বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে কিছু ‘অশুল্ক বাধা’ দূর করার তাগিদ দিয়েছেন ঢাকা সফরে আসা যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর। বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়টি তুলে ধরেন পল কাপুর। সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর দপ্তরে বুধবার, (০৪ মার্চ ২০২৬) এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীমুক্তাদির বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ‘একক দেশ হিসেবে বৃহত্তম’ বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্যিক সম্পর্ক, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাধারণ আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগামী দিনে কীভাবে আমেরিকান বিনিয়োগ বাংলাদেশে আসতে পারে, সে বিষয়ে কিছু প্রতিবন্ধকতার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। আমাদের কিছু অশুল্ক বাধা আছে। এগুলি দূর করা গেলে তাদের ডেভেলপমেন্ট ফিন্যান্স যেটা আছে সেটা বাংলাদেশের জন্য ‘বাংলাদেশ এলিজিবল’ হবে।’
গত ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। চুক্তি নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কী না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এই চুক্তির বিষয়টি আজকে আলোচনার বিষয় হিসেবে আসেনি। চুক্তিতে স্বাক্ষর হয়েছে। তবে এটি বাস্তবায়নের আগে কিছু ফরমালাইজেশনের প্রক্রিয়া থাকে। যেকোনো চুক্তিতে দুই পক্ষের কিছু চাওয়া থাকে। কয়েকটি ধারা এক পক্ষের অনুকূলে হয়, আবার কয়েকটি ধারা অন্য পক্ষের অনুকূলে থাকে। আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি জায়গায় পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়, যেখানে উভয়ের জন্য একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি হয়।’
মন্ত্রী বলেন, ‘এই চুক্তির মধ্যে অনেক ধারা আছে, যেগুলোর মাধ্যমে আগামী দিনে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করা যেতে পারে। আমি এটিকে এখনই হোলসেল নেগেটিভ বা হোলসেল পজিটিভ হিসেবে দেখছি না। এটি একটি চুক্তি হয়েছে, এটি একটি বাস্তবতা। কোন চুক্তি শেষ কথা না। প্রত্যেকটা চুক্তিতে সেলফ কেয়ারিং এর জন্য তার নিজস্ব কিছু ধারা দেয়। যদি কোনদিন আমাদের কাছে কিছু প্রতীয়মান হয় যে কোনো ধারার সংযোজন, বিয়োজন বা পরিবর্তন দরকার, সেখানে ফারদার নেগোসিয়েশন স্কোপ তো সবসময় থাকে।’
ব্যবসায়ীদের ভিসা বন্ড প্রসঙ্গে প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখবে। আমরা সবসময় চাই আমাদের ব্যবসায়ীরা, বিনিয়োগকারীরা এবং তাদের দেশের ব্যবসায়ীরা যেন স্বচ্ছন্দে সহজভাবে দুই দেশে আসা যাওয়া করতে পারে এবং এর মধ্যে যেন কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়।’
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ‘কৌশলগত বন্ধন’ জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় পৌঁছান যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন সরকার গঠনের পর এটাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম উচ্চ পর্যায়ের সফর।
আন্তর্জাতিক: সরকার উৎখাতের পর সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিচ্ছে নেপাল
আন্তর্জাতিক: মার্কিন সিনেটে যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব নাকচ
নগর-মহানগর: নামছে বিআরটিসির নারী বাস