নিরুপায় হয়ে আদালতে মামলা
মাদারীপুরের কালকিনিতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এক পোশাক শ্রমিককে কুপিয়ে জখম ও মালামাল লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মাদারীপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারটি কালকিনি থানা পুলিশকে অবহিত করলেও তারা মামলা নেয়নি। পরে নিরুপায় হয়ে মাদারীপুর আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। এই ঘটনার ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
মামলার নথি ও ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে জানা গেছে, কালকিনি উপজেলার এনায়েতনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা ঢাকার একটি পোশাক তৈরি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ইব্রাহিম সরদারের সঙ্গে তার প্রতিবেশী শিপন মল্লিক ও তার ছেলে সজীব মল্লিকের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। শিপন মল্লিক ইতালী প্রবাসী হওয়ায় তার ছেলে সজীব মল্লিকই জমি নিয়ে বিরোধের নেতৃত্ব দেন। এই বিরোধের জেরে গত সোমবার বিকেলে সজীব মল্লিকের নেতৃত্বে ইউসুফ ফকির ও তার ছেলে সায়মান ফকির দেশীয় অস্ত্র হাতে তাদের ১৫-১৬ জন লোক সঙ্গে নিয়ে ইব্রাহিম সরদারের বাড়িতে এসে তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। এসময় তাদের লোকজন ঘরে প্রবেশ করে ঘরে থাকা ফ্রিজ ভেঙ্গে ফেলে ও আলমারী ভেঙ্গে এক ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ও নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ইব্রাহিম সরদারকে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রতিপক্ষের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সম্পর্ক থাকায় জীবনের নিরাপত্তার অভাবে জেলা সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করানো হয়। এই ঘটনায় ওই দিনই কালকিনি থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে গেলে প্রভাবশালীদের চাপের মুখে থানা পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটি গত ৩০ ডিসেম্বর মাদারীপুর আদালতে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। কিন্তু ঘটনার ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। প্রাণ ভয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটি হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও বাড়ি ফিরে যেতে সাহস পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন।
এই বিষয়ে মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীর স্ত্রী হালিমা বেগম বলেন, আমরা এলাকায় খুবই নিরীহ একটি পরিবার। কিন্তু সজীব মল্লিক ও তার বাবা শিপন মল্লিকের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিন ধরেই জমি-জমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। তাই তারা আমাদেরকে ওই বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে দিতে দীর্ঘদিন ধরেই পায়তারা চালিয়ে আসছেন। সেই উদ্দেশ্যেই আমার স্বামীকে বেধড়ক পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে হত্যার চেষ্টা করে তারা।
এই বিষয়ে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহিরুল আলম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার কালকিনি থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ নিয়ে আসেনি। তারা সরাসরি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। আদালত থেকে নির্দেশনা পেলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।