সংসদ নির্বাচনের আগে ডিজিটাল ব্যাংক অনুমোদন করা হচ্ছে, এমন অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করার ঘটনায় তিন কর্মকর্তাকে কারণ দর্শাতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান মঙ্গলবার, (২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে তাদের কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। তারা উত্তর দিলে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।’
নোটিসপ্রাপ্তরা হলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল, ঢাকা এর সভাপতি এ কে এম মাসুম বিল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ, কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠন করা নীল দলের সাধারণ সম্পাদক ও এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের পরিচালক নওশাদ মোস্তফা। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, ১০ দিনের মধ্যে তার ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে নোটিসে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর সরকার গঠনের প্রক্রিয়ার মধ্যে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি জরুরি পর্ষদ সভা ডেকেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। পর্ষদ সভা শুরু হওয়ার আগেই বেলা ১২টায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতিঝিল অফিসের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল।
সেখানে সংগঠনটির সভাপতি একে এম মাসুম বিল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যখন নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ ও সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক সেই সময় মাত্র এক দিনের নোটিসে ১৬ ফেব্রুয়ারি একটি জরুরি পর্ষদ সভা ডাকা হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বচ্ছতা ও পেশাদারত্ব ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ সভার মূল উদ্দেশ্য একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া, যা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন ও উদ্বেগ রয়েছে। আমরা প্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসন চাই, কোনো ব্যক্তির নয়। স্বায়ত্তশাসন মানে এই নয় যে প্রতিষ্ঠানের প্রধান একনায়ক বা স্বৈরাচার হয়ে উঠবেন। আগে কথা না বললেও এখন চুপ থাকলে ভবিষ্যতে আবার প্রশ্ন উঠবে।’
নওশাদ মোস্তফা বলেন, ‘৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান না ঘটলে হয়ত আমরা এতটা খোলামেলা হতাম না।’
গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ বলেন, ‘ব্যাংক খাতে খেয়ালি বক্তব্য বন্ধ করে বস্তুনিষ্ঠ প্রক্রিয়ায় ব্যাংক রেজল্যুশন নিশ্চিত করতে হবে।’
কর্মকর্তাদের এমন আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের পরই এক অভ্যন্তরীণ আদেশ জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া কোনো কর্মচারী ব্যক্তিগতভাবে বা ঘরোয়া বৈঠকে, জনসভায়, সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকসংক্রান্ত বা নীতিমালার বিষয়ে বক্তব্য রাখতে পারবেন না। সেই সংবাদ সম্মেলনের জের ধরে এবার তিন কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হল।
নগর-মহানগর: গ্যাস সংকট নিরসনে তিতাসের সাথে ইশরাকের বৈঠক
অর্থ-বাণিজ্য: অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল প্রায় ৩৯ লাখ