৈরি হল বন্দরে। টানা কর্মবিরতের কারণে গত কয়েকদিন ধরে চট্টগ্রামবন্দরে সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ আছে। শ্রমিক-কর্মচারীরা কেউ কাজে যোগ দেননি। বন্দরের তিনটি টার্মিনাল জিসিবি, সিসিটি ও এনসিটিসহ সব জেটিতে অপারেশাল কার্যক্রম বন্ধ আছে। তিন টার্মিনালে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে পণ্য খালাসের জন্য আসা জাহাজগুলো ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে। কনটেইনার টার্মিনালগুলোতে যন্ত্রপাতির অপারেটররাও কাজে যোগ দেননি। বন্দরে পণ্য পরিবহনকারী যানবাহন প্রবেশ বন্ধ আছে। ইয়ার্ড থেকে কনটেইনার ও পণ্য খালাস হচ্ছে না। ১৯টি অফডক থেকে বন্দরে কনটেইনার পরিবহনও বন্ধ আছে।
বন্দর সূত্র জানায়, কর্মবিরতির সমর্থনে ডক শ্রমিকরাও ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। এর ফলে নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় পাইলটরা বহির্নোঙ্গরে যেতে পারছেন না। এতে বহির্নোঙ্গর থেকে জেটিতে জাহাজ আসা বন্ধ আছে। জেটিতে এবং বহির্নোঙ্গরে অন্তত ৯টি জাহাজ পণ্য খালাসের জন্য অপেক্ষমাণ আছে বলে সূত্র জানায়।
গত ৩১ জানুয়ারি ও গত রোববার দুইদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রামবন্দরে কর্মবিরতি পালন করে বিএনপিপন্থি দুই সংগঠন চট্টগ্রামবন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী সাবেক সিবিএ। তৃতীয়দিনে ২ ফেব্রুয়ারি ‘চট্টগ্রামবন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’র ডাকে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালিত হয়। তিন দিনই কর্মবিরতি চলাকালে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকাংশই কাজে যোগ দেননি। এর ফলে প্রায় সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয় চট্টগ্রামবন্দরে। এ অবস্থায় সোমবার নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক অফিস আদেশে ১৫ জনকে বদলির সুপারিশ করা হয়, যাদের মধ্যে আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকা বিএনপিপন্থি দুই শ্রমিক নেতাও আছেন। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. বেলায়েত হোসেনের সই করা আদেশে দাপ্তরিক প্রয়োজনে বদলিপূর্বক সংযুক্তি প্রদান করার কথা জানানো হয়। এরমধ্যে ৮ জনকে পায়রা বন্দরে এবং ৭ জনকে মোংলা বন্দরে বদলি করা হয়। বদলি-হয়রানির প্রতিবাদে এবং এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে গত মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতির ডাক দেয়া হয়। ওই কর্মসূচি শেষ হওয়ার আগেই ৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন লাগাতার কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করেন। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নাম দেয়া হলেও প্রকৃতপক্ষে আন্দোলনে যারা নেতৃত্বে দিচ্ছে তারা অধিকাংশ বিএনপির শ্রমিক সংগঠন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক নুরুল্লাহ বাহার ও নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস, কে খোদা তোতনকে নেতৃত্বে দিতে দেখা যাচ্ছে কর্মসূচি ঘোষণার সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামবন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতারা- মো. হুমায়ুন কবীর, মোজাহের হোসেন শওকত, আনোয়ারুল আজিম রিংকু, আবুল কালাম আজাদ, আবদুর রউফ লিটন, শেখ ছানুয়ার মিয়া, শামসুর রহমান স্বপন, আকতার হোসেন, মঞ্জুরুল পারভেজ সুমনসহ আরও অনেকে। আন্দোলন প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, এনসিটি ইজারা দেয়ার প্রক্রিয়া থেকে সরকার যাতে সরে আসে, সেজন্য এই আন্দোলন কর্মসূচি। শ্রমিক-কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলন চালিয়ে গেলেও বিষয়টি সমাধানে সরকার থেকে কোনো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না, বন্দর কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের শান্ত করার মতো কোনো আশ্বাস এবং বক্তব্যও দিচ্ছে না এবং কেউ সান্ত¦না পর্যন্তও দিচ্ছে না।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সার্বিক বিষয় জানার জন্য চট্টগ্রামবন্দর পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ওমর ফারুকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও মোবাইলে পাওয়া যায়নি।
সারাদেশ: শবে বরাত পালিত