image
রমজান সামনে রেখে বেড়েছে খেজুরের চাহিদা। খেজুরের পসরা সাজিয়ে বসে আছেন বিক্রেতারা -সংগৃহীত

শীতের শেষে বাড়লো সবজির দাম, রোজার আগে খেজুরের

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

শীত মৌসুম প্রায় শেষ দিকে চলে আসায় রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে শীতকালীন সবজির সরবরাহ কমতে শুরু করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দামে। সরবরাহ সংকটের কারণে মৌসুমের শেষে সবজির দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে।

রোজার আগে বেড়েছে খেজুর, ছোলা ও বিভিন্ন ফলের দাম

সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে মুরগির দাম

ডিমের দাম কিছুটা কমেছে

রমজান মাস শুরু হতে আর বাকি কয়েকটা দিন। কমবেশি রোজার পণ্য কেনা শুরু করেছেন ভোক্তারা। এরমধ্যেই রোজার অন্যতম পণ্য খেজুরের দাম বাড়তে শুরু করেছে। শুক্রবার, (০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

শুক্রবার কারওয়ান বাজারে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া শিম শুক্রবার বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা দরে। শসার দামও বাড়তি। দুই দিন আগে যে শসা ৪০-৫০ টাকায় পাওয়া যেত, শুক্রবার তা বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকায়।

এছাড়া শুক্রবার অন্যান্য সবজির মধ্যে প্রতি কেজি মুলা ৪০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, শালগম ৪০-৫০ টাকা, উস্তে ১২০ টাকা, কাঁচামরিচ ১০০ টাকা, আলু ২০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, গাজর ৪০ টাকা এবং ধনেপাতা ৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। বাঁধাকপি প্রতিটি ৪০ টাকা এবং ফুলকপি গত সপ্তাহের তুলনায় ১০ টাকা বেড়ে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি পিস লাউ ৫০ টাকা এবং লাল শাক ও পালংশাক প্রতি আঁটি ১০ টাকা করে বিক্রি হয়েছে।

মাছের বাজারেও ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠছে। শুক্রবার আকার অনুযায়ী প্রতি কেজি রুই মাছ ৩৬০-৪০০ টাকা, কাতল মাছ ৩০০-৩২০ টাকা এবং কার্প মাছ ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া পাঙ্গাশ ১৭০-১৯০ টাকা, পাবদা ৩৫০ টাকা এবং তেলাপিয়া ১৬০-১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

কয়েক সপ্তাহ কম দাম থাকার পরে গত সপ্তাহ ধরে বাজারে মুরগির দাম বেড়েছে। শুক্রবার প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৮০-১৯০ টাকার মধ্যে যা আগে কেজিপ্রতি ১০ টাকা কম ছিল। একইসঙ্গে সোনালি মুরগির দাম বেড়ে প্রতি কেজি ৩২০-৩৩০ টাকা বিক্রি হয়েছে। শবে বরাতের আগে ২৮০-৩০০ টাকা ছিল এসব মুরগি।

তবে ডিমের দাম আরও কমেছে। শুক্রবার প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হয়েছে ১০৫-১১৫ টাকার মধ্যে।

ছোলার দামও বেড়েছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মানভেদে ছোলার কেজি বিক্রি হয়েছে ৮০-১০০ টাকায়। মাসখানেক আগে ছোলার কেজি ছিল ৯০-১১০ টাকা। এক বছর আগে দাম আরও বেশি ছিল। গত বছরের এ সময় প্রতি কেজি ছোলা কিনতে ভোক্তার খরচ করতে হয়েছিল ১১৫-১৩০ টাকা।

এছাড়া প্রতি কেজি অ্যাংকর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকায়। গত বছরের একই সময় এ ধরনের ডালের কেজি বিক্রি হয়েছিল ৭০-৮৫ টাকা। বড় দানার মসুর ডালের কেজি গত বছরের এ সময় ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন কেনা যাচ্ছে ৯০-১০০ টাকায়।

একই পরিস্থিতি রয়েছে চিনির বাজারে। একমাস আগে চিনির কেজি ১০০- ১১০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন কেনা যাচ্ছে ১০০-১০৫ টাকায়। গত বছরের এ সময় এক কেজি চিনি কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হয়েছিল ১২০-১২৫ টাকা।

পেঁয়াজের বাজারও কিছুটা স্বাভাবিক। মাত্রই মৌসুমের পেঁয়াজ বাজারে আসা শুরু করেছে এ কারণে দামও সহনীয়। প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

ভোজ্যতেলের বর্তমানে বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১৯০-১৯৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন ১৭৫-১৮৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া প্রতি লিটার খোলা পাম অয়েল বিক্রি হয়েছে ১৫৫-১৬২ টাকায়।

এরমধ্যেই রোজার অন্যতম পণ্য খেজুরের দাম বাড়তে শুরু করেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ধরনভেদে খেজুরের দাম প্রতি কেজি ২০-৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পাইকারি বিক্রেতারা জানান, খেজুরের আমদানি ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। পাইকারিতে দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই।

তবে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তারা পাইকারি থেকে বেশি দামে কিনছেন, তাই ভোক্তাদের কাছেও আগের চেয়ে বেশি দামে খেজুর বিক্রি করতে হচ্ছে। আর শুল্ক বেশি থাকায় ফলের দাম অনেক দিন ধরেই চড়া।

সাধারণত রোজার সময় লোকজন ইফতারে খেজুর খেয়ে থাকেন। তাই এ সময় বাজারে খেজুরের চাহিদা অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি থাকে। বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৯০-৯৫ হাজার টন খেজুরের চাহিদা রয়েছে। এরমধ্যে রোজার সময় বিক্রি হয় চাহিদার ৭০ শতাংশ খেজুর।

রমজান মাসে খেজুরের সরবরাহ ও বাজারমূল্য স্বাভাবিক রাখতে গত ডিসেম্বর মাসে খেজুরের আমদানি শুল্ক ২৫ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করে সরকার। গত বুধবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি বাজারে বিক্রেতাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে খেজুরের সরবরাহ রয়েছে। তবে দাম বাড়ায় ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন ক্রেতারা।

বর্তমানে বাজারে কম দামে বিক্রি হয় জাহিদী খেজুর, কেজি ২৮০ টাকা। এই খেজুরের দাম সপ্তাহখানেক আগে ছিল ২৫০ টাকার আশপাশে। শুক্রবার অন্যান্য ধরনের মধ্যে বরই খেজুর ৪৮০-৫০০ টাকা, দাবাস ৫০০ টাকা, কালমি ৬০০-৭০০ টাকা; সুক্কারি ৭০০-৮০০ টাকা, মাবরুম ৮৫০-১ হাজার ২০০ টাকা, মরিয়ম ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, মেডজুল ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বিক্রেতারা জানান, এক সপ্তাহের ব্যবধানে এসব খেজুরের দাম কেজিতে ২০-৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বিভিন্ন ধরনের ফলের দামও কিছুটা বেড়েছে। রোজার সময় ইফতারের জন্য বিভিন্ন ধরনের ফলের চাহিদা বাড়ে। গত এক মাসের মধ্যে আপেল, নাশপাতি, আনার, কমলার দাম কেজিতে ৪০-৫০ টাকা বেড়েছে।

‘অর্থ-বাণিজ্য’ : আরও খবর

সম্প্রতি