আরেক মামলায় এস আলম ও পি কে হালদারের বিচার শুরু

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

ঋণ আত্মসাতের মামলায় এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ওরফে এস আলম এবং রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের (বর্তমানে আভিভা ফাইন্যান্স লিমিটেড) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত (পিকে) কুমার হালদারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দিয়েছে আদালত। বুধবার, (২৮ জানুয়ারী ২০২৬) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৮ এর বিচারক নূরে আলম ভূঁইয়া এ আদেশ দেন।

এর মধ্য দিয়ে ২৪ কোটি টাকা আত্মসাতের এ মামলায় বিচার কাজ শুরু হলো। আগামি ১ মার্চ সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ, পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ হাসান ও শাহানা ফেরদৌস, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ইভিপি রাশেদুল হক, সাবেক ম্যানেজার নাহিদা রুনাই, সাবেক এসভিপি কাজী আহমেদ জামাল, সাবেক ডেপুটি ম্যানেজার জুমারাতুল বান্না এবং মারিন ভেজিটেবল অয়েলসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির আহমেদ, পরিচালক টিপু সুলতান, মো. ইসহাক এবং মেসার্স সাইফুল অ্যান্ড কোম্পানি সত্ত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফজলুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। আসামিদের মধ্যে নাহিদা রুনাই ও রাশেদুল হক কারাগারে আছেন। বুধবার শুনানিকালে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। অন্য আসামিরা পলাতক। এদিন দুদকের পক্ষে প্রসিকিটর দেলোয়ার জাহার রুমি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন।

রাশেদুল হকের পক্ষে আইনজীবী নিয়াজ মোরশেদ এবং নাহিদা রুনাইয়ের পক্ষে মোহাম্মদ বাবুল বেপারী অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন। অন্য আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের কোনো আইনজীবী ছিলেন না। পরে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেয়। এ সময় দুই আসামি রাশেদুল হক ও নাহিদা রুনাই নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করে।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ৮ আগস্ট নামসর্বস্ব এ এম ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের নামে ২৪ কোটি টাকার মেয়াদি ঋণ অনুমোদন ও বিতরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই টাকা এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডে স্থানান্তর করা হয়। এ ঘটনায় গত বছরের ২ জুলাই দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাঈল মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে ১৩ জনের বিরুদ্ধে গত ১৬ অক্টোবর ইসমাঈল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এর আগে গত সোমবার এক মামলায় এবং মঙ্গলবার আরেক মামলায় এস আলম ও পি কে হালদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সরকার পতনের পর ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিতি এস আলম গ্রুপের নানা অনিয়ম সামনে আসে।

চট্টগ্রামভিত্তিক এ শিল্পগোষ্ঠীর চেয়ারম্যান এস আলমের বিরুদ্ধে ব্যাংক খাতে অনিয়ম, টাকা পাচার, আয়কর ফাঁকির অভিযোগে তদন্ত শুরু করে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা। দুদকও ‘অবৈধ সম্পদ’ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অনুসন্ধানে নামে। ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় এস আলমের বিরুদ্ধে জোরজবরদস্তি করে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার অভিযোগ অনেক পুরনো। পরে তিনি ও তার ব্যবসায়ী গোষ্ঠী শরীয়াহভিত্তিক আরও কয়েকটি ব্যাংকের পর্ষদের নিয়ন্ত্রণ নেন।

এসব ব্যাংক থেকে বিপুল অর্থ নামে ও নাম সর্বস্ব কোম্পানি খুলে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ নিয়ে বিদেশে পাচার করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অন্যদিকে পি কে হালদার নামে-বেনামে পিপলস্ লিজিংসহ নানা আর্থিক প্রতিষ্ঠান খুলে হাজার কোটি টাকা লোপাট করে বিদেশে পালিয়ে যান বলে ২০২০ সালের শুরুতে খবর আসে। এরপর দুদক তদন্তে নেমে পি কে হালদার ও তার সহযোগীদেরœামে ৩৪টি মামলা করে। ২০২২ সালের মে মাসে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তাকে গ্রেপ্তারের খবর আসে। পরের বছরের ৮ অক্টোবর প্রথম মামলায় তার ২২ বছরের কারাদ-ের রায় হয়।

‘অপরাধ ও দুর্নীতি’ : আরও খবর

» মুক্তিপণের জন্য শিশুকে হত্যা: চাচাতো ভাইয়ের যাবজ্জীবন

» কক্সবাজার বিমানবন্দর প্রকল্পে ‘দুর্নীতি’: বেবিচকের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী গ্রেপ্তার

» চাচাকে বাবা বানিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি, জনপ্রশাসনের কামাল কারাগারে

সম্প্রতি