সরকারি এলপি গ্যাসের সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে রাষ্ট্রীয় কোম্পানি এলপি গ্যাস লিমিটেড।
বর্তমানে সরকারি এলপিজির সাড়ে বারো কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা। রাষ্ট্রীয় কোম্পানিটি দাম ৪১০ টাকা বাড়িয়ে ১২৩৫ টাকা করার আবেদন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) দিয়েছে।
এলপি গ্যাস লিমিটেড তার আবেদনে বলেছে, একই পণ্যের দুই রকম দাম হওয়ায় নানামুখী সংকট তৈরি হচ্ছে। বেসরকারি কোম্পানির তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের ( এলপি গ্যাস বা এলপিজি) দাম তুলনামূলক অনেকটাই বেশি (১৩৪১ টাকা) হওয়ায় ক্রস ফিলিং (সরকারি সিলিন্ডার থেকে বের করে বেসরকারি সিলিন্ডার ফিলিং) হচ্ছে। এতে করে ভোক্তা সরকারি এলপিজি পাচ্ছে না। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সঠিক দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এলপি গ্যাস লিমিটেডের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় কোম্পানিটি ১২ হাজার ৭২৩ মেট্রিক টন এলপিজি বিক্রি করেছে। সেনাবাহিনীকে ৭২২ মেট্রিক টনসহ মোট ৮৩৪ মেট্রিক টন বাল্ক আকারে সরবরাহ দিয়েছে। অবশিষ্ট এলপিজি বোতলজাত করে বিক্রি করেছে কোম্পানিটি।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে কোম্পানিটি করপূর্ব মুনাফা করেছে ১০ কোটি ২ লাখ টাকা। শ্রমিকদের লভ্যাংশ অংশগ্রহণ তহবিলে (ডব্লিউপিপিএফ) ৫০ লাখ এবং আয়কর বাবদ ৩ কোটি ১২ লাখ টাকা দেওয়ার পর কোম্পানিটি করোত্তর নীট মুনাফা করেছে ৬ কোটি ৩৯ টাকা।
এর আগে কোম্পানিটি সাড়ে বারো কেজি এলপিজির দাম ৮২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯২৫ টাকা করার প্রস্তাব করেছিল যা বিইআরসি নাকচ করে দিয়েছিল।
বেসরকারি কোম্পানিগুলো চড়াদামে আমদানি করলেও এলপি গ্যাস লিমিটেড দেশীয় গ্যাস ফিল্ড থেকে এলপি গ্যাসের কাঁচামাল অনেক কমদামে পেয়ে থাকে। সে কারণে বিইআরসি ফর্মুলা (না লোকসান না মুনাফা) অনুযায়ী এলপি গ্যাস লিমিটেডের দর ঘোষণা করা হয়। সর্বপ্রথম ১২.৫ কেজির দাম ৬৯০ টাকা নির্ধারিত ছিল।
এরপর ২০২৫ সালের ৪ মে গণশুনানি ছাড়াই ১২.৫ কেজির দাম ৬৯০ টাকা বাড়িয়ে ৮২৫ টাকা নির্ধারণ করে বিইআরসি।
এখন বিইআরসি ফর্মুলা (না লোকসান না মুনাফা) অনুযায়ী দাম বাড়ানোর কতটা সুযোগ রয়েছে সে বিষয়ে বিতর্ক রয়েছে।
সরকারি এলপি গ্যাস কোম্পানির সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে , পণ্যটি বিপিসির। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
জানতে চাইলে এলপি গ্যাস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. ইউসুফ হোসেন ভূঁইয়া সংবাদকে বলেন, এলপি গ্যাস লিমিটেড বিপিসির অধীনস্থ একটি কোম্পানি। বিপিসির নির্দেশনা অনুযায়ীই এই কোম্পানি পরিচালিত হয়।
দেশে বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন এলপিজির চাহিদার বিপরীতে রাষ্ট্রীয় কোম্পানিটি সরবরাহ করে এক শতাংশের কম। অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ মানুষ এই গ্যাস পায় না।
বেশিরভাগ এলপিজি নিদিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ দেওয়া হয়, অল্প পরিমাণে বাজারে ছাড়া কথা বলা হলেও তা কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ অনেক পুরনো।
দেশে আবাসিক খাতে রান্নায় বহুল ব্যবহৃত হয় বেসরকারি খাতের ১২ কেজি এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার। গত ডিসেম্বর থেকে বেসরকারি খাতের এলপি গ্যাসের বাজারে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। খোলা বাজারের ৯৯ শতাংশের বেশি বেসরকারি কোম্পানির দখলে।
মার্চ মাসের জন্য বিইআরসি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৩৪১ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। তবে বাজারে এই ওজনের সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ থেকে ১৯০০ টাকায়।
বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের নানা উদ্যোগ কোনো কাজে আসছে না।
সারাদেশ: সিলেটে ভারতীয় জিরাসহ গ্রেপ্তার ১
অপরাধ ও দুর্নীতি: ট্রাইব্যুনালের এক প্রসিকিউটরের পদত্যাগ, দুজনকে নিয়োগ
সারাদেশ: ছাতকের তিররাইয়ে মাতৃপূজা ও দোল উৎসব