জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বদ্যিালয়ের সাময়িক বরখাস্ত প্রভাষক ও মির্জা আজমের এপিএস ইলিয়াস সানীর দুর্নীতি অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। ইলিয়াস সানির দুর্নীতির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের এপিএস ছিলেন তিনি। সে সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার এই অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।
দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদনক্রমে দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় জামালপুর থেকে এই অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, মির্জা আজমের এপিএস হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ইলিয়াস সানি এলাকায় ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেন। তার বিরুদ্ধে সরকারি ত্রাণ প্রকল্প, বিশেষ করে টিআর, জিআর, এডিবি ও কাবিখা কর্মসূচিতে কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সরকারি বরাদ্দ পেতে তাকে নির্দিষ্ট হারে কমিশন দিতে বাধ্য করা হতো। শুধু ত্রাণ প্রকল্প নয়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার তালিকা প্রণয়ন ও বরাদ্দের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টিকারী সমস্যা বহুল আলোচিত সমবায় সমিতির গ্রাহকদের জমাকৃত সাড়ে ৭০০ কোটি টাকা আত্মসাদ! মাদারগঞ্জ উপজেলায় ২৭টি সমবায় সমিতির মাধ্যমে জনগণের বিপুল অর্থ আত্মসাতের ঘটনায়ও ইলিয়াস সানির নাম উঠে এসেছে।
২৭টি সমবায় সমিতির প্রায় ৩০ হাজার গ্রাহকের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় সমিতির মালিকদের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের আন্দোলন দমিয়ে রাখেন তিনি। বিনিময়ে বাগিয়ে নেন মোটা অঙ্কের টাকা।
নানাবিধ উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরেও তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। মাদারগঞ্জ উপজেলায় নির্মিত ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন শেখ হাসিনা সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ও শেখ হাসিনা স্পেশালাইস্ট জুট গবেষণা কেন্দ্র মাটি ভরাট ও সংশ্লিষ্ট কাজ পাইয়ে দেয়ার নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার নামে ও ঘনিষ্ঠদের নামে ফ্ল্যাট, জমি, গাড়িসহ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। ইলিয়াস সানির বিরুদ্ধে শিক্ষা খাতেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে।
জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজে প্রভাষক ও তার স্ত্রী আফসানা আক্তারের সেকশন অফিসার পদে চাকরি, বড় ভাই সাইফুল ইসলাম ও তার স্ত্রী স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে চাকরি বাগিয়ে নেন। ইলিয়াস সানীর পরিবারে ২ ভাই ও ২ ভাইয়ের স্ত্রীরা সরকারি চাকরি করছেন। সানীর মা-বাবা-ভাই-ভাবি মাদারগঞ্জে ২নং কড়ইচড়া ইউনিয়নের মোমেনাবাদ কুমারপাড়া গ্রামের কোটি টাকায় নির্মিত বাড়িতে অবস্থান করছেন। আর ইলিয়াস সানী ৫ আগস্ট স্ত্রীসহ আত্মগোপনে চলে যান।
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সরকারের শাসন আমলে ছাত্র জনতার সংগ্রামে ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ছাত্রদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার অভিযোগে ইলিয়াস সানিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। চাকরিচ্যুত করা হয় তার স্ত্রী আফসানা আক্তার সানীকে। তার বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ইলিয়াস সানি, তার স্ত্রী বা পরিবারে পক্ষে থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় জামালপুরের সহকারী পরিচালক মো. কামরুজ্জামান সংবাদ-কে বলেন, ইলিয়াস সানির দুর্নীতির বিষয়ে প্রকাশিত খবর ও অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইলিয়াস সানির দুর্নীতিসহ তার বিপুল সম্পদ অর্জনের উৎসও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনুসন্ধান শেষে ইলিয়াস সানির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।