image

বিদেশি ঋণের প্রবাহ কমলেও বেড়েছে কিস্তির চাপ

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

দেশের বৈদেশিক ঋণের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন চিত্র ফুটে উঠেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়া অর্থের তুলনায় কিস্তি বাবদ পরিশোধের পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে বাংলাদেশে ঋণের প্রবাহে বড় ধরনের স্থবিরতা ও পরিশোধের চাপে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রথমবারের মতো বিদেশি ঋণের ছাড় বা প্রাপ্তি থেকে কিস্তি পরিশোধের অংক বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে উন্নয়ন সহযোগীরা সব মিলিয়ে ২ দশমিক ৬৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থছাড় করেছে। তবে একই সময়ে আগের নেওয়া বিভিন্ন ঋণের আসল ও সুদ মিলিয়ে বাংলাদেশ পরিশোধ করেছে ২ দশমিক ৬৭৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ প্রাপ্তির তুলনায় প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ডলার বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ঋণ ছাড় কমেছে ৩২ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

অন্যদিকে, গত বছরের তুলনায় ঋণ পরিশোধের হার বেড়েছে ১০ শতাংশ।

ঋণ ছাড়ের পাশাপাশি নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রেও নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ২ দশমিক ২৭৪ বিলিয়ন ডলারের নতুন প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ২৬ শতাংশ কম।

গত অর্থবছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরকার পরিবর্তনের প্রভাবে উন্নয়ন সহযোগীদের আস্থার সংকটে প্রতিশ্রুতির গতি কমেছিলো। তবে বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় সামনের দিনগুলোতে এই প্রবাহ আবারও গতিশীল হবে।

দাতাগোষ্ঠী ও দেশগুলোর মধ্যে গত সাত মাসে সবচেয়ে বেশি ঋণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

সংস্থাটি থেকে ১ দশমিক ২৬৯ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে, যার পরেই রয়েছে বিশ্বব্যাংক।

তবে অর্থছাড়ের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে রাশিয়া। গত সাত মাসে দেশটি ৫৭৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড় করেছে।

এ ছাড়া এডিবি, বিশ্বব্যাংক, চীন ও জাপান উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থছাড় করলেও ভারত বা এআইআইবির মতো সংস্থাগুলো থেকে নতুন কোনো প্রতিশ্রুতির খবর পাওয়া যায়নি।

‘অর্থ-বাণিজ্য’ : আরও খবর

সম্প্রতি