বিজ্ঞাপন প্রচারের নামে ৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবাল, তার দুই ছেলে, সাবেক সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদী ও বজলুল হক হারুনসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক। মঙ্গলবার দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাগুলো দায়ের করা হয় বলে সংস্থার মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের জানান।
প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবাল, তার দুই ছেলে ও ব্যাংকের পরিচালক মোহাম্মদ ইমরান ইকবাল এবং মঈন ইকবাল, পরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদী, আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুনকে এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে।
পাশাপাশি ব্যাংকের পরিচালক শফিকুর রহমান, জামাল গুপ্ত আহমেদ, শায়লা শেলী খান, চৌধুরী জাফরুল্লাহ শরাফাত, এএইচএম ফেরদৌস ও নব গোপাল বণিক; ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম রিয়াজুল করিম, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ও ক্রয় কমিটির প্রধান সৈয়দ নওশের আলী, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোশফেক আলম খান এবং মাইন্ডটি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইকবাল আল মাহমুদের নাম রয়েছে আসামির তালিকায়।
দুদক বলছে, ২০২০ সালে মাত্র পাঁচটি কার্যাদেশের বিপরীতে ৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। ২০১১ সালের ৪ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত সময়ে এইচবিএম ইকবালের ‘প্রত্যক্ষ নির্দেশনায়’ বিজ্ঞাপন প্রচারের নামে মাইন্ডট্রি লিমিটেডের নামে মোট ৪৩৮ কোটি ৭১ লাখ ২৮ হাজার ৪৪৪ টাকা অগ্রিম জমা দেওয়া হয়। এই অগ্রিম জমা ‘অর্থ আত্মসাতের একটি কৌশল’ ছিল বলে দুদকের ভাষ্য।
অনুসন্ধানের বরাতে দুদক বলছে, ২০১১ সাল থেকে ২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৪২ কোটি ২৯ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪৪ টাকা সমন্বয় দেখানো হলেও ২০২৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত ‘অগ্রিম হিসেবে আত্মসাত’ করা ৯৬ কোটি ৪১ লাখ ৪১ হাজার টাকা এখনো ‘অসমন্বিত’ রয়েছে। এছাড়া ২০২০ সাল থেকে এ পর্যন্ত আরও ৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ ‘মিলেছে’।
মামলায় বলা হয়েছে, প্রতিটি টিভি চ্যানেলে ১০০ মিনিট করে বিজ্ঞাপন প্রচারের চুক্তি থাকলেও বাস্তবে প্রচার করা হয়েছে মাত্র ৫০ মিনিট। সব মিলিয়ে যেখানে ২ হাজার ৪০০ মিনিট টিভিসি প্রচারের কথা ছিল, সেখানে বাস্তবে প্রচার হয়েছে মাত্র ১ হাজার ২০০ মিনিট। অর্থাৎ কাগজে-কলমে পুরো কাজ দেখিয়ে বাস্তবে অর্ধেক কাজ করেই পুরো অর্থ ‘আত্মসাৎ’ করা হয়েছে। ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের বিল, ভাউচার ও পে-অর্ডার পর্যালোচনা করে দুদক দেখতে পেয়েছে, পাঁচটি কার্যাদেশের বিপরীতে মাইন্ডট্রি লিমিটেডকে প্রকৃতপক্ষে দেওয়া হয়েছে মাত্র ১ কোটি ৮ লাখ টাকা। অবশিষ্ট ৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাব ও জাল নথি তৈরি করে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।