image

ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর না হলে অর্থনীতি এগোবে না: আইসিসিবি সহ-সভাপতি

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

দেশের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ও ইন্টারন্যাশনাল চেম্বারস অব কমার্স বাংলাদেশ (আইসিসিবি) এর সহ-সভাপতি এ কে আজাদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে বর্তমান সরকারের মেয়াদে দেশের অর্থনীতি ভালো অবস্থায় ফিরবে না।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশে গড় ঋণখেলাপির হার ৩৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, আর সরকারি ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে এই চিত্র আরও ভয়াবহ, প্রায় ৫০ শতাংশ।

যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ শোধ করছেন না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

বুধবার রাজধানীতে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের নানা দিক তুলে ধরেন।

এ কে আজাদ বলেন, ব্যাংক থেকে সরকার যেভাবে ঋণ নিচ্ছে, তাতে বেসরকারি খাতের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ থাকছে না। বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি মাত্র ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। একদিকে ঋণের উচ্চ সুদ, অন্যদিকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে নতুন শিল্প বিনিয়োগ থমকে গেছে। শিল্পে গ্যাস সংযোগ না পাওয়ায় উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে, যা উদ্যোক্তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দেশের রাজস্ব পরিস্থিতির সমালোচনা করে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব আদায় অনেক কম হচ্ছে এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধিও নিম্নমুখী। অথচ সরকারের আয়ের একটি বিশাল অংশ ব্যয় হচ্ছে বেতন, ঋণের সুদ ও ভর্তুকির মতো অনুৎপাদনশীল খাতে।

তিনি অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় কমানোর তাগিদ দিয়ে বলেন, জনগণের করের টাকায় বিপুল সংখ্যক সংসদ সদস্য ও আমলাদের প্রটোকল বা বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়ার যৌক্তিকতা পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত। যেখানে সাধারণ মানুষের নিত্যপণ্যের খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে এমন ব্যয় সংকোচন অপরিহার্য।

এ কে আজাদ প্রতিবেশী দেশগুলোর উদাহরণ টেনে বলেন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ শিল্প বিনিয়োগে বড় ধরনের প্রণোদনা ও ভর্তুকি দিচ্ছে। অথচ বাংলাদেশে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-গ্যাস ছাড়া শিল্প টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র ব্যাংকের সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে পারলেই দেশের অর্থনীতি সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে।

এ সময় তিনি হাজার হাজার ঝুলে থাকা গ্যাস সংযোগ দ্রুত দেওয়ার এবং জ্বালানি খাতে দুর্নীতি বন্ধের দাবি জানান।

‘অর্থ-বাণিজ্য’ : আরও খবর

সম্প্রতি