ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্তবাসে এক নারীকে রাতভর গণধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত বাসের চালক, হেলপারসহ তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। টাঙ্গাইল চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রুমেলিয়া সিরাজম এর আদালতে তারা জবানবন্দি দেয়।
টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি রুহুল আমিন জানান, গত বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভিকটিম (২৬) ঢাকার সাভার রেডিও কলোনী থেকে আশুলিয়া যাবার জন্য সাভার পরিবহনে উঠেন।
বাসে তখন ২ জন যাত্রী ছিলেন। পরে যাত্রীরা নামার পর এই তরুণীকে জোর করে আটকে রাখে। পরে বাসটি বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করে ওই নারীকে রাতভর গণধর্ষণ করে।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনের করটিয়া ইউনিয়ন আন্ডারপাস এলাকায় মহাসড়কের উপর সন্দেহজনক অবস্থায় দাঁড়ালে হাইওয়ে পুলিশ বাসটিকে আটক করে এবং পরবর্তীতে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার করে এবং বাসের চালক, হেলপারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- বাসের ড্রাইভার আলতাফ (২৫), হেল্পার সাগর (২৪), ড্রাইভারের সহযোগী রাব্বি (২১)। অভিযুক্তদের আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। এরপর ভিকটিম বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। ভিকটিমকে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মেডিকেল টেস্টের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং শুক্রবার, (১৬ জানুয়ারী ২০২৬) বিকেলে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে নেয়া হয়।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. খন্দকার সাদিকুর রহমান জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার সসন্ধ্যায় ভিকটিম আসার পর রাত ১০টার দিকে মেডিকেল টেস্ট করা হয়েছে এবং ভিকটিম হাসপাতালেই ভর্তি আছেন।
টাঙ্গাইল কোর্ট ইন্সপেক্টর সাজ্জাদ হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রুমেলিয়া সিরাজম এর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এরপর তাদেরকে হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।