মসজিদভিত্তিক শিক্ষা প্রকল্প: রাশেদুলদের ৬ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ফিল্ড সুপারভাইজার রাশেদুল ইসলাম ও স্বার্থ সংশ্লিষ্টদের নামে থাকা ৬ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছে আদালত। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার, (১৮ জানুয়ারী ২০২৬) এ আদেশ দেন ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজ।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা উপ-পরিচালক আখতারুল ইসলাম জানান, সংস্থার তরফে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা রাসেল রনি এসব ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ চেয়ে আবেদন করেন। এতে বলা হয়, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের (অষ্টম পর্যায়) সাবেক প্রকল্প পরিচালকের পিএ, ফিল্ড সুপারভাইজার রাশেদুল ইসলাম এবং স্বার্থ সংশ্লিষ্টরা প্রকল্পের ব্যাংক হিসাব থেকে লাখ লাখ টাকা নিজ ব্যাংক হিসাবে সরিয়ে ফেলেছেন বলে অভিযোগ আছে। অনুসন্ধানকালে জানা গেছে, অভিযোগ সংশ্লিষ্টরা তাদের ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ স্থানান্তর বা বেহাত করার চেষ্টা করছেন। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এসব হিসাব অবরুদ্ধ করা জরুরি।

চারজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

দুর্নীতির মামলায় জেমকন গ্রুপের পরিচালক কাজী ইনাম আহমেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। এছাড়া দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চলমান থাকায় ইউনাইটেড গ্রুপের সাবেক চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রাজা এবং চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈন উদ্দিন হাসান রশিদ এবং নেপচুন হাউজিং লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও দেয়া হয়েছে।

দুদকের পৃথক দুই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা উপ-পরিচালক আখতারুর ইসলাম এ তথ্য জানান। ইনাম আহমেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর।

আবেদনে বলা হয়, ‘অবৈধ উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে সঙ্গতিবিহীন ৩২ কোটি ৬৬ লাখ ১৬ হাজার ২৪৪ টাকার সম্পদ অর্জন করে নিজ ভোগদখলে রাখার অপরাধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় ইনাম আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এবং বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা ১৪টি হিসাবে মোট ৭৪ কোটি ৭৮ লাখ ৭৮ হাজার ১২৭ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে হস্তান্তর, স্থানান্তরের ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থপাচারও করেছেন তিনি।’

এ জন্য মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২, এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় শান্তিযোগ্য অপরাধ করায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর ইনামের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তকালে ইনাম অবৈধভাবে অর্জিত সম্পত্তি হস্তান্তর করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও দুদক জেনেছে। আসামি বিদেশে পালিয়ে গেলে তদন্ত কার্যক্রম দীর্ঘায়িত বা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ইনাম আহমেদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে দুদক।

আর হাসান মাহমুদ রাজাসহ তিনজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম। আবেদনে বলা হয়, রাজাসহ অন্যান্য ১২ জনের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে জাল দলিলের মাধ্যমে সরকারি অর্পিত সম্পত্তি দখলসহ অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিদেশে অর্থপাচার এবং ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লি. কে অনিয়মের মাধ্যমে আইপিপি রেটে গ্যাস সরবরাহ সংক্রান্ত অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানে এসেছে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে হাসান মাহমুদ রাজা, মঈন উদ্দিন হাসান রশিদ এবং আবুল কালাম আজাদ বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের জন্য তারা যেন বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন বলে আবেদনে জানিয়েছে দুদক।

‘অপরাধ ও দুর্নীতি’ : আরও খবর

» সুন্দরগঞ্জে দোকানদারকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে তিন মাদ্রাসা ছাত্র গ্রেপ্তার

» সুন্দরবনে মুক্তিপণের দাবিতে ৫ জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যুরা

সম্প্রতি