হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার পূর্বাঞ্চল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে ত্রাসের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে সুমন ও শাহিন বাহিনী। স্থানীয়দের অভিযোগ ডাকাতি, বনাঞ্চলে সশস্ত্র তৎপরতা ও অস্ত্র মহড়াসহ একাধিক মামলার আসামি হয়েও এসব ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এতে রেমা-কালেঙ্গা এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। জানা গেছে, সম্প্রতি রেমা-কালেঙ্গা রিজার্ভ ফরেস্টে বনদস্যু ও বনরক্ষীদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় সুমন মিয়া ও শাহিন মিয়াসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার ও একটি পিস্তল ও কার্তুজ উদ্ধার করলেও মূল আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার এড়াতে সক্ষম হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অভিযোগ রয়েছে উপজেলার পীরপুর গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে সুমন মিয়া ও আব্দুল রহিমের ছেলে শাহিন মিয়া বেশ কিছুদিন ধরে সশস্ত্র গোষ্ঠী তৈরি করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন লাতুরগাঁওয়ের করম আলীর ছেলে আব্দুল খালেক, যিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত আসামিও বলে জানা গেছে। বনাঞ্চলে কাঠচুরি, চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র তৎপরতায় তাদের সংশ্লিষ্টতার কথা স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ১১ ডিসেম্বর রাতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল রেমা-কালেঙ্গা এলাকায় প্রবেশ করলে বনরক্ষীরা বাধা দেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পরবর্তী সময়ে ১৪ ডিসেম্বর চুনারুঘাট থানায় মামলা দায়ের করেন কালেঙ্গা বিট কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল আমিন। এলাকাবাসীর অভিযোগ মূল আসামিরা এখনও এলাকায় ঘোরাফেরা করছে এবং তাদের কাছে অস্ত্র রয়েছে। ফলে নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন বনাঞ্চলসংলগ্ন গ্রামের মানুষ। তারা বলেন, যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তারা যদি গ্রেপ্তার না হয়, তাহলে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ, আসামিদের গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা আশা করছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ নেবে এবং এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করবে।