বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নামে টেলিগ্রামে ভুয়া বিনিয়োগ গ্রুপ পরিচালনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে বিপুল অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা হলেন- রনজিত বসাক রওনক (২৫) ও পলাশ চন্দ্র বসাক (৪০)। সিআইডি জানায়, গত বছরের ৪ আগস্ট ডিএমপির পল্টন থানায় এ সংক্রান্ত একটি মামলা দায়ের হয়। পরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি। তদন্তের এক পর্যায়ে গতকাল সোমবার রাতে ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার, (২৭ জানুয়ারী ২০২৬) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (সিআইডি) জসীম উদ্দিন খান বলেন, এই মামলায় আগে গ্রেপ্তার ও এই চক্রের মূলহোতা ফারদিন আহমেদ ওরফে প্রতীক (২৫) এবং সহযোগী মো. সাগর আহমেদ (২৪) আদালতে স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানকালে গ্রেপ্তার দুই আসামির নাম প্রকাশ করে। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই রনজিত ও পলাশকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে তিনি জানান, প্রতারক চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে টেলিগ্রাম অ্যাপে ‘বিদেশি বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম’ ও অন্যান্য বিভিন্ন আকর্ষণীয় নামে ভুয়া গ্রুপ খুলে অল্প সময়ে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগে প্ররোচিত করতো।
ভিকটিমরা গ্রুপে যুক্ত হলে সেখানে আগে থেকেই যুক্ত কিছু সদস্য বিনিয়োগ করে কীভাবে স্বল্প সময়ে অধিক লাভ করেছে এমন ভুয়া ও সাজানো পোস্ট দিত। প্রকৃতপক্ষে এসব সদস্যই ছিল চক্রের সক্রিয় সহযোগী এবং পোস্টগুলো ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।
সিআইডির এই কর্মকর্তা আরও জানান, এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ প্রলুব্ধ হয়ে গ্রুপের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতো। এসব একাউন্ট অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তৃতীয় ব্যক্তির নামে খোলা ছিল, যাদের অনেকেই প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। পরবর্তীতে প্রতারকরা এসব একাউন্ট ব্যবহার করে অবৈধভাবে টাকা লেনদেন ও আত্মসাৎ করত।
অনেক বিনিয়োগকারী এভাবে সর্বস্ব হারিয়েছে। তদন্তে আরও জানা যায়, প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত টাকা নগদে রূপান্তরের জন্য চক্রটি অভিনব কৌশল ব্যবহার করতো। মূলহোতা ফারদিন আহমেদ বিভিন্ন গাড়ির শোরুম থেকে ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে গাড়ি কিনে স্বল্প সময়ের মধ্যে কম দামে বিক্রি করে কাগজে লোকসান দেখিয়ে নগদ টাকা উত্তোলন করতো। এই পদ্ধতিতেই অবৈধ টাকা ‘ক্যাশ আউট’ করা হতো।
আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, রনজিত বসাক রওনক অবৈধ টেলিগ্রাম গ্রুপের একজন সদস্য ছিল এবং গ্রুপের প্রধান পরিচালকের নির্দেশনায় আর্থিক লেনদেনের কার্যক্রমে যুক্ত ছিল। অন্যদিকে পলাশ চন্দ্র বসাক টেলিগ্রাম গ্রুপের মূলহোতা ‘মিশন’-এর ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করত। সে কমিশন ভিত্তিতে কাজ করত, যার ন্যূনতম দৈনিক পারিশ্রমিক ছিল ১,৫০০ টাকা। গ্রুপের মাধ্যমে লেনদেন ও বিনিয়োগের পরিমাণ বেশি হলে সে অতিরিক্ত কমিশন পেত, যা কোনো কোনো সময় দৈনিক ২০,০০০- ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হতো। সে নিজের নামে নিবন্ধিত একাধিক সিমকার্ড অপরাধমূলক কর্মকা-ে ব্যবহার করতো এবং মূলহোতার সব অবৈধ কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব তার ওপর ন্যস্ত ছিল।