চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকায় পরকীয়া প্রেমের জেরে এক কসাইকে হত্যার পর তার লাশ টুকরো করে তার বন্ধু বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার,(২৩ জানুয়ারী ২০২৬) দিনভর নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার শহীদনগর ও লোহারপুল এলাকার খাল ও বিভিন্ন স্থান থেকে খুন হওয়া আনিসের লাশের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আমীরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় সুফিয়া নামের ওই নারী, তার ভাই মুছা ও মেয়ে জামাইকে শহীদনগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের একটি দল গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বায়েজিদ বোস্তামী থানার অক্সিজেন মোড়সংলগ্ন শহীদনগর এলাকার দুটি স্থান থেকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির বিচ্ছিন্ন দুটি হাত ও দুটি পা উদ্ধার করে।
পুলিশের ফরেনসিক দল হাতের আঙ্গুলের ছাপ মিলিয়ে তার পরিচয় নিশ্চিত হয়। জানা যায়, ওই হাত-পা আনিস নামে এক ব্যক্তির যার বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায়। তদন্তে জানা যায়, আনিস অক্সিজেন এলাকায় কসাইয়ের কাজ করতেন। গ্রেপ্তার সুফিয়ার বাড়িও রাউজানে। তার তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।
পুলিশ তদন্তে নেমে নগরীর শহীদ নগরের বাসা থেকে সুফিয়াকে আটক করে এবং জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারে। উপ-কমিশনার আমীরুল ইসলাম বলেন, ‘আনুমানিক ৩৫-৪০ বছর বয়সী সুফিয়া ও আনিসের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি তাদের মধ্যে কোনো বিষয় নিয়ে ঝামেলা হয়।’
জিজ্ঞাসাবাদে সুফিয়া পুলিশকে বলেছেন, সম্প্রতি তাকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করছিলেন আনিস। এর জেরে তিনি আনিসকে বাসায় ডেকে এনে ‘মাথায় আঘাত করে হত্যার পর’ শরীরের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন করে শহীদনগর, লোহারপুলসহ বিভিন্ন এলাকায় ফেলে দেন। পুলিশ শুক্রবার বিকেলে লোহারপুল এলাকার একটি খাল থেকে আনিসের মাথার অংশ উদ্ধার করে।
উপ-কমিশনার আমীরুল ইসলাম বলেন, ‘সুফিয়ার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আমরা ওই ব্যক্তির লাশের খ-িত অংশগুলো উদ্ধার করেছি। তার ভাই এ ঘটনার সাথে যুক্ত থাকতে পারে বলে আমাদের সন্দেহ।’ এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
অপরাধ ও দুর্নীতি: মুছাব্বির হত্যা: আরেক ‘শুটার’ গ্রেপ্তার
আন্তর্জাতিক: জেলেনস্কির সমালোচনা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
অপরাধ ও দুর্নীতি: চট্টগ্রামে কসাইকে ‘খুনের পর টুকরো লাশ ছড়িয়ে দেন বন্ধু’