মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাতের জেরে বিশ্বের জ্বালানি তেলের ২০ শতাংশ পরিবহনকারী হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ার পর বাংলাদেশে জ্বালানি নিয়ে মিশ্র বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। একদিকে সরকার ও বিপিসি দাবি করছে দেশে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। অন্যদিকে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও খাতসংশ্লিষ্টরা দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে দিচ্ছেন।
মধ্যপ্রাচ্য সংকট শুরুর পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বেড়েছে। ১ মার্চ যেখানে ডিজেলের ব্যারেলপ্রতি দাম ছিল ৮৮ ডলার, ৩ মার্চ তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৩৭ ডলারে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ইতিমধ্যে প্রতি ব্যারেল ৯২.৬৯ ডলারে পৌঁছেছে এবং তা ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন। এমন পরিস্থিতিতে আশ্বস্ত বা উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ কী কী?
আশ্বস্ত হওয়ার কারণ
তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাংলাদেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে জনগণের পুরোপুরি আশ্বস্ত হওয়ার সুযোগ সীমিত।
পরিশোধিত জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্য: বিপিসি চেয়ারম্যান বলেছেন, দেশের মোট জ্বালানি তেল আমদানির ৮০ শতাংশ (পরিশোধিত তেল) চীন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার বন্দর থেকে আসে, যা হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল নয়।
সরবরাহকারীদের আশ্বাস: বিপিসি জানিয়েছে, পরিশোধিত জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছে ।
বিকল্প উৎসের সন্ধান: সরকার ইতিমধ্যে অস্ট্রেলিয়া, অ্যাঙ্গোলা ও মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আনার চেষ্টা করছে ।
চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ আসা: ১০টি জাহাজে পৌনে ৪ লাখ টন জ্বালানি পণ্য আসা নিশ্চিত করেছে স্বল্পমেয়াদি সরবরাহ।
উদ্বেগের কারণ
ডিজেল মজুদ সঙ্কটজনক: ডিজেলের ১৪ দিনের মজুদ খুবই সামান্য। অথচ বিপিসির সরবরাহকৃত জ্বালানির ৭৫ শতাংশই ডিজেল।
অপরিশোধিত তেলের অনিশ্চয়তা: ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। যা পরিশোধিত জ্বালানি উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে ।
জাহাজ আসতে দেরি: পরিশোধিত জ্বালানি সরবরাহকারী জাহাজগুলো নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে পৌঁছাচ্ছে ।
চাহিদা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি: প্যানিক কেনাকাটার কারণে ডিজেলের চাহিদা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে, যা মজুদ দ্রুত শেষ করে দিচ্ছে ।
দাম বৃদ্ধি: আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় বেড়ে যাবে, যা শেষ পর্যন্ত বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে প্রভাব ফেলবে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা এম তামিম বলেছেন, "গ্যাস সংকট তেল সংকটের চেয়েও গুরুতর। জ্বালানি সাশ্রয় ও বিকল্প উৎস থেকে বেশি দামে কেনার বিকল্প এখন আর নেই। চীন, জাপান, পাকিস্তান ও ইন্ডিয়াও গ্যাস রেশনিং শুরু করেছে। যুদ্ধ যদি না থামে, তাহলে দুই সপ্তাহের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকট তৈরি হতে পারে।"
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌর ও বায়ুশক্তির মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ জরুরি হয়ে পড়েছে।
অর্থ-বাণিজ্য: আজ থেকে নতুন পদ্ধতিতে জ্বালানি বিক্রি শুরু
অর্থ-বাণিজ্য: পাম্পে পাম্পে ঝুলছে ‘তেল নেই’ পোস্টার
আন্তর্জাতিক: রুশ হামলায় ইউক্রেনে নিহত ১২
অর্থ-বাণিজ্য: জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ ও আশ্বস্ত হওয়ার কারণ কী কী
অর্থ-বাণিজ্য: জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা থাকলেও দেশে মজুদ নিরাপদ