দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এস. পল কাপুর মঙ্গলবার দুই দিনের এক গুরুত্বপূর্ণ সফরে ঢাকায় পা রাখছেন। তাঁর এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বিতর্কিত "আর্ট" (অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড) চুক্তি নিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে তুমুল বিতর্ক চলছে।
সোমবার (২ মার্চ) মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কাপুরের এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করা এবং নতুন সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো পর্যালোচনার টেবিলে আনা।
সফরের নেপথ্য প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগে তড়িঘড়ি করে স্বাক্ষরিত এই বাণিজ্য চুক্তিটি নিয়ে খোদ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেতরেই অস্বস্তি বিরাজ করছে। চুক্তির শর্তানুযায়ী বাণিজ্যে ভারসাম্য আনতে শুল্ক কাঠামো নির্ধারণ করা হলেও সম্প্রতি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক পাল্টা শুল্কারোপ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন গত ২৩ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পল কাপুরের সফরের রূপরেখা চূড়ান্ত করেছিলেন।
সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানাচ্ছে, বর্তমান মন্ত্রিসভার এক প্রভাবশালী মন্ত্রী এই চুক্তির আলোচনার সময় কঠোর ভিন্নমত পোষণ করেছিলেন এবং চুক্তির অনেকগুলো শর্তকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছিলেন।
বিশেষ করে চুক্তিতে থাকা "নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট" (এনডিএ) এবং চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা বা সামরিক ক্রয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বাধার বিষয়টি নীতিনির্ধারকদের ভাবিয়ে তুলছে।
অর্থনীতিবিদ ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় করা এই চুক্তিতে বাংলাদেশের দরকষাকষির সক্ষমতা যথেষ্ট প্রতিফলিত হয়নি এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। ডিএফসি তহবিলের মতো বিকল্প অর্থনৈতিক সুবিধা ব্যবহার না করে সরাসরি এমন একটি চুক্তিতে সই করা বাংলাদেশের সার্বভৌম অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। তবে পল কাপুরের এই সফরে ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার সম্ভাবনা রয়েছে।
মার্কিন বাণিজ্য দপ্তর অবশ্য আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানাচ্ছে যে, বিচারাধীন পরিস্থিতি সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসনের এই চুক্তিগুলো কার্যকর থাকবে। ফলে পল কাপুরের এই সফর কেবল সৌজন্যমূলক নয়, বরং বিতর্কিত এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার এক নতুন অগ্নিপরীক্ষা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
অর্থ-বাণিজ্য: সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মুসলিম চৌধুরীর পদত্যাগ
নগর-মহানগর: শুরু হলো ঈদ উৎসবের অগ্রিম টিকেট যুদ্ধ