কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পে ‘অনিয়ম ও দুর্নীতির’ অভিযোগে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার, (২৮ জানুয়ারী ২০২৬) ঢাকার সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছেন সংস্থার মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন।
হাবিবুর রহমানকে আদালতে সোপর্দ করে তাকে আটক রাখার আবেদন করেছে দুদক। আবেদনে বলা হয়েছে, কক্সবাজার বিমানবন্দর রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্ত চলাকালে আসামি সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে পারেন, এমন আশঙ্কা রয়েছে। সে কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আসামিকে জামিন দেয়া হলে আলামত নষ্ট ও সাক্ষীদের ওপর প্রভাব বিস্তারের ঝুঁকি রয়েছে। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানায় দুদক।
২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি বেবিচকের সাবেক এই প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মামলাটি করেছে দুদক, সেখানে তার বিরুদ্ধে কক্সবাজার বিমানবন্দরের এই প্রকল্পে ১৫০ কোটি টাকা ‘আত্মসাতের’ অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, কক্সবাজার বিমানবন্দর রানওয়ে সম্প্রসারণসহ মেগা প্রকল্পের কাজে স্থানীয় এজেন্ট হিসেবে ‘অবৈধ’ সুবিধা নিয়ে অ্যারোনেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডকে বেআইনিভাবে কোণ্ডাকন্ট্রাক্টর করা হয়। দুদকের অভিযোগ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকের ‘প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের’ মাধ্যমে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (পিপিআর) ‘লঙ্ঘন করে’ কার্যাদেশ আদায় করা হয়।
সংস্থার তথ্যমতে, প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বেবিচকের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান। তিনি প্রশাসনিক ক্ষমতার ‘অপব্যবহার করে ব্যয় বৃদ্ধি, অনুমোদন প্রক্রিয়ার ব্যত্যয় এবং অর্থ ছাড়সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘন’ করেছেন বলে দুদক অভিযোগ করেছে। দুদকের অভিযোগ, এসব ‘অনিয়মের’ মাধ্যমে নিজেদের পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দিয়ে স্থানীয় এজেন্ট অ্যারোনেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডকে যুক্ত করা হয়েছে। ‘লুটপাটের’ মাধ্যমে প্রকল্প হতে ‘আত্মসাৎ’ করা হয়েছে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা।