image

জাবি শিক্ষিকা নাহরিনকে ‘প্রাণনাশের হুমকি’, শিক্ষক ফোরামের উদ্বেগ

প্রতিনিধি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খানকে ‘প্রাণনাশের হুমকি’ দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম। গতকাল শুক্রবার সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক মো. শামছুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে একটি বিশেষ দলের লেবাসধারী কয়েকজন তরুণ অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খানের বাসার নিরাপত্তা প্রহরীর কাছে একটি বেনামী চিঠি প্রদান করেন। চিঠিতে লেখা ছিল, “কোন ধর্ম এবং দল নিয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াবেন না, অন্যথায় এর দায় আপনাকে নিতে হবে।”

সংগঠনটির মতে, চিঠির বক্তব্যটি প্রাণনাশের হুমকি হিসেবে বিবেচিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা জরুরি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নারীর ক্ষমতায়নের পক্ষে এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন যৌন-সহিংসতাসহ বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে মত প্রকাশ করায় অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান দীর্ঘদিন ধরে নানামুখী চাপ, হয়রানি ও প্রাণনাশসংক্রান্ত হুমকির মুখে রয়েছেন।

একজন শিক্ষক ও গবেষকের মতপ্রকাশের কারণে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়াকে গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক চেতনার পরিপন্থি বলে মনে করে সংগঠনটি।

জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের অভিযোগ, স্বাধীনতাবিরোধী একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী ধর্মীয় অনুভূতিকে রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহার করছে, যা নারীর সমান অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের মৌলিক চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বিবৃতিতে শিক্ষিকা নাহরিন ইসলাম খানকে দেওয়া হুমকি এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ছাত্রসংগঠনের কর্মীদের দ্বারা শিক্ষকদের হেনস্তার ঘটনাকে একটি ধারাবাহিক ও উদ্বেগজনক প্রবণতার অংশ বরে দাবি করেছেন বিএনপিপন্থি শিক্ষকরা।

এ ছাড়া গত বছর গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দ-বিধির ৫০০ ধারায় দায়ের করা একটি মানহানির মামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে সংগঠনটি বলে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের ভারসাম্য রক্ষায় এ ধরনের মামলার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খানের উদ্দেশে একাধিকবার অশোভন, আক্রমণাত্মক ও হুমকি দিয়ে ইমেইল পাঠানো হয়। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করা হচ্ছে; যা একটি সভ্য সমাজের জন্য উদ্বেগজনক।

জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম মনে করে, একটি উন্নত, স্বাধীন ও মুক্তচিন্তার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ধর্মের নামে সহিংসতা, নারী-নিপীড়ন এবং স্বাধীনতাবিরোধী রাজনীতির যে-কোনো অপপ্রয়োগ রোধ করা জরুরি।এ বিষয়ে শান্তিকামী ধর্মপ্রাণ জনগণসহ সকল সচেতন নাগরিককে গণতান্ত্রিক ও আইনসম্মত উপায়ে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়। সেইসঙ্গে অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খানের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রাপ্ত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম।

‘ক্যাম্পাস’ : আরও খবর

» হাসিনাকে যেভাবে ভারতে পাঠিয়েছি, সেভাবে আপনাদের সঙ্গেও ডিল করবো: সাদিক কায়েম

সম্প্রতি