সুন্দরবনের দস্যুরা আবারও ৫ জেলেকে অপহরণ করেছে। তাদেরকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার গভীর রাতে পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের কালামিয়া এলাকার নদী থেকে একটি ট্রলারসহ পাঁচ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় দস্যুরা। দুর্ধর্ষ বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী এই অপহরণ করেছে বলে জেলেদের মহাজন সূত্রে জানা গেছে।
অপহৃত জেলেরা হলেন- কচি (৪৫), হিরক (৩৫), সালাম (৪০), রবিউল (৩৫) ও মুজাহিদ (২৬)। তাদের বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বাশতলী এলাকায়।
অপহৃত জেলেদের মহাজন ও পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচরের মৎস্য ব্যবসায়ী রামপালের নুরুল হক শেখ রোববার, (১৮ জানুয়ারী ২০২৬) বিকেলে মোবাইলে জানান, গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার ৮ জন জেলে কটকার কালামিয়া এলাকায় মাছ ধরছিলেন। এ সময় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সশস্ত্র দস্যুরা একটি নৌকাযোগে এসে তার জেলেদের মারধর করে ৩ জেলেকে ট্রলার থেকে নামিয়ে অন্য একটি নৌকায় রেখে ট্রলারসহ পাঁচ জেলেকে তুলে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে রেখে যাওয়া জেলেদের কাছে তাদের মোবাইল নম্বর দিয়ে যায়।
এর আগে গত ১০ জানুয়ারি রাতে কটকার কালামিয়া এলাকা থেকে আবু হানিফ (৩২) ও খায়রুল ইসলাম (৩০) এবং ১৫ জানুয়ারী রাতে দুবলার আমবাড়ীয়া এলাকা থেকে আ. কাদের (৩৫) ও রবিউল মোল্লা (৩০) নামে চার জেলেকে অপহরণ করে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী।
এদের মধ্যে কাদের ও রবিউল রোববার সকালে এক লাখ ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে এসেছেন। ফিরে আসা জেলেদের মহাজন পাথরঘাটা উপজেলার পদ্মা স্লুইস এলাকার শহিদ নাজির এ তথ্য জানিয়েছেন।
এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর হাতে ৯ জেলে অপহণের শিকার হন।
অন্যদিকে, গত ১০ জানুয়ারি অপহৃত দুই জেলের মহাজন শেলারচরের মৎস্য ব্যবসায়ী মো. মিজান বহদ্দার জানিয়েছেন, আবু হানিফ ও খায়রুল নামে তার দুই জেলেকে এক সপ্তাহেও মুক্ত করা সম্ভব হয়নি। জিম্মি থাকা জেলেদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তাও জানা যায়নি। তবে দস্যুদের সঙ্গে মুক্তিপণের বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক জেলে ও মহাজন জানান, সুন্দরবনের বর্তমান সময়ের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ ও বড় দস্যুদল হচ্ছে জাহাঙ্গীর বাহিনী। এদের নির্যাতনে জেলেরা মাছ ধরতে যেতে ভয় পাচ্ছেন। অপহরণের পর জেলেদের মারধর ও দ্রুত মুক্তিপণ না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে। এতে সুন্দরবনের জেলেদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এসব জেলে-মহাজনরা আরও জানান, দীর্ঘদিন সুন্দরবনে দস্যুদের কোনো উৎপাত ছিল না। গত এক-দেড় বছরে সুন্দরবনে নতুন নতুন দস্যুদল সৃষ্টি হয়ে বেপরোয়া তা-ব শুরু করেছে। এখন বনে যেতে তাদের চরম ভয়-ভীতি কাজ করছে। দস্যুদমনে কঠোর অভিযান না করা হলে তাদের দৌরাত্ম্য আরও বৃদ্ধি পাবে।
দস্যুদের কাছে জিম্মি থাকা জেলেদের উদ্ধার ও কার্যকর অভিযান পরিচালনার দাবি জানান মৎস্য সংশ্লিষ্টরা।
শরণখোলা রেঞ্জের জেলেপল্লী দুবলার বিশেষ টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় বলেন, সুন্দরবনে বনদস্যুদের দাপটে জেলেরা মাছ ধরতে পারছে না।
দস্যুদের দমন করা না গেলে এ বছর দুবলার রাজস্ব আয়ের ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে।
পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম শেলারচরে ৫ জেলে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কোষ্টগার্ডের সঙ্গে কথা বলে অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।