image

জানুয়ারিতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে এক লাখ ৫৯৩ কোটি টাকা লেনদেন

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিং। প্রতিনিয়ত বাড়ছে গ্রাহক সংখ্যা। সেই সঙ্গে বাড়ছে লেনদেনের পরিমাণও। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। সেখানে ১৩টি এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের তথ্য দেয়া হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকরা এক লাখ ৫৯৩ কোটি টাকা লেনদেন করেছে। এই অঙ্ক মোবাইলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড লেনদেন।

পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, এই মাসে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে তিন হাজার ২৪৫ কোটি টাকা। তবে এখানে ডাক বিভাগের সেবা ‘নগদ’-এর তথ্য যুক্ত হয়নি। নগদের হিসাব যোগ করলে মোট লেনদেন আরও প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা বেড়ে যাবে। সেই হিসাবে এমএফএস-এ লেনদেন হচ্ছে এক লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। আর দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় চার হাজার ২০০ কোটি টাকা।

গত জানুয়ারিতে মোট লেনদেনের মধ্যে টাকা জমা হয়েছিল ৩১ হাজার ২৬০ কোটি ও উত্তোলিত হয়েছিল ২৮ হাজার ৬৮৮ কোটি। ফলে মোট লেনদেনে প্রায় ৬০ শতাংশই ছিল জমা ও উত্তোলন। বাকি ৪০ শতাংশ লেনদেন হয়েছে ডিজিটাল। এর আগে গত বছরের এপ্রিল মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে সর্বোচ্চ এক লাখ ৭ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল। পাঁচ বছর আগেও যেখানে লেনদেন হতো ৩৪ হাজার কোটি টাকার মতো। এখন তা লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেনের সঙ্গে দিনদিন বাড়ছে গ্রাহক সংখ্যা। বর্তমানে বিকাশ, রকেট, ইউ ক্যাশ, মাই ক্যাশ, শিওর ক্যাশসহ নানা নামে ১৩টি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাস শেষে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়ায় ১৯ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ১৩৭ জন। আর আলোচিত সময়ে মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৬৯ হাজার ১১২ জনে।

এছাড়াও শুধু ‘নগদ’-এ রয়েছে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি গ্রাহক। এ হিসাব যোগ করলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা ছাড়াবে ২৫ কোটি। এর কারণ, অনেক গ্রাহক একাধিক সিম ব্যবহার করছে। লেনদেনের সুবিধার্থে একাধিক সিমে হিসাব খুলছে।

২০১০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১১ সালের ৩১ মার্চ বেসরকারি খাতের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালুর মধ্য দিয়ে দেশে মোবাইল আর্থিক সেবার যাত্রা শুরু হয়। এরপর ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করে বিকাশ। বর্তমানে দেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার সিংহভাগই বিকাশের দখলে। এরপর ‘নগদ’-এর অবস্থান।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে শুধু লেনদেন নয়, যুক্ত হচ্ছে অনেক নতুন নতুন সেবাও। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিল অর্থাৎ সেবা মূল্য পরিশোধ, কেনাকাটার বিল পরিশোধ, মোবাইল রিচার্জ, বেতন-ভাতা প্রদান, বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো অর্থাৎ রেমিট্যান্স প্রেরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সেবা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া এখন গাড়িচালক, নিরাপত্তাকর্মী ও গৃহপরিচারিকাদের বেতনও দেয়া হচ্ছে বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো সেবা মাধ্যম ব্যবহার করে। পোশাক খাতসহ শ্রমজীবীরা এমএফএস সেবার মাধ্যমে গ্রামে টাকা পাঠাচ্ছে। যার ফলে দিনে দিনে নগদ টাকার লেনদেন কমে আসছে। এ প্রবণতা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বর্তমানে দেশের সামগ্রিক পরিশোধ ব্যবস্থায় এমএফএস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কোভিড-১৯ এর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এমএফএসের আওতা ও লেনদেনের ব্যাপ্তি প্রসারের পাশাপাশি এ মাধ্যম ব্যবহার করে সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আর্থিক সহায়তা প্রদান কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে স্বল্পআয়ের মানুষের মধ্যে এমএফএস ব্যবহারের প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

‘অর্থ-বাণিজ্য’ : আরও খবর

সম্প্রতি

Sangbad Image

অর্থ-বাণিজ্য: সোনার দাম ফের বাড়লো