?????? ???? ?????? ??????

‘ঘুষের হাট’ জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে ঘুষ ছাড়া সেবা পান না সেবা প্রত্যাশীরা। ওই দপ্তরে কোন সেবার জন্য আসলে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিতে হয় কর্মকর্তা- কর্মচারীদের। বছরের পর বছর ঘুষের এমন কারবার প্রকাশ্যে চলে আসলেও দেখার কেউ নেই। কেউ যদি প্রতিবাদ করেন তাহলে ওই ব্যক্তি সেবা তো দূরের কথা তার সংশ্লিষ্ট কাজের ফাইল পড়ে থাকবে যুগযুগ ধরে। ঘুষের কারণে হয়রানির অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে এমনই অভিযোগ পাওয়ার পর ছদ্মবেশে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট টিম। অভিযানে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে হয়রানির প্রমাণও পান এনফোর্সমেন্ট টিম।

দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ আরিফ সাদেক জানান, ঘুষ ও হয়রানির অভিযোগ পেয়ে দুদক প্রধান কার্যালয়ের এনফোর্স টিম অভিযান পরিচালানা করে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে। টিমের সদস্যরা ছদ্মবেশে বিভিন্ন ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। সেবা গ্রহিতাদের একজন অভিযোগ করেন তিনি ২০১৩ সাল থেকে একটি কাজ নিয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসে বিভিন্ন পর্যায়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন। চাহিদা মোতাবেক ঘুষ না দেয়ায় তার কাজটি গত ১০ বছরেও শেষ হয়নি। অথচ যে কাজে তিনি এসেছেন তা কয়েকদিনের মধ্যে শেষ করা যেতো।

অন্য একজন সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করেন তিনি বিগত কয়েক মাস ধরে নকশা অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারী কর্তৃক হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তার কাছে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্মচারীরা মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করেছেন।

দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিমের সদস্যরা জানিয়েছে, গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে ছদ্মবেশে অনেকের সঙ্গে তারা কথা বলেছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রতিটি দপ্তরে সেবার বিনিময়ে ঘুষ ওপেন সিক্রেট। কর্মচারীরা ফাইল আটকে কারো কাছে ১০ লাখ টাকা, কারো কাছে ২০ লাখ টাকা কারো কাছে ৮ লাখ টাকা দাবি করেন। কর্মচারীরা যুক্তি দেখান দপ্তরের টেবিলে টেবিলে টাকা দিতে হয়। যারা চুক্তি অনুযায়ী টাকা দেন তাদের কাজ দ্রুত করে দেয়া হয়। অন্যদিকে যারা টাকা দিতে ব্যর্থ হন তাদের ফাইল বছরের পর বছর ঘুরতে তাকে। বিভিন্ন কাগজপত্রের গাপলা দেখিয়ে ফাইল আটকে রাখা হয়।

দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিমের সদস্যরা জানান, অনেকে হয়রানি হওয়ার ভয়ে প্রকাশ্যে কোন অভিযোগ করতে সাহস পাননা। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সিন্ডিকেট অনেক শক্তিশালী। এসব বিষয়ে এনফোর্সমেন্ট টিমের সদস্য জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ও পরিচালকের (ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা) সঙ্গে আলোচনা করেন। তারা গ্রাহকদের সঠিক সেবা প্রদান ও অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।

অভিযোগের ভিত্তিত্বে দুদকের অভিযানের বিষয়ে জানতে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পরিচালকদের ফোন দেয়া হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে নরসিংদী বিআরটিএ’র কর্মচারী- কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে লাইসেন্স প্রদানে গ্রাহক হয়রানি ও ঘুষ দাবির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের গাজীপুর এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে এনফোর্সমেন্ট টিম ছদ্মবেশে অবস্থান করে আগত সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলে। এ সময় টিম ৩ জন দালালকে অর্থ ও কিছু কাগজপত্রসহ হাতেনাতে ধরে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এনফোর্সমেন্ট টিম বিআরটিএ, নরসিংদীর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে বলে দুদক জানিয়েছে।

‘অপরাধ ও দুর্নীতি’ : আরও খবর

সম্প্রতি