১২ কেজির সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ১৩৪১ টাকা, বিক্রি ১৮০০
# দোকানদাররা ‘যার কাছ থেকে যেমন পারছেন’ দাম নিচ্ছেন: অভিযোগ ক্রেতার
# ব্যবসা ‘বেসরকারি খাতে তুলে দেওয়ার কারণে’ সংকট বাড়ছে: রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব
দেশে এলপি গ্যাসের বাজার সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। মার্চ মাসের জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বেসরকারি খাতের ১২ কেজি এলপি গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে ১ হাজার ৩৪১ টাকা। তবে খোলা বাজারে কোথাও এই দামে সিলিন্ডার পাচ্ছেন না ভোক্তারা।
দেশে বাসবাড়িতে রান্নায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলপি গ্যাস বা এলপিজি) ১২ কেজি সিলিন্ডার। এক যুগ আগে সরকার পাইপলাইনের গ্যাসের নতুন সংযোগ বন্ধ করে দিলে নতুন বাসাবাড়ির পাশপাশি রেস্তোরাঁগুলোও রান্না করতে এলপি গ্যাস ব্যবহার শুরু করে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিইআরসি নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দিয়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। খুচরা দোকানদারদের দাবি, তাদের ‘বেশি দামে’ গ্যাস আনতে হচ্ছে, তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
তবে বিষয়টি নতুন নয়। গত কয়েক মাস ধরে এলপি গ্যাসের দাম সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। জানুয়ারিতে দ্বিগুণ দাম দিয়েও গ্যাস কিনতে হয়েছে ভোক্তাদের। ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম উঠেছিল ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত। বিইআরসি ও সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর অভিযান পরিচালনা করে দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। তবে ফেব্রুয়ারিতেও দাম নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এখন মার্চেও একই অবস্থা।
এলপি গ্যাসের একজন ভোক্তা জাহিদুল ইসলাম। বাসায় ও নিজের ফাস্ট ফুডের দোকানে দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলপি গ্যাস ব্যবহার করছেন। গ্যাসের দাম নিয়ে মঙ্গলবার তার সঙ্গে কথা হয় সংবাদের। জানতে চাইলে তিনি বলেন, “গ্যাসের দাম তো ভাই একেক জায়গায় একেক রকম। আপনি মহল্লার দোকানে সিলিন্ডার কিনতে যাবেন, একেক জনের কাছে একেক রকম দাম রাখবে।”
১২ কেজির সিল্ডিারের এখন দাম কত- সংবাদের এই প্রশ্নের জবাবে জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমি মগবাজার থাকি। মহল্লার দোকানদার যারা আছেন, কেউ বলে ১৮০০ আবার কেউ ৫০ টাকা কম চায়। তবে কাওরান বাজার গেলে আরেকটু কম দাম পাওয়া যায়।”
জাহিদুল জানান, নিজের ফাস্ট ফুডের দোকানে তিনি ৩৩ কেজির সিলিন্ডার ব্যবহার করেন। বর্তমানে এই গ্যাসের দাম নিচ্ছে ৪ হাজার ৮০০ টাকা। অথচ, বিইআরসি মার্চ মাসের জন্য ৩৩ কেজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে ৩ হাজার ৬৮৭ টাকা।
সারা দেশেই দাম বেশি
মঙ্গলবার ঢাকার মগবাজার, রামপুরা, বাড্ডা, মিরপুর, ধানমন্ডি, লালবাগ, বনগ্রাম, ওয়ারী, যাত্রাবাড়ি, মাতুয়াইলসহ আরও কয়েকটি এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১৭৫০ থেকে ১৮০০ টাকায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার বাইরের চিত্রও অনেকটা একই। বিইআরসি নির্ধারিত দামে কোথাও নেই এলপি গ্যাস।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁর বাসিন্দা মো. জাহের মিয়া মঙ্গলবার সংবাদকে বলেন, তার এলাকায় এলপি গ্যাসের দাম সব সময়ই বেশি রাখে দোকানদাররা। তিনি জানান, সোমবার তিনি ১২ কেজি সিলিন্ডার কিনেছেন ১৮০০ টাকা দিয়ে। সেটা বাসায় পৌঁছে দিয়ে দোকানদার বিল করেছে ১৮৬০ টাকা।
বাজার ৯৮ % ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে
দেশে বর্তমানে বছরে এলপি গ্যাসের চাহিদা প্রায় ১৬ থেকে ১৭ লাখ মেট্রিক টন, যা পুরোপুরি আমদানিনির্ভর। এলপিজি সরবরাহের ৯৮ শতাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ করছে বেসরকারি খাত। সরকারি প্রতিষ্ঠান এলপি গ্যাস লিমিটেড সরবরাহ করছে এক শতাংশ বা এর কিছু বেশি।
বসুন্ধরা, যমুনা, বেক্সিমকো, ওমেরা, নাভানা, জেএমআই, টোটালগ্যাস, পেট্রোম্যাক্সসহ বড় বড় অনেক প্রতিষ্ঠান বাজারে এলপি গ্যাস সরবরাহ করছে। বিইআরসি বলছে, দেশে এলপিজি ব্যবসার লাইসেন্স নিয়েছে ৫২টি কোম্পানি। এর মধ্যে সিলিন্ডারে গ্যাস ভরতে ৩২টি কোম্পানির নিজস্ব প্ল্যান্ট আছে। আমদানি করার সক্ষমতা আছে ২৩টি কোম্পানির।
এলপি গ্যাস আমদানি ও ব্যবসা বেসরকারি খাতে তুলে দেওয়ার কারণে সংকট দিন দিন বাড়ছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান।
রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব বলেন, “বিগত সরকারের আমলে কৃত্রিমভাবে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট দেখিয়ে রেস্তোঁরা খাতে পাইপলাইন গ্যাস সংযোগ বন্ধ করা হয়। তবে এ খাতে মাত্র ৫ শতাংশ গ্যাস ব্যবহার হতো। সেটা কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও আমলাদের যোগসাজশে আমদানি করা এলপিজি গ্যাসের ব্যবসা বেসরকারি সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে পাইপলাইনের গ্যাস বন্ধ করার মাধ্যমে। যারা বর্তমানে পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণ করে একচেটিয়া ব্যবসা চালাচ্ছে।”
মার্চে দাম অপরিবর্তিত
ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে বিইআরসি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করেছিল ১ হাজার ৩৫৬ টাকা। এরপর এনবিআর এলপিজির আমদানি শুল্ক কমানোর কারণে দাম ১৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৩৪১ টাকা করা হয়। সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিইআরসি জানায়, এই দাম মার্চ মাসেও অপরিবর্তিত থাকবে।
সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজি এলপি গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম আগের মতোই ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজির (অটোগ্যাস) দাম প্রতি লিটার ৬১ টাকা ৮৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে এলপি গ্যাসের দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। এলপি গ্যাস তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। প্রতি মাসে এলপি গ্যাসের এই দুই উপাদানের মূল্য প্রকাশ করে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আরামকো। এটি সৌদি কার্গো মূল্য (সিপি) নামে পরিচিত।
এই সৌদি সিপিকে ভিত্তিমূল্য ধরেই দেশে এলপি গ্যাসের দাম সমন্বয় করে বিইআরসি। এছাড়া আমদানিকারক কোম্পানির চালান (ইনভয়েস) মূল্য থেকে গড় করে বিইআরসি পুরো মাসের জন্য ডলারের দাম হিসাব করে।
অপরাধ ও দুর্নীতি: সুগন্ধা সৈকত দখল করে চাঁদাবাজি
অর্থ-বাণিজ্য: পোশাকশ্রমিকদের বেতন দিতে বিশেষ ঋণ দিল সরকার
অর্থ-বাণিজ্য: বড় পতন শেয়ারবাজারে, ডিএসইর সূচক কমলো প্রায় ২০০ পয়েন্ট
অর্থ-বাণিজ্য: টানা সাত মাস পণ্য রপ্তানি কমল
অর্থ-বাণিজ্য: ছাড়ের সুবিধায় খেলাপি ঋণ নেমেছে ৩১ শতাংশে