image

দেশে পেট্রোল-অকটেন উৎপাদন সক্ষমতা চাহিদার প্রায় দ্বিগুণ

​নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

বছরে চাহিদা ৮–৮.৫ লাখ টন

বেসরকারি–সরকারি রিফাইনারির সক্ষমতা ১৬ লাখ টন

সংকটের মূল চাপ ডিজেলে, যা পুরোপুরি আমদানিনির্ভর

দেশে পেট্রোল ও অকটেনের উৎপাদন সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হলেও সরকার জ্বালানি বিক্রিতে রেশনিং পদ্ধতি চালু করেছে। সংশ্লিষ্ট খাতের তথ্য বলছে, দেশে বছরে পেট্রোল ও অকটেন মিলিয়ে চাহিদা যেখানে প্রায় ৮ থেকে সাড়ে ৮ লাখ টন, সেখানে সরকারি ও বেসরকারি রিফাইনারিগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১৬ লাখ টন। ফলে প্রশ্ন উঠছে- চাহিদার তুলনায় সক্ষমতা বেশি থাকা সত্ত্বেও কেন সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হলো।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দেশে বছরে প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার টন পেট্রোল ও প্রায় ৪ লাখ ১৫ হাজার টন অকটেনের চাহিদা রয়েছে। এই পেট্রোলের প্রায় পুরোটাই ও অকটেনের বড় অংশ দেশেই উৎপাদিত হয়। গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া কনডেনসেট পরিশোধন করে এসব জ্বালানি তৈরি করা হয়।

দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) কনডেনসেট থেকে পেট্রোল উৎপাদন করে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বেসরকারি রিফাইনারি- যেমন সুপার রিফাইনারি, পিএইচপি পেট্রো রিফাইনারি, সিজেডকে রিফাইনারি ও জেবি রিফাইনারি- কনডেনসেট থেকে পেট্রোল, অকটেনসহ বিভিন্ন সলভেন্ট উৎপাদন করছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা বছরে প্রায় ১৬ লাখ টন।

জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা বলছেন, পেট্রোল বা অকটেনের উৎপাদন সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকলেও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও বাজার নিয়ন্ত্রণ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতীতে কনডেনসেটের অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে তা পুড়িয়ে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে। কয়েকবার পেট্রোল রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হলেও মানগত জটিলতার কারণে তা সফল হয়নি।

তবে বাস্তব সংকটের বড় অংশটি ডিজেল ঘিরে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত জ্বালানি এই ডিজেল পুরোপুরি আমদানিনির্ভর। ভারী যানবাহন, কৃষিযন্ত্র এবং শিল্পকারখানায় এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দেশে ডিজেলের চাহিদা ছিল প্রায় ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন। সাম্প্রতিক সময়ে চাহিদা আরও বেড়ে দৈনিক প্রায় ২৫ হাজার টনে পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বর্তমানে দেশে প্রায় ১ লাখ ৮১ হাজার টন ডিজেল মজুত রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপের কারণে সরকার আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে জ্বালানি তেল বিক্রিতে নতুন রেশনিং পদ্ধতি চালু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, দেশে পেট্রোল ও অকটেনের উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের ঘাটতি, ডিজেলের আমদানিনির্ভরতা ও বাজারে কৃত্রিম চাহিদা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা- এই তিনটি বিষয় বর্তমান পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। তাদের মতে, জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতা না বাড়ালে এমন পরিস্থিতি ভবিষ্যতেও তৈরি হতে পারে।

‘অর্থ-বাণিজ্য’ : আরও খবর

সম্প্রতি