নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ইয়াবাসহ আটক আসামিকে ছিনিয়ে নিতে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবির) গাড়িতে হামলা চালানোর ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীসহ একই পরিবারের চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে গত বুধবার রাতে বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার উত্তর হাজীপুর এলাকা থেকে ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তাররা হলেন- বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌর হাজীপুর গ্রামের মৃত শহীদ উল্যাহর পুত্র জহিরুল ইসলাম হৃদয় (২৮), তার ভাই এনামুল হক সজিব (২২), মা আলেয়া বেগম (৪৫) ও স্ত্রী সুইটি আক্তার (২১)। তাদের বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় সরকারি কাজে বাধা প্রদানের একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, গত বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চৌমুহনী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ১৫০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম হৃদয়কে আটক করে জেলা ডিবি পুলিশ । পরে গাড়িতে তোলা হলে তাকে ছিনিয়ে নিতে গ্রেপ্তাররাসহ ১৫-২০ জন অতর্কিতে গাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় ডিবির কনস্টেবল শাহাদাৎ হোসেন ও মঞ্জুরুল ইসলাম আহত হন এবং তাদের রিকুজেশন করা মাইক্রোবাস ভাঙচুর করা হয়। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফ উদ্দিন হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানান, আহত কনস্টেবলদের বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এছাড়া আসামিদের বিরুদ্ধে ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন বাদি হয়ে মাদক এবং পুলিশ আহতের দুটি মামলা দায়ের করেছেন।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সামসুজ্জামান ঘটনার সত্যতা স্বিকার করে বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ আহতের মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নোয়াখালীর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পরিদর্শক (কোর্ট ইন্সপেক্টর) মো. সরওয়ার আলম জানান, পুলিশ আহত ও মাদক মামলার চার আসামিকে আদালতে আনার পর কেউ তাদের জামিনের আবেদন করেনি। তাই পরে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক: যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ইরান ছাড়ার নির্দেশ