image

গ্যাসের অবৈধ ব্যবহার রোধে আইন সংশোধন, নতুন অধ্যাদেশ জারি

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

গ্যাসের অবৈধ ব্যবহার ও অপচয় রোধে ‘বাংলাদেশ গ্যাস আইন, ২০১০’ সংশোধন করে গত মঙ্গলবার নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে জারি করা এ অধ্যাদেশ অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এই অধ্যাদেশ জারি করেন। এতে বলা হয়, ‘‘সংসদ ভঙ্গ অবস্থায় থাকায় জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় রাষ্ট্রপতি সংবিধান অনুযায়ী এই অধ্যাদেশ জারি করেছেন।’’

নতুন সংজ্ঞা সংযোজন

সংশোধিত আইনে ‘প্ররোচনা’ শব্দের সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘‘কাউকে অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করতে উৎসাহ, প্রলুব্ধ বা সহায়তা করাও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।’’

অবৈধ গ্যাস ব্যবহারে কঠোর বিধান

সংশোধিত আইনে সরবরাহ লাইন থেকে অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার, অনুমোদিত সংখ্যার অতিরিক্ত চুলা ব্যবহার এবং মিটারযুক্ত সংযোগে নির্ধারিত লোডের বেশি গ্যাস ব্যবহারকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া ভবন বা ফ্ল্যাটের মালিক, গ্যাস বিতরণ কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা ঠিকাদার কেউ যদি অবৈধ গ্যাস ব্যবহারে সহায়তা করেন বা প্ররোচনা দেন, তবে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

শাস্তির মাত্রা নির্ধারণ

সংশোধিত আইনে বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকের জন্য পৃথক শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। গৃহস্থালি গ্রাহক অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করলে প্রথমবার সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড বা ২০ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে। একই অপরাধ পুনরায় করলে তিন থেকে ছয় মাস কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

বাণিজ্যিক গ্রাহকের ক্ষেত্রে প্রথম অপরাধে সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদণ্ড বা ৪০ হাজার টাকা জরিমানা এবং পুনরাবৃত্তিতে ছয় মাস থেকে এক বছর কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

শিল্প, সিএনজি স্টেশন, ক্যাপটিভ পাওয়ার ও চা বাগান শ্রেণির গ্রাহকদের ক্ষেত্রে প্রথম অপরাধে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা এবং পুনরাবৃত্তিতে এক থেকে তিন বছর কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ চার লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনকারী গ্রাহকদের ক্ষেত্রে শাস্তি আরও কঠোর করা হয়েছে। প্রথম অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা চার লাখ টাকা জরিমানা এবং পুনরাবৃত্তিতে দুই থেকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

মালিক ও ঠিকাদারদের দায়

অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট স্থাপনার মালিকদেরও জরিমানার আওতায় আনা হয়েছে। একইসঙ্গে অবৈধ সংযোগে জড়িত ঠিকাদারদের কালো তালিকাভুক্ত করার বিধান রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কমিশন সংক্রান্ত বিধান বাতিল

সংশোধিত আইনে গ্যাসবিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণে কমিশনের সঙ্গে আলোচনার বাধ্যবাধকতা সংক্রান্ত একটি বিধান বাতিল করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে গ্যাস চুরি ও অপচয় কমবে এবং গ্যাস ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি বাড়বে।

‘অর্থ-বাণিজ্য’ : আরও খবর

» ১ কেজি গরুর মাংসের জন্য ৪ ঘণ্টা অপেক্ষা

সম্প্রতি