ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ও তার স্ত্রী-সন্তানদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি আসাদুজ্জামান মিয়া ও পরিবারের পাঁচসদস্যসহ তার শ্যালক হাফিজুর রহমান ও শ্যালিকা পারভীন সুলতানার নামে থাকা ২২ কোটি ৬৫ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩০ টাকার সম্পদ জব্দের আদেশও দেয়া হয়েছে।
দুদকের পৃথক দুই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার,(২৫ জানুয়ারী ২০২৬) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা পাওয়া অন্যরা হলেন- আছাদুজ্জামান মিয়ার স্ত্রী আফরোজা জামান এবং দুই ছেলে আসিফ শাহাদাৎ ও আসিফ মাহদিন এবং মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা।
আসাদুজ্জামানের জব্দ হওয়া সম্পদের মধ্যে গুলশানের জোয়ার সাহারায় ১০ কাঠা জমির ওপর ৬ তলা আবাসিক ভবন, ধানমন্ডি ও গুলশানে একটি করে ফ্ল্যাট, পূর্বাচলে জমি, আফতাব নগরে ৬ কাঠা জমি। এছাড়া গাজীপুর, ফরিদপুর ও নারায়ণগঞ্জেও জমি রয়েছে। এসব সম্পত্তির মূল্য দেখানো হয়েছে ২২ কোটি ৬৫ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩০ টাকা।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন এ তথ্য জানান। দুদকের পক্ষে সংস্থার সহকারী পরিচালক আলিয়াজ হোসেন আবেদন দুটি করেন। সম্পদ জব্দের আবেদনে বলা হয়, ‘আছাদুজ্জামান মিয়া ও তার পরিবার এবং অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসংক্রান্ত অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট অনুসন্ধানকারী টিম নিয়োগ করা হয়েছে।
‘অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অবৈধ পন্থায় অর্জিত সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার প্রচেষ্টায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।’ দুদক মনে করছে অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে অবিলম্বে আছাদুজ্জামান মিয়া ও তার পরিবার এবং তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এসব স্থাবর সম্পদ জব্দ করা প্রয়োজন। তাদের স্থাবর সম্পদ জব্দ করা না হলে বিচারকালে তা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে না। এতে রাষ্ট্রের অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর মহাখালী ফ্লাইওভার এলাকা থেকে আছাদুজ্জামান মিয়াকে আটক করে র্যাব। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
আছাদুজ্জামানের সম্পদের তথ্য নিয়ে প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে একটি প্রত্রিকা, পরে আরও কয়েকটি পত্রিকায় আছাদুজ্জামানের ‘বিপুল সম্পদের’ তথ্য তুলে ধরা হয়।
গত চব্বিশের ১৬ জুন ‘মিয়া সাহেবের যত সম্পদ’ শিরোনামে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাড়ির পর বাড়ি। জমি এবং ফ্ল্যাটের সারি। কী নেই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা আছাদুজ্জামান মিয়ার। রীতিমতো গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। তবে শুধু নিজের নামে নয়। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ের নামেও বিপুল সম্পত্তি গড়েছেন ডিএমপির সাবেক এই কমিশনার।’
গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বরাত দিয়ে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘পুলিশের সাবেক এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার স্ত্রীর নামে ঢাকায় একটি বাড়ি ও দুটি ফ্ল্যাট এবং মেয়ের নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে ৬৭ শতক জমি রয়েছে। এই তিন জেলায় তার পরিবারের সদস্যদের নামে রয়েছে আরও ১৬৬ শতক জমি।’ আছাদুজ্জামান মিয়া ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ডিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তাকে জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত সেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেয় সরকার। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়।
শোক ও স্মরন: সাংবাদিক প্রশান্ত ঘোষাল মারা গেছেন
অপরাধ ও দুর্নীতি: অভিনেত্রী ঊর্মিলাসহ তিনজনের সম্পদের হিসাব চায় দুদক
অপরাধ ও দুর্নীতি: স্ত্রী-সন্তানসহ আছাদুজ্জামান মিয়ার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, সম্পদ জব্দ
নগর-মহানগর: আহনাফের মৃত্যুর বিচারটা কইরেন: আদালতকে মা