রোববার, রাজধানীর কাওরান বাজারে মানববন্ধন করে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা, দেখা দেয় জনদুর্ভোগ -সংবাদ
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মানববন্ধন করেছেন মোবাইল বিক্রেতারা। ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সংস্কার, একচেটিয়া সিন্ডিকেট প্রথা বিলোপ এবং মোবাইল ফোনের উন্মুক্ত আমদানির সুযোগ সৃষ্টির দাবিতে এই মানববন্ধন করে?ন তারা।
রোববার, (৩০ নভেম্বর ২০২৫) সকাল ৯টার দিকে মানববন্ধন শুরু করেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা। মোবাইল বিক্রেতাদের সংগঠন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশের (এমবিসিবি) ব্যানারে এই কর্মসূচি হয়। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে নিজেদের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলকারীরা বলছেন, তারা সরকারকে ভ্যাট দিয়ে ব্যবসা করতে চান। তবে ভ্যাট কমিয়ে বৈধভাবে ব্যবসার সুযোগ দিতে হবে। একজন মোবাইল ব্যসবসায়ী বলেন, আনঅফিসিয়াল বা গ্রে মার্কেটের সঙ্গে প্রায় ২৫ হাজার ব্যবসায়ী জড়িত। হঠাৎ করে ব্যবসা বন্ধ করে দিলে আমরা কোথায় যাবো? আমরা কর না দেয়ার পক্ষে না, আমরা ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়ে ব্যবসা করতে চাই।
রোববার, থেকে ঢাকাসহ সারাদেশের সব মোবাইল ফোনের দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল এমবিসিবি। গতকাল শনিবার সংগঠ?নের দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একচেটিয়া সিন্ডিকেট নীতি বন্ধ, ন্যায্য কর নীতি এবং মোবাইল ফোনের উন্মুক্ত আমদানির সুযোগ সৃষ্টির দাবিতে রোববার (রোববার,) সকাল ১০টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজার-পান্থপথ এলাকায় শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরেও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নামবেন।
মানববন্ধনে ব্যবসায়ীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার যদি এনইআইআর চালুর আগে আমাদের সঙ্গে আলোচনায় না বসেন, তবে সারাদেশের মোবাইল ব্যবসায়ীরা ঢাকায় জড়ো হয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবেন।
তারা বলেন, দেশের মোবাইল ফোন ব্যবসার মার্কেট শেয়ার যাদের ৭০ শতাংশের বেশি, তাদের সঙ্গে বসে আলোচনা করে এনইআইআর চালু করুন। আমরা কোনোভাবেই এনইআইআরের বিরুদ্ধে না। তবে এ প্রক্রিয়ার কিছু সংস্কার, ন্যায্য করনীতি প্রণয়ন, একচেটিয়া সিন্ডিকেট বিলোপ এবং মুক্ত বাণিজ্যের স্বার্থে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে আমাদের কিছু দাবি ও প্রস্তাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের ব্যাখ্যা সরকারকে বলতে চাই। কিন্তু কর্তৃপক্ষ আমাদের বিশাল সংখ্যক ব্যবসায়ীর কথা না শুনেই একতরফা এনইআইআর চালু করতে যাচ্ছে।
ব্যবসায়ী নেতারা অভিযোগ করে বলেন, কোনো প্রকার পূর্ব-পরামর্শ ছাড়াই হঠাৎ এনইআইআর বাস্তবায়নের ঘোষণা বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে। ফলে দেশের প্রায় ২৫ হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং এর সঙ্গে জড়িত ২০ লাখেরও বেশি মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। আমরা বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে ব্যাংক থেকে শত শত কোটি টাকা ঋণ নিয়েছি। বর্তমানে আমাদের স্টকে কোটি কোটি টাকার হ্যান্ডসেট রয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে এ বিপুল পরিমাণ অবিক্রিত হ্যান্ডসেট বিক্রি করা অসম্ভব। আমাদের দাবি না মেনে গুটি কয়েক ব্যবসায়ীকে একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ করে দিলে আমরা পথে বসবো।
এমবিসিবির নেতারা বলেন, এনইআইআরের বর্তমান কাঠামো যদি অপরিবর্তিতভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে শুল্ক ৫৭ শতাংশ হোক কিংবা শূন্য শতাংশ, কোনো অবস্থাতেই বৈধ উপায়ে মোবাইল ফোন আমদানি সম্ভব হবে না। কারণ বিটিআরসির আমদানি নীতিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, কোনো বিদেশি ব্র্যান্ড যদি স্থানীয়ভাবে তাদের পণ্য সংযোজন করে, তাহলে সেই ব্র্যান্ডের কোনো মডেল অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান আমদানি করতে পারবে না।
তাদের অভিযোগ, এ নীতিমালা কার্যত মনোপলি ব্যবসার সুযোগ তৈরি করছে। এর ফলে বাজারে বিদ্যমান প্রতিযোগিতা বিলুপ্ত হবে এবং প্রায় ১৮ কোটি মানুষের মোবাইল ফোন বাজারের নিয়ন্ত্রণ গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে যাবে। একই সঙ্গে স্মার্টফোনের দাম আকস্মিকভাবে বেড়ে যাবে এবং সাধারণ ভোক্তারা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এছাড়া এতে দেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রাও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন।
মূলত, আগামী ১৬ ডিসেম্বর ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্টার সিস্টেম চালুর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এটি চালু হলে দেশের নেটওয়ার্কে আর অবৈধ ও অননুমোদিত মোবাইল হ্যান্ডসেট চলবে না বলেও জানানো হয়েছে।
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
রোববার, রাজধানীর কাওরান বাজারে মানববন্ধন করে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা, দেখা দেয় জনদুর্ভোগ -সংবাদ
রোববার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মানববন্ধন করেছেন মোবাইল বিক্রেতারা। ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সংস্কার, একচেটিয়া সিন্ডিকেট প্রথা বিলোপ এবং মোবাইল ফোনের উন্মুক্ত আমদানির সুযোগ সৃষ্টির দাবিতে এই মানববন্ধন করে?ন তারা।
রোববার, (৩০ নভেম্বর ২০২৫) সকাল ৯টার দিকে মানববন্ধন শুরু করেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা। মোবাইল বিক্রেতাদের সংগঠন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশের (এমবিসিবি) ব্যানারে এই কর্মসূচি হয়। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে নিজেদের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলকারীরা বলছেন, তারা সরকারকে ভ্যাট দিয়ে ব্যবসা করতে চান। তবে ভ্যাট কমিয়ে বৈধভাবে ব্যবসার সুযোগ দিতে হবে। একজন মোবাইল ব্যসবসায়ী বলেন, আনঅফিসিয়াল বা গ্রে মার্কেটের সঙ্গে প্রায় ২৫ হাজার ব্যবসায়ী জড়িত। হঠাৎ করে ব্যবসা বন্ধ করে দিলে আমরা কোথায় যাবো? আমরা কর না দেয়ার পক্ষে না, আমরা ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়ে ব্যবসা করতে চাই।
রোববার, থেকে ঢাকাসহ সারাদেশের সব মোবাইল ফোনের দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল এমবিসিবি। গতকাল শনিবার সংগঠ?নের দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একচেটিয়া সিন্ডিকেট নীতি বন্ধ, ন্যায্য কর নীতি এবং মোবাইল ফোনের উন্মুক্ত আমদানির সুযোগ সৃষ্টির দাবিতে রোববার (রোববার,) সকাল ১০টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজার-পান্থপথ এলাকায় শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরেও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নামবেন।
মানববন্ধনে ব্যবসায়ীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার যদি এনইআইআর চালুর আগে আমাদের সঙ্গে আলোচনায় না বসেন, তবে সারাদেশের মোবাইল ব্যবসায়ীরা ঢাকায় জড়ো হয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবেন।
তারা বলেন, দেশের মোবাইল ফোন ব্যবসার মার্কেট শেয়ার যাদের ৭০ শতাংশের বেশি, তাদের সঙ্গে বসে আলোচনা করে এনইআইআর চালু করুন। আমরা কোনোভাবেই এনইআইআরের বিরুদ্ধে না। তবে এ প্রক্রিয়ার কিছু সংস্কার, ন্যায্য করনীতি প্রণয়ন, একচেটিয়া সিন্ডিকেট বিলোপ এবং মুক্ত বাণিজ্যের স্বার্থে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে আমাদের কিছু দাবি ও প্রস্তাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের ব্যাখ্যা সরকারকে বলতে চাই। কিন্তু কর্তৃপক্ষ আমাদের বিশাল সংখ্যক ব্যবসায়ীর কথা না শুনেই একতরফা এনইআইআর চালু করতে যাচ্ছে।
ব্যবসায়ী নেতারা অভিযোগ করে বলেন, কোনো প্রকার পূর্ব-পরামর্শ ছাড়াই হঠাৎ এনইআইআর বাস্তবায়নের ঘোষণা বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে। ফলে দেশের প্রায় ২৫ হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং এর সঙ্গে জড়িত ২০ লাখেরও বেশি মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। আমরা বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে ব্যাংক থেকে শত শত কোটি টাকা ঋণ নিয়েছি। বর্তমানে আমাদের স্টকে কোটি কোটি টাকার হ্যান্ডসেট রয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে এ বিপুল পরিমাণ অবিক্রিত হ্যান্ডসেট বিক্রি করা অসম্ভব। আমাদের দাবি না মেনে গুটি কয়েক ব্যবসায়ীকে একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ করে দিলে আমরা পথে বসবো।
এমবিসিবির নেতারা বলেন, এনইআইআরের বর্তমান কাঠামো যদি অপরিবর্তিতভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে শুল্ক ৫৭ শতাংশ হোক কিংবা শূন্য শতাংশ, কোনো অবস্থাতেই বৈধ উপায়ে মোবাইল ফোন আমদানি সম্ভব হবে না। কারণ বিটিআরসির আমদানি নীতিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, কোনো বিদেশি ব্র্যান্ড যদি স্থানীয়ভাবে তাদের পণ্য সংযোজন করে, তাহলে সেই ব্র্যান্ডের কোনো মডেল অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান আমদানি করতে পারবে না।
তাদের অভিযোগ, এ নীতিমালা কার্যত মনোপলি ব্যবসার সুযোগ তৈরি করছে। এর ফলে বাজারে বিদ্যমান প্রতিযোগিতা বিলুপ্ত হবে এবং প্রায় ১৮ কোটি মানুষের মোবাইল ফোন বাজারের নিয়ন্ত্রণ গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে যাবে। একই সঙ্গে স্মার্টফোনের দাম আকস্মিকভাবে বেড়ে যাবে এবং সাধারণ ভোক্তারা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এছাড়া এতে দেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রাও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন।
মূলত, আগামী ১৬ ডিসেম্বর ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্টার সিস্টেম চালুর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এটি চালু হলে দেশের নেটওয়ার্কে আর অবৈধ ও অননুমোদিত মোবাইল হ্যান্ডসেট চলবে না বলেও জানানো হয়েছে।