image

ব্যাপক দরপতনে বাজার মূলধন কমলো ২০ হাজার কোটি টাকা

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর গত সপ্তাহজুড়ে দেশের শেয়ারবাজারে ব্যাপক দরপতন হয়েছে। এতে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া যে কয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, তার পাঁচগুণের বেশি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে।

বাজার মূলধন বড় অঙ্কে কমার পাশাপাশি গত সপ্তাহে প্রধান মূল্যসূচকেরও বড় পতন হয়ছে। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহজুড়ে কমেছে ৩৫৯ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট বা ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ১৩৪ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৪৬ শতাংশ

এতে ডিএসইর বাজার মূলধন ২০ হাজার কোটি টাকার ওপরে কমে গেছে। একই সঙ্গে বড় পতন হয়েছে মূল্যসূচকের। পাশাপাশি কমেছে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ।

গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মাত্র ৫৯টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৩২৫টির দাম কমেছে এবং ৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ দাম বাড়ার তুলনায় দাম কমার তালিকায় স্থান হয়েছে ৫ দশমিক ৫১ গুণ বেশি প্রতিষ্ঠানের।

এমন দরপতন হওয়ায় সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা যা আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৭ লাখ ১৮ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ২০ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা বা ২ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

বাজার মূলধন বড় অঙ্কে কমার পাশাপাশি গত সপ্তাহে প্রধান মূল্যসূচকেরও বড় পতন হয়ছে। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহজুড়ে কমেছে ৩৫৯ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট বা ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ১৩৪ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৪৬ শতাংশ। অপর দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে কমেছে ১৫৭ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট বা ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ৭১ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ।

ইসলামি শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে কমেছে ৬৭ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট বা ৬ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ২১ দশমিক শূন্য ৯ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৯৩ শতাংশ। লেনদেনের গতিও কমেছে। সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৬৯৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৭২৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ২৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বা ৩ দশমিক ৯১ শতাংশ।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার। কোম্পানিটির শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৪১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিটি ব্যাংকের শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৪০ কোটি টাকা। প্রতিদিন গড়ে ২০ কোটি ৬০ লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে খান ব্রদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ। এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- ব্র্যাক ব্যাংক, রবি, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, ব্যাংক এশিয়া, বেক্সিমকো ফার্মা, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ এবং ইস্টার্ন ব্যাংক।

গত সপ্তাহজুড়ে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহজুড়ে মাত্র ৫৯টি প্রতিষ্ঠানেরে শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩২৫টির। এমন পতনের বাজারে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখিয়েছে পঁচা শেয়ার বা ‘জেড’ গ্রুপের কোম্পানি। দাম বাড়ার শীর্ষ ১০টি স্থানের সবগুলো দখল করেছে ‘জেড’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠান।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে ‘এ’, ‘বি’, ‘এন’ এবং ‘জেড’ গ্রুপে বিভক্ত করা হয়। ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানকে রাখা হয় ‘এ’ গ্রুপে। ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানি থাকে ‘বি’ গ্রুপে, এ ধরনের কোম্পানিগুলো মাঝারি মানের হিসেবে বিবেচনা করা হয়। লভ্যাংশ না দেওয়া কোম্পানিটির ঠিকানা হয় ‘জেড’ গ্রুপে, এ ধরনের কোম্পানিগুলোকে পচা কোম্পানি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানি থাকে ‘এন’ গ্রুপে।

গত সপ্তাহজুড়ে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চাহিদার শীর্ষে ছিল প্রিমিয়ার লিজিং। লোকসানে নিমজ্জিত হওয়ায় ২০১৮ সালের পর কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। এই কোম্পানির শেয়ারের দাম গত সপ্তাহে বেড়েছে ৪৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ। টাকার অঙ্কে প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়েছে ৮০ পয়সা।

গত সপ্তাহের লেনদেনের শুরুতে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ১ টাকা ৮০ পয়সা, যা সপ্তাহ শেষে দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৬০ পয়সা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১৩ কোটি ২৯ লাখ ৭০ হাজার ২১০টি। এতে এক সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ার দাম বেড়েছে ১০ কোটি ৬৩ লাখ ৭৬ হাজার ১৬৮ টাকা।

দাম বাড়ার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। এক সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৪১ দশমিক ১৮ শতাংশ। টাকার অঙ্কে প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়েছে ৭০ পয়সা। লোকসানে পতিত হওয়ায় ২০১৬ সালের পর এই কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ দেয়নি। স্বাভাবিকভাবেই কোম্পানিটির স্থান হয়েছে পচা জেড গ্রুপে।

পরের স্থানা রয়েছে এফএএস ফাইন্যান্স। ২০১৮ সালের পর কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ দিতে পারেনি। গত সপ্তাহে এই কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৪১ দশমিক ১৮ শতাংশ। টাকার অঙ্কে প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়েছে ৭০ পয়সা।

২০১৪ সালের পর বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ দিতে না পারা পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এর শেয়ারের দাম বেড়েছে ৪১ দশমিক ১৮ শতাংশ। ২০১৮ সালের পর থেকে লভ্যাংশ দিতে না পারা ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এর শেয়ারের দাম বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ।

দাম বাড়ার তালিকায় পরের স্থানটিতে থাকা ফ্যামিলি টেক্সের শেয়ার দাম বেড়েছে ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ। এই কোম্পানিটি ২০১৮ সালের পর বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। ২০১৬ সালের পর কোনো লভ্যাংশ দিতে না পারা তুং হাই নিটিংয়ের শেয়ারের দাম বেড়েছে ৩০ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

নূরানী ডাইং অ্যান্ড সোয়েটারের শেয়ার দাম বেড়েছে ২৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ। ২০২০ সালের পর কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। ২০২৩ সালের পর বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিতে না পারা জেনারেশন নেক্সট এর শেয়ারের দাম বেড়েছে ২৫ শতাংশ। ২০১৬ সালের পর কোনো লভ্যাংশ না দেওয়া অ্যাপোলো ইস্পাতের শেয়ারের দাম বেড়েছে ২৪ দশমিক ১৪ শতাংশ।

‘অর্থ-বাণিজ্য’ : আরও খবর

সম্প্রতি